Friday, 13 July 2018

কুরআন সুরা-- ২ আল-- বাকারা-- ২২৪ থেকে ২২৮ আয়াত

বিশ্বমানব শিক্ষায় পবিত্র কুরআনের আলো। [সুরা—২ আল- বাকারা- ২২৪ থেকে ২২৮ আয়াত।]
  ২২৪) তোমরা সৎকাজ, আত্মসংযম ও মানুষের মধ্যে শান্তি স্থাপন করবে না বলে আল্লাহ্‌র কাছে শপথ করো না; আল্লাহ্‌ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
   মর্মার্থঃ—এই একটা আয়াতের মধ্যেই মানব জাতিকে আল্লাহ্‌ বা ঈশ্বর পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র ও সারা বিশ্বে শান্তি স্থাপনের শুভ বার্তা দিয়েছেন সৎকাজ ও আত্মসংযম শিক্ষার মাধ্যমে। পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র বা বিশ্বে একটা মানুষ অসৎ কাজ করলে ও সংযমহীন জীবন যাপন করলেও সেই প্রভাব সারা বিশ্বের পরিবেশের উপর গিয়ে পড়ে এবং এর প্রভাবে ধীরে ধীরে এই রোগে সকলেই আক্রান্ত হয়ে যায়। তাই বিশ্বের প্রতিটি মানুষকে সৎকর্মশীল করে গড়ে তুলতে হবে আত্মসংযম শিক্ষা দিয়ে। আল্লাহ্‌ সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ হয়ে মানুষের সাথেই আছেন, তাই প্রত্যেক মানুষ বিশ্ব পরিবারের সদস্য এই জ্ঞান যেন সর্বদা অন্তরে জাগ্রত থাকে।  
  ২২৫) তোমাদের অর্থহীন শপথের জন্য আল্লাহ্‌ তোমাদেরকে দায়ী করবেন না, কিন্তু তিনি তোমাদের অন্তরের সংকল্পের জন্য দায়ী করবেন; আল্লাহ্‌ ক্ষমাশীল, সহিষ্ণু।
  মর্মার্থঃ--- মা সন্তানকে শাসন করার জন্যে অনেক অনেক শপথ নেয়, এসব শপথ অর্থহীন, এগুলোর জন্যে কেউ কাউকে দায়ী করে না, আল্লাহ্‌ও দায়ী করবেন না। কিন্তু যাদের অন্তরে বিষাক্ত শপথ অপরকে ধ্বংস করার  জন্য কাজ করে চলেছে এবং প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য যারা সংকল্প গ্রহণ করেছে, এদেরকে আল্লাহ্‌ নিজের ক্ষমাশীল ও সহিষ্ণু রূপ নিয়ে আত্মসংযমের পথে চলার নির্দেশ দিয়েছেন। যারা পবিত্র কুরআনের আশ্রয়ে জীবন ধারণ করে তাদেরকে মনে রাখতে হবে পবিত্র এই ধর্ম গ্রন্থের আলো সূর্যের আলোর ন্যায় নিরপেক্ষ ও সকলের মঙ্গলের জন্য।
 ২২৬) যারা নিজেদের স্ত্রীর কাছে না যাওয়ার শপথ (কসম) করে, তারা চার মাস অপেক্ষা করবে, অতঃপর তারা যদি মিলে যায়, তবে নিশ্চয় আল্লাহ্‌ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
  মর্মার্থঃ—শ্রদ্ধা- প্রেম- সম্মান- ভালবাসা পেতে হলে নিজেকে সেই সব গুণের আলোতে আলোকিত করে তুলতে হয়। আলোর পাশে কোনদিন অন্ধকার থাকতে পারে না। আলোর সাথে যারা বাস করে তারাও আলো হয়ে যায়। তাই মানুষকে এই আয়াতে উপদেশ দেওয়া হয়েছে নিজের স্ত্রীর দোষ দেখে কেউ যদি তাকে গ্রহণ না করার শপথ নিয়ে থাকে তবে চার মাসের মধ্যে নিজের অন্তরকে জ্ঞানের আলোতে আলোকিত করতে হবে জীবন সত্যের জ্ঞান দিয়ে। জীবন সত্যের জ্ঞান উভয়কেই নেওয়া দরকার। মনে রাখতে হবে মানুষের অন্তরে যে আল্লাহ বাস করেন তিনিই সকলের অভিভাবক, তিনি ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। এই ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু শিক্ষা গুরু যিনি সবার অন্তরে অভিভাবক হয়ে আছেন, তার কাছে শিক্ষা গ্রহণ করলে, তিনি কখনো মানুষকে জাহান্নামগামী করেন না ও পথভ্রষ্ট করেন না।
    ২২৭) আর যদি তালাকই দিতে (বিবাহ বিচ্ছেদ করতে) সংকল্প করে, তবে আল্লাহ্‌ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
   মর্মার্থঃ—আল্লাহ্‌ বা ঈশ্বর অভিভাবক হয়ে সবার অন্তরে বাস করছেন, তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ। তাঁকে ফাঁকি দিয়ে কোন কাজ মানুষ কামনা- বাসনার বশে ও স্বভাব বশে করতে গেলেই সে অশান্তির আগুন ক্রয় করবে এবং সেই আগুনে সারা জীবন জ্বলে পুড়ে মরবে। তাই কাউকে তালাক দেওয়ার সংকল্প করার আগে জীবন সত্যের জ্ঞানের আলোকে নিজের, স্ত্রীর উভয় পরিবারের সদস্যদের ভূত – ভবিষ্যৎ ও বর্তমান বার বার পর্যবেক্ষণ করে নেওয়া একান্ত প্রয়োজন।
২২৮) তালাকপ্রাপ্তা (বর্জিতা) নারীগণ তিন রজঃস্রাব কাল প্রতীক্ষায় থাকবে, ( অর্থাৎ বিবাহ করা থেকে বিরত থাকবে), তারা আল্লাহ্‌ এবং পরকালে বিশ্বাসী হলে তাদের গর্ভাশয়ে আল্লাহ্‌ যা সৃষ্টি করেছেন, তা গোপন রাখা তাদের পক্ষে বৈধ নয়। এবং এই সময়ের মধ্যে তাদের স্বামীদের তাদেরকে পুনরায় স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করার অধিকার আছে, যদি তারা আপোষে মিলেমিশে থাকতে চায়। নারীদের তেমনি ন্যায়সংগত অধিকার আছে, যেমন আছে তাদের উপর পুরুষদের, কিন্তু নারীদের উপর পুরুষদের কিছুটা মর্যাদা আছে। আল্লাহ্‌ মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
   মর্মার্থঃ—আল্লাহ্‌ বা ঈশ্বরের সাথে জীবন বিনিময় করে মানুষ মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় জীবন লাভ করে, তাই তারা সকলেই সুবিবেচক হয়ে সংসার ধর্ম পালন করার জন্যে এবং ভবিষ্যৎ বংশধর এই পৃথিবীতে রেখে যাবার জন্য সুবন্দোবস্ত করে। কেউ যাতে সংসারে পিতৃহীন হয়ে না থাকে তা দেখার দায়িত্ব সকলের উপর বর্তায়, তাই জীবন সত্যকে ঢেকে রেখে কারো মিথ্যাকে আশ্রয় করা উচিত নয়। যার যতটা ন্যায়সঙ্গত অধিকার আছে তা বুঝে নিয়ে শান্তিতে বসবাস করার ব্যবস্থা মানব সমাজে করার জন্যই এই আয়াত।
  জয় বিশ্বমানব শিক্ষা ও পবিত্র কুরআনের আলোর জয়।

No comments:

Post a Comment