বিশ্বমানব শিক্ষায় পবিত্র কুরআনের আলো। [ সুরা—৩ আলে- ইমরান—৬১ থেকে ৬৫
আয়াত।]
৬১) তোমার নিকট জ্ঞান আসার পর যে কেউ এ বিষয়ে (ঈসা সম্পর্কে) তোমার সাথে
তর্ক করে তাকে বল, এস, আমরা আহ্বান করি আমাদের পুত্রগণকে ও তোমাদের পুত্রগণকে,
আমাদের নারীগণকে ও তোমাদের নারীগণকে, আমাদের নিজেদেরকে ও তোমাদের নিজেদেরকে, অতঃপর
আমরা বিনীত আবেদন করি এবং রাখি মিথ্যাবাদীদের প্রতি আল্লাহ্র অভিশাপ।
ভাবার্থঃ—যখন কেউ রসূলের জ্ঞান লাভ করে তখন তার অন্তর আলোয় পূর্ণ হয়ে যায়,
অন্তরের কোথাও অন্ধকার থাকে না। কার সাথে তারা তর্কে- বিতর্কে জড়িত হবে? যারা
তাদের সাথে তর্ক করতে আসে, তারা তো আল্লাহ্ অর্থাৎ নিজ আত্মার আত্মা পরমাত্মার
সাথে যুদ্ধ করতে আসে। তাই এই আয়াতে তর্কে অর্থাৎ ধর্মযুদ্ধে আহ্বান করা হয়েছে
আমাদের আত্মা কর্তৃক সৃষ্ট পুত্রগণকে, তোমাদের আত্মা কর্তৃক সৃষ্ট পুত্রগণকে, যারা
আমাদের ও তোমাদের আত্মার পুত্রগণকে গর্ভে ধারণ করে রেখেছিল সেই নারীগণকে, এবং
আমাদের ও তোমাদের নিজের আত্মাদেরকে, যারা সকলেই সত্যজ্ঞানে জ্ঞানী, তারাই এখানে সত্য নিয়ে বিনীতভাবে আলোচনা করবে এবং অন্তরে
সত্যকে প্রতিষ্ঠা করবে। এই সত্য জানার পরেও যারা মিথ্যাবাদীর অভিনয় করবে তাদের
উপর আল্লাহ্র আভিশাপ বর্ষিত হবে।
৬২) নিশ্চয়ই এটা সত্য কাহিনী আর আল্লাহ্ ছাড়া
অন্য কোন উপাস্য নেই এবং নিশ্চয় আল্লাহ্ পরম প্রতাপশালী, প্রজ্ঞাময়।
ভাবার্থঃ—আত্মার আত্মা পরমাত্মা ছাড়া অন্য কেউ কারো উপাস্য হতে পারে না।
নিজের আত্মার আত্মাকে কে কি নামে ডাকবে ও তাঁর সাথে কোন মধুর আত্মীয়তার সম্পর্ক
গড়ে তুলবে তা আত্মার জাগ্রত মাত্রার উপর নির্ভর করে, কারণ পরমাত্মা পরম প্রতাপশালী
ও প্রজ্ঞাময়। যে যেমনভাবে তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে জেগে উঠবে সে তেমন ভাবেই তাঁকে
দেখতে পাবে।
৬৩) অতঃপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে
নেয় ( অর্থাৎ ঈসা সম্বন্ধে সত্য ঘটনাকে অস্বীকার করে), তবে নিশ্চয় আল্লাহ্
কলহকারীদের সম্বন্ধে সম্যক অবহিত।
ভাবার্থঃ--- নিজ আত্মার সত্যকে জানার পরেও যদি কেউ সত্যত্যাগী হয়ে বিপরীত
দিকে মুখ করে চলে, তাহলে তো পথ চলতে গিয়ে সবায়কে সে ধাক্কা মারবে। যারা নিজে অন্ধ হয়ে অপরকে ধাক্কা মারবে, (যারা সত্যে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে
আছে) আর তাদের সাথে কলহ বাঁধাবে, এই সব কলহকারীদের আল্লাহ্ ভালভাবেই চিনেন।
৬৪) তুমি বল, হে ধর্মগ্রন্থধারীগণ! এস সে কথায় যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে
একই; আমরা আল্লাহ্ ব্যতীত কারও ইবাদত করি না, কোন কিছুকেই তাঁর শরিক করি না এবং
আমাদের কেউ আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কাকেও প্রতিপালক রূপে গ্রহণ করে না। যদি তারা মুখ
ফিরিয়ে নেয় তবে বল, তোমরা সাক্ষী থাক আমরা আত্মসমর্পণকারী।
ভাবার্থঃ—আত্মার আত্মা পরমাত্মার সংবিধান বা ধর্মগ্রন্থ একটাই। আত্মার
উপাস্য একমাত্র পরমাত্মা, সে তাঁর ডাক ছাড়া দ্বিতীয় কারো ডাক যেমন শুনতে পায় না
তেমনি পরমাত্মাও আত্মার ডাক ছাড়া অন্য কারো ডাক শুনতে পান না। আত্মা ও পরমাত্মার
এই সম্পর্ক চিরন্তন। এই সত্যের নিকট আত্মসমর্পণকারীর অন্য কোন উপাস্য থাকতে পারে
না। একমাত্র এই চিরন্তন সত্যের অস্তিত্ব আছে বাকী সব অস্তিত্বহীন, কালের কবলে পড়ে
সব হারিয়ে যায়, কিন্তু আত্মা ও পরমাত্মার সম্পর্ক কালজয়ী। দেহ মন আত্মা যখন সকলের
একই ভাবে আছে তখন সকলের উপাস্য আল্লাহ্ পরমাত্মাও একইভাবে সত্যে স্থির হয়ে আছেন।
৬৫) হে আসমানী গ্রন্থধারীগণ!
ইব্রাহীম সম্বন্ধে কেন তোমরা তর্ক কর, যখন তওরাত ও ইঞ্জিল তারপরে অবতীর্ণ হয়েছিল?
তোমরা কি বুঝ না?
ভাবার্থঃ—যাদের আত্মা ধর্মগ্রন্থের আশ্রয়ে থাকে, তাঁরাই উপলব্ধি করতে পারেন
প্রাচীন ও নবীনের মধ্যে সম্পর্ক। প্রাচীন নবীন হয়ে আসে, আবার কালের কবলে নবীন
প্রাচীন হয়ে যায়, কিন্তু সত্য চিরকাল সত্য হয়েই থাকে। কত ইব্রাহীম আসে আর যায় তা
নিয়ে কেবল তর্ক চলে, তেমনি আত্মা ও পরমাত্মার মিলনে যে সত্যের বর্ষণ হয় তা দিয়ে কত
তওরাত ও ইঞ্জিল পবিত্র রূপ পেয়ে জেগে উঠে তা কেবল প্রেমীরাই দেখে আনন্দে নৃত্য
করে।
জয় বিশ্বমানব শিক্ষা ও পবিত্র কুরআনের আলোর জয়।

No comments:
Post a Comment