বিশ্বমানব
শিক্ষায় পবিত্র কুরআনের আলো। [ সুরা—৫ মায়িদাহ—৯৬ থেকে ১০০ আয়াত।]
৯৬) তোমাদের প্রতি সমুদ্রের শিকার ও তার
ভক্ষণ বৈধ করা হয়েছে তোমাদের ও পর্যটকদের ভোগের জন্য এবং তোমরা যতক্ষণ ইহরামে
থাকবে ততক্ষণ স্থলের শিকার তোমাদের জন্য অবৈধ। আর তোমরা আল্লাহ্কে ভয় কর, যার
নিকট তোমাদেরকে একত্র করা হবে।
মর্মার্থঃ—আল্লাহ্কে ভয় করে
পবিত্র জীবন যাপন কর, কারণ পবিত্র মানুষের সাথেই তোমাদের মিলিত করে একত্র করা হবে।
তীর্থ যাত্রাকালে যা অবৈধ খাদ্য তা ভক্ষণ করবে না, দেহ- মনকে পবিত্র করে ধরে রাখার
জন্য যেটুকু পবিত্র খাদ্য খেয়ে সুস্থভাবে বেঁচে থাকা যায় তার অতিরিক্ত কিছুই গ্রহণ
করবে না। মন ও চিত্তকে স্থির রেখে ঘরে বাইরে সৎ কর্মে লিপ্ত থাকবে।
৯৭) আল্লাহ্
পবিত্র কাবাগৃহ, পবিত্র মাস, কুরবানীর জন্য কাবায় প্রেরিত পশু ও গলায় মাল্য পরিহিত
পশুকে মানুষের কল্যাণের জন্য নির্ধারিত করেছেন, এটি এ জন্য যে, তোমরা যেন জানতে
পার, যা কিছু আকাশে ও পৃথিবীতে আছে নিশ্চয়ই তা আল্লাহ্ জানেন এবং আল্লাহ্
সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ।
মর্মার্থঃ—আকাশ ও পৃথিবীতে
যা কিছু আছে আল্লাহ্ তাদের সম্পর্কে বিশেষভাবে অবহিত, তিনি সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ। এই
পৃথিবীর সমস্ত পশুই নিজের জীবন আল্লাহ্র চরণে উৎসর্গ করে তার কৃপা লাভ করার জন্যই
অপেক্ষায় রয়েছে। তাই মানুষ লোভ বশতঃ তাদেরকে হত্যা করলে নিজের পাপে নিজেই জড়িত হয়ে
পড়বে। তাই মানুষকে নিজের বিবেক দ্বারা বিচার করে আল্লাহ্র সান্নিধ্যে সদায় থাকার
ব্যবস্থা নিজেকেই করতে হবে।
৯৮) তোমরা জেনে
রাখ, নিশ্চয় আল্লাহ্ শাস্তিদানে কঠোর এবং নিশ্চয়ই আল্লাহ্ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
মর্মার্থঃ—আল্লাহ্
ক্ষমাশীল, পরমদয়ালু আবার শাস্তিদানে কঠোর। তাই জেনে রাখো তিনি কোন জীবকেই নিজের আনন্দের জন্য কষ্ট দিতে চান না। তোমাদের
জীবনকে কেউ পশুর ন্যায় হত্যা করলে যেমন তোমাদের আত্মীয় স্বজন সকলের কষ্ট হয় তেমনি তাদেরও কষ্ট হয়, এই জ্ঞান না থাকলে কি কেউ আল্লাহ্র জন্য নিজের জীবন
উৎসর্গ করতে পারে? আল্লাহ্ নিষ্ঠুরকে ক্ষমা করেন না।
৯৯) প্রচার করা ছাড়া রসূলের অন্য কোন কর্তব্য
নেই। আর তোমরা যা প্রকাশ কর ও গোপন রাখ আল্লাহ্ তা জানেন।
মর্মার্থঃ—রসূল হলেন আল্লাহ্র
আলোর বর্তিকা। সূর্যের যেমন আলো দান করা ছাড়া কোন কর্তব্য নেই, তেমনি রসূলদের
সত্যের প্রচার করা ছাড়া অন্য কোন কর্তব্য নেই। তোমরা যা প্রকাশ কর ও গোপন রাখ
আল্লাহ্ তা ভালভাবেই জানেন।
১০০) বল, ( হে
মুহাম্মদ) ভাল ও মন্দ এক নয়, যদিও মন্দের প্রাচুর্য তোমাকে চমৎকৃত করে। সুতরাং হে
বোধশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গ! তোমরা আল্লাহ্কে ভয় কর যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।
মর্মার্থঃ—মানুষ মন্দের চাকচিক্যতা দেখে তার
পিছনেই ধাবিত হয় এবং তা করতে গিয়ে ভাল ও মধ্যের মধ্যে তফাৎ জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।
সত্য ও মিথ্যার মধ্যে তফাৎ বের করার ক্ষমতা অধিকাংশ মানুষের নেই, যদি থাকতো তবে
মানুষকে এত বিচলিত হতে দেখা যেত না কর্মক্ষেত্রে ও ধর্মক্ষেত্রে। যারা
বোধশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তি তারাই আল্লাহ্কে নিজের অভিভাবক মান্য করে তাঁকেই ভয় করে
নিজের অন্তর্জগৎ ও বহির্জগৎ ন্যায় ও সত্য দ্বারা শাসিত রাখে এবং নিজের ঘরে মন্দ ও
মিথ্যাকে প্রবেশ করতে দেয় না।
জয় বিশ্বমানব শিক্ষা ও পবিত্র কুরআনের আলোর
জয়।


No comments:
Post a Comment