বিশ্বমানব শিক্ষায় পবিত্র কুরআনের আলো। [ সুরা—৩ আলে ইমরান – ১ থেকে ৫
আয়াত।]
১) আলিফ লাম মীম;
মর্মার্থঃ—আলিফ লাম মীম, এই শব্দটির মধ্যেই
চরাচর বিশ্বজগতের গুপ্তভাব বিদ্যমান। আলিফ হলেন আদি সৃষ্টি শক্তি , লাম হলেন আদি স্থিতিশক্তি আর
মীম হলেন আদি লয় শক্তি। এই ত্রিশক্তি বলেই চরাচর বিশ্বজগতের জীবনধারার স্রোত
প্রবাহমান। পবিত্র এই সুর আদি, আপন গতিতে জীবনধারার স্রোতকে পবিত্র পথে নিয়ে
চলেছে। যারা এই তত্ত্ব জেনে এই সুরকে অন্তরে গেঁথে নিতে সক্ষম, তারাই পবিত্র
সত্তা।
২)
আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য নেই, তিনি চিরঞ্জীব ও অনাদি।
মর্মার্থঃ—আল্লাহ্ হলেন পবিত্র সত্তা,
তিনি সবার এবং সবায় তাঁর। তিনি চিরঞ্জীব ও অনাদি, তাই তাঁর অধীনের সকলেই চিরঞ্জীব
ও অনাদি। সকলেই তাঁরই উপাসনা করছে জ্ঞানে বা অজ্ঞানে। তাই তিনি ছাড়া অন্য কোন
উপাস্য নেই, এই সত্য জেনে যারা উপাসনা করে তারাই সত্যমুখী অর্থাৎ আল্লাহ্
মুখী সাধক সূর্যমুখী ফুলের ন্যায়।
৩)
তিনি সত্যসহ তোমার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, যা তার পূর্বের কিতাবের সমর্থক।
মর্মার্থঃ—তিনি চিরঞ্জীব ও অনাদি, তাই তাঁর বিধান বা ধর্মগ্রন্থও চিরঞ্জীব
ও অনাদি। মানব জাতির পবিত্র ধারার প্রতি এই চিরঞ্জীব ও অনাদি সত্য মানুষের পূর্ব
স্মৃতিকে জাগ্রত করার জন্যে প্রয়োজন হলেই ঈশ্বর অবতীর্ণ করেন। এই অবতীর্ণ হওয়া
বাক্যগুলি কোনটায় নূতন নয়, প্রত্যেকটায় পূর্বে অবতীর্ণ হওয়া ধর্মগ্রন্থেরই রূপ।
৪)
পূর্বে তিনি মানবজাতির সৎপথ প্রদর্শনের জন্য তওরাত ও ইঞ্জিল অবতীর্ণ করেছেন এবং
তিনি ফোরকান ( ন্যায় অন্যায়ের মীমাংসাকারী রূপে কুরআন) অবতীর্ণ করেছেন। নিশ্চয়
যারা আল্লাহ্র নিদর্শনাবলীকে অমান্য করে তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি। বস্তুত
আল্লাহ্ পরাক্রমশালী, দন্ডবিধায়ক।
মর্মার্থঃ—মানবজাতিকে সৎ পথ দেখানোর
জন্য বহু বহু ধর্মগ্রন্থ ঈশ্বর তাঁর প্রতিনিধিদের মাধ্যমে অবতীর্ণ করেছেন, এখানে
দুটি ধর্মগ্রন্থের নাম দেওয়া হয়েছে উপমা স্বরূপ। ফোরকান শব্দের অর্থ আলো বা জ্যোতি। চোখে জ্যোতিঃ বা আলো না
থাকলে যেমন কেউ জগতের কোন কিছুই দেখতে পায় না তেমনি ধর্মগ্রন্থগুলি হলো মানুষের
অন্তর ও বাইরের জগতের চক্ষু স্বরূপ সত্যকে বিভিন্ন ভাবে তুলে ধরে দেখানোর
জন্য। মানুষ অন্ধ হয়ে ন্যায় অন্যায়ের
মীমাংসা করবে কি ভাবে? তাই ধর্মগ্রন্থকে অবজ্ঞা করে মানুষ নিজের অন্ধত্ব নিয়ে
নিজেই অন্যায়কারী হয়ে উঠে। আল্লাহ্ পরাক্রমশালী, দণ্ডবিধায়ক তাঁর সামনে মানুষ
অন্ধ হয়ে কিভাবে দাঁড়াবে? তাই সত্যত্যাগী মানুষেরা নিজেদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা
নিজেরাই করে ধর্মগ্রন্থগুলিকে অমান্য করে।
৫) নিশ্চয় আল্লাহ্র কাছে দ্যুলোক ভূলোকের কোন
কিছুই গোপন নেই।
মর্মার্থঃ--- মানুষ যত নিজের চরিত্রকে
গোপন করে অপরকে প্রতারিত করবে ততই সে আল্লাহ্র দরবারে অপরাধী হতেই থাকবে। আল্লাহ্র
কাছে দ্যুলোক ভূলোকের কোন কিছুই গোপন নেই, তাই মানুষ তাঁর নিকট থেকে সমস্ত সত্যই জানতে
পারে। কিন্তু কিভাবে তাঁর নিকট থেকে সত্য জানবে? তিনি মানুষকে ডাক দিয়ে চলেছেন
তাঁর দিকে অর্থাৎ সত্যের দিকে। এখন যদি মানুষ তাঁর ডাক না শুনে সে নিজের দিকে
অর্থাৎ মিথ্যার দিকে তাঁকে ডাকে তাহলে কি তিনি আসবেন, না সাড়া দিবেন, না তার সাথে সত্য নিয়ে আলোচনা করবেন? তাই
মানুষকে গভীরভাবে চিন্তা করে দেখতে হবে আল্লাহ্কে নিজের দিকে ডাকা ঠিক হচ্ছে কিনা —এটা তো তাঁর ডাকে সাড়া দেওয়ার
বিরুদ্ধে কাজ হচ্ছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে তাঁকে ডাকা হচ্ছে।
জয় বিশ্বমানব শিক্ষা ও পবিত্র কুরআনের জয়।

No comments:
Post a Comment