বিশ্বমানব শিক্ষায় পবিত্র কুরআনের আলো। [ সুরা—৩ আলে- ইমরান – ৫১ থেকে ৫৫
আয়াত।]
৫১) আল্লাহ্ আমার প্রতিপালক এবং তোমাদের প্রতিপালক সুতরাং তোমরা তাঁর
ইবাদত করবে। এটিই সরল পথ।
মর্মার্থঃ—সবায় মানুষ কিন্তু সবার রূপ বা চেহারা ভিন্ন ভিন্ন। তেমনি সবার
প্রতিপালক বা ঈশ্বর এক হলেও তাঁর নাম- রূপ- গুণ ভিন্ন ভিন্ন। তাঁকে ডাকার বা
উপাসনা করার পথ- মতও ভিন্ন ভিন্ন। সকলেই একই আল্লাহ্র উপাসনা করছে কতভাবে এই
পৃথিবীর বুকে তা মানুষের পক্ষে জানা সম্ভব নয়। কিন্তু মানুষকে জানতে হবে, বুঝতে
হবে নিজের পথ ও মত যেমন ঠিক তেমনি অন্যের পথ ও মত তার কাছে ঠিক। কর্ম-ই হচ্ছে
মানুষের ধর্ম আর সকলেই নিজ নিজ কর্মের মাধ্যমে ধর্ম রক্ষা করে নিজের প্রতিপালকের
পূজা করে চলেছে। এই সহজ সরল পথকে মেনে নিলেই সবায় এক সুরে চলে আসবে, কেউ কারো পথ ও
মতের কাঁটা হয়ে দাঁড়াবে না। মানব জাতিকে এক সুরে আনার জন্যই এখানে এই আয়াত অবতীর্ণ
হয়েছে।
৫২) যখন ঈসা তাদের অবাধ্যতা
উপলব্ধি করল তখন সে বলল, আল্লাহ্র পথে কারা আমার সাহায্যকারী? শিষ্যগণ (
হাওয়ারীগণ) বলল, আমরাই আল্লাহ্র পথে সাহায্যকারী। আমরা আল্লাহ্তে বিশ্বাস করেছি।
আমরা আত্মসমর্পণকারী, তুমি (এ কথার) সাক্ষী থাক।
মর্মার্থঃ—স্বয়ং আল্লাহ্ মানুষ বেশে এসে মানুষের মাঝে যদি নিজের সত্য
পরিচয় দেন তবুও তারা বিশ্বাস করবে না এটাই মানুষের স্বভাব দোষ। অবাধ্যতা দোষে দোষী
মানুষদের জন্যই বিভিন্ন দল- মত- গোষ্ঠীর সৃষ্টি হতে থাকে মানব সমাজে। তাই অবিশ্বাসীদের হাত থেকে বিশ্বাসীদের রক্ষা করার
জন্যই, তাদেরকে পৃথক করা হয় সত্যের দিকে আহ্বান করে। সত্যের
পথে যারা সাহায্যকারী তারাই হল আল্লাহ্র পথের যোদ্ধা বা সৈনিক।
৫৩) হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি যা
অবতীর্ণ করেছ তাতে আমরা বিশ্বাস করেছি এবং আমরা রসূলের অনুসরণ করেছি। সুতরাং
আমাদেরকে সত্য সমর্থকদের তালিকাভুক্ত করে নাও।
মর্মার্থঃ—যারা উদার ও জীবন সত্যকে বিশ্বাস করে তারা নিজের প্রতিপালকের
নিকট আত্মসমর্পণ করে সদায় প্রার্থনা করে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা তোমার প্রেরিত
আলোক বর্তিকাকে বিশ্বাস করি এবং তাকেই অনুসরণ করি। তুমি কৃপা করে আমাদেকে সত্যের
তালিকাভুক্ত করে নাও এবং অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে চলো।
৫৪) তারা শঠতা করল এবং আল্লাহ্ও কৌশল করলেন।
বস্তুত আল্লাহ্ উত্তম কৌশলী।
মর্মার্থঃ—যারা নিজেদেরকে বিশ্বাসী আল্লাহ্র বান্দা বলে পরিচয় দিয়ে শঠতার
আশ্রয়ে জীবন অতিবাহিত করে এবং বুদ্ধিবলে মানুষকে প্রতারিত করে তারা নিজেদেরকে খুব
চালাক ভাবে। এরা জানে না এদের থেকেও চালাক ও উত্তম কৌশলী আছেন, তিনি সবকিছুই
দেখেন, পরিশেষে নিজের কৌশল প্রয়োগ করে সব কিছু কেড়ে নিয়ে তাদের নিঃস্ব করে দেন।
তাই মানুষকে দুদিনের জন্য এই কর্মভূমি ও জ্ঞানপীঠে এসে শঠতার আশ্রয় নিতে হয় না,
প্রলোভনে পড়ে।
৫৫) ( স্মরণ কর) যখন আল্লাহ্
বললেন, হে ঈশা! নিশ্চয় আমি তোমার কাল পূর্ণ করছি এবং আমার কাছে তোমাকে তুলে নিচ্ছি
এবং যারা অবিশ্বাস করেছে তাদের মধ্য থেকে তোমাকে পবিত্র (মুক্ত) করছি। আর তোমার
অনুসারিগণকে কিয়ামত পর্যন্ত অবিশ্বাসীদের উপর জয়ী করে রাখব, অতঃপর আমার কাছে
তোমাদের প্রত্যাবর্তন (ঘটবে)। তারপর যে বিষয়ে তোমাদের মতান্তর ঘটছে তার মীমাংসা
করে দেব।
মর্মার্থঃ--- আল্লাহ্র দেওয়া জ্ঞানের বর্তিকা বা নিদর্শন নিয়ে রসূলগণ একটা
নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আসেন। তারপর যাদেরকে পবিত্র করার করে দিয়ে, তাদের হাতে
দায়িত্ব অর্পণ করে একতা বলয় তৈরি করে দিয়ে ফিরে যান বা তাঁদেরকে আল্লাহ্ নিজের
ঘরে তুলে নেন। আল্লাহ্ প্রেরিত প্রত্যেক রসূল একই উদ্দ্যেশ্য নিয়ে আসেন, মানুষের
রূপ ধরেই। তাই মানুষ তাদের চিনতে পারে না, বিশ্বাস করতে পারে না, তাদের সত্য
বার্তাকে। তাই প্রত্যেক রসূলের ক্ষেত্রেই বিশ্বাসী ও অবিশ্বাসী দুটি দল সৃষ্টি হয়।
বিশ্বাসীরা জয়ী হয়, আর অবিশ্বাসীরা অন্ধকারে হারিয়ে যায়। যেদিন অন্ধকারের অবসান
ঘটবে, দিন- রাত্রি আর কেউ দেখতে পাবে না সেদিন সব মীমাংসা হয়ে যাবে।
জয় বিশ্বমানব শিক্ষা ও পবিত্র কুরআনের আলোর জয়।

No comments:
Post a Comment