বিশ্বমানব শিক্ষায় পবিত্র
কুরআনের আলো। [ সুরা—২ আল-বাকারা—২৬৯ থেকে ২৭৩ আয়াত।]
২৬৯) তিনি
যাকে ইচ্ছা প্রজ্ঞা দান করেন, এবং যাকে প্রজ্ঞা প্রদান করা হয় তাকে নিশ্চয় প্রভূত
কল্যাণ দান করা হয়, বস্তুত শুধু জ্ঞানীরাই উপদেশ গ্রহণ করে থাকে।
মর্মার্থঃ—আল্লাহ্ বা ঈশ্বরের দরবারে গিয়ে রাজাও ধন- মান- যশ- পুত্র কামনা
করে, সাধারণ মানুষের তো সেই চাহিদা থাকতেই পারে। প্রজ্ঞা চাওয়ার মতো মনের মানুষ
খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। তাই তিনি যাকে উপযুক্ত মনে করেন তাকেই প্রজ্ঞা দান করেন এবং
তাঁর অবতীর্ণ আয়াত উপলব্ধি করার জ্ঞানও দান করেন। যাকে তিনি প্রজ্ঞা দান করেন, তার
প্রতি তিনি প্রভূত কল্যাণও বর্ষণ করেন। এইসব উপদেশ কেবল যারা জ্ঞানী- গুণী মানুষ,
তারাই গ্রহণ করেন ও মেনে চলেন।
২৭০) যা তোমরা দান কর অথবা যা কিছু তোমরা মানত
কর, আল্লাহ্ তা অবশ্যই জানেন। আর অত্যাচারীদের কোন সাহায্যকারী নেই।
মর্মার্থঃ—প্রজ্ঞাবান লোক জ্ঞান দান করে
মানুষের স্বভাবের পরিবর্তন ঘটিয়ে তাকে অভাবমুক্ত করে শান্তির পরিমণ্ডলে নিয়ে যেতে
সক্ষম। জ্ঞানের দ্বারা ধন লাভ করা যায় কিন্তু ধন দিয়ে প্রজ্ঞা বা জ্ঞান লাভ করা
যায় না। অত্যাচারীদের কোন সাহায্যকারী নেই কিন্তু প্রজ্ঞাবান লোকদের সান্নিধ্যে
এরা এলে এদের স্বভাবের পরিবর্তন ঘটতে পারে। কারণ পাপীর সংসর্গে যেমন দিন দিন পাপের
বৃদ্ধি ঘটে তেমনি পুণ্যবানের সাথে সংসর্গ করলে মানুষের পুণ্যের সংহতি ঘটে এবং
স্বভাবের পরিবর্তন ঘটতে থাকে। আর যদি অত্যাচারী স্বভাবের পরিবর্তন না ঘটে তাহলে
এদের কোন সাহায্যকারী খুঁজে পাওয়া যাবে না বিপদকালে।
২৭১)
তোমরা যদি প্রকাশ্যে দান কর, তবে তা ভাল, আর যদি তা গোপন কর এবং অভাবগ্রস্থকে দাও,
তবে তা তোমাদের জন্য আরও ভাল; এবং এতে তিনি তোমাদের কিছু কিছু পাপ মোচন করবেন,
বস্তুত তোমরা যা কর আল্লাহ্ তা অবহিত।
মর্মার্থঃ—অভাবগ্রস্থকে দান করে তার স্বভাবের
পরিবর্তন করতে হবে, নচেৎ সে সারা জীবন অভাবগ্রস্থ অবস্থায় থেকে অলসতায় থেকে সুন্দর
মানব জীবনটাকে কুৎসিত করে ফেলবে। প্রকাশ্যে দান করেই হোক আর গোপনে দান করেই হোক,
দানের লক্ষ্য থাকবে তাকে সৎকর্মশীল মানুষ রূপে গড়ে তোলা। সৎ পাত্রে দান করতে না পারলে সেই দান বৃথা হয়ে
যায়। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে দান করতেই হয়, তাৎক্ষণিক প্রাণ- মান রক্ষার্থে।
আল্লাহ্ সব কিছুই দেখেন ও তিনি সব ব্যাপারেই অবহিত। তাই যে দানী সে স্বভাব গুণেই
দান করতেই থাকবে আর যে ভিখারী সে স্বভাব গুণেই ভিক্ষা করতেই থাকবে।
২৭২) তাদের সৎপথ গ্রহণের দায় তোমার নয়, বরং
আল্লাহ্ যাকে ইচ্ছা সৎপথে পরিচালিত করেন, আর তোমরা যা কিছু ব্যয় কর, তা তোমাদের
নিজেদের জন্য, তোমরাতো আল্লাহ্র সন্তুষ্টির জন্যই তা ব্যয় কর, আর যা কিছু তোমরা
দান কর, তার পুরষ্কার পূর্ণভাবে প্রদান করা হবে, তোমাদের প্রতি অন্যায় করা হবে না।
মর্মার্থঃ—কেউ কাউকে ইচ্ছা করলেই সৎ পথে
পরিচালিত করতে পারে না। যতক্ষণ পর্যন্ত মানুষ আল্লাহ্ বা ঈশ্বরের কাছে নিজেকে
সমর্পণ না করবে ততক্ষণ পর্যন্ত কেউ সৎ পথের নিদর্শন পাবে না। তিনিই একমাত্র যাকে
ইচ্ছা সৎপথে পরিচালিত করেন। কিন্তু কাকে তিনি এই পথের পথিক করবেন? যারা তাঁর পথে
নিজের ধন-প্রাণ উৎসর্গ করবে তারাই তো পুরষ্কার পেতে পারে, তাছাড়া কি কেউ তা আশা
করতে পারে? মানুষ নিজের স্বভাব দোষে অসৎ পথে যায় এই স্বভাব তো কেউ তার অন্তরে
প্রবেশ করে পরিবর্তন করতে পারবে না, তাই মানুষকে নিজের স্বভাবের পরিবর্তন
নিজেকেই চেষ্টা -সাধনার দ্বারা করতে হয়।
২৭৩) (দান) অভাবগ্রস্থ লোকদের প্রাপ্য। যারা
আল্লাহ্র পথে এমনভাবে ব্যাপৃত যে, জীবিকার সন্ধানে ঘোরাফেরা করতে পারে না, কিছু
চায় না বলে অবিবেচক লোকেরা তাদেরকে অভাবমুক্ত মনে করে। তুমি তাদের লক্ষণ চিনতে
পারবে। তারা লোকের কাছে নাছোড় হয়ে যাচঞা করে না। তোমরা যা কিছু দান কর, আল্লাহ্
তা সবিশেষ অবহিত।
মর্মার্থঃ—যে কোন দান অভাবগ্রস্থ লোকদের
প্রাপ্য। যারা স্বভাবে ধনী- মানী তারা কখনো নিজেদের অভাবের কথা প্রকাশ্যে জানায়
না। তাই মানুষ এই সব শ্রেণির মানুষকে চিনতে পারে না। এই সব প্রজ্ঞাবান লোক এমন
কাজে লিপ্ত থাকে যে তারা আল্লাহ্র অতি প্রিয়, কিন্তু কখনো তার কাছেও নিজের অভাবের
কথা জানায় না। কিন্তু আল্লাহ্ সবই জানেন, এ জগতে তাঁর সম্পদ কে কিভাবে ব্যয় করছে
সে সম্বন্ধে।
জয় বিশ্বমানব শিক্ষা ও পবিত্র কুরআনের জয়।

No comments:
Post a Comment