বিশ্বমানব শিক্ষায় পবিত্র কুরআনের আলো। [ সুরা—৬ আন’আম—৮৬
থেকে ৯০ আয়াত।]
৮৬) আরও সৎপথে
পরিচালিত করেছিলাম ইসমাইল, ইয়াসা’, ইউসুফ ও লুতকে; এবং প্রত্যেককে বিশ্ব জগতের উপর
শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছিলাম।
মর্মার্থঃ—বিশ্বজগতের
প্রতিপালকের অধীনে বিশ্বমানব শিক্ষার কর্মী হয়ে যারা সৎ কাজ করছেন, তাঁরাই বিশ্ব জগতের উপর
শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করে আসছেন চিরকাল। সংকীর্ণ চিত্ত নিয়ে কেউ তাঁর সান্নিধ্য লাভ করতে
পারে না।
৮৭) এবং এদের পিতৃ পুরুষ বংশধর এবং ভ্রাতৃবৃন্দের
কতককে শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করেছিলাম, তাদের মনোনীত করেছিলাম এবং সরল পথে পরিচালিত
করেছিলাম।
মর্মার্থঃ—যারাই
উদার হয়ে আল্লাহ্র সান্নিধ্যলাভ করে তাদের চৌদ্দ পুরুষ উদ্ধার হয়, সেইসাথে তাদের
উত্তরপুরুষ সৎ পথের সন্ধান লাভ করে এবং তাদেরকে আল্লাহ্ সরল পথে পরিচালিত করেন।
৮৮) এটা
আল্লাহ্র পথ, নিজের বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা তিনি এর দ্বারা সৎপথে পরিচালিত
করেন, তারা যদি শরিক স্থাপন করত, কবে তাদের কৃতকর্ম নিষ্ফল হত।
মর্মার্থঃ—এক
আল্লাহ্ ছাড়া কেউ যদি অন্যের উপাসক হয় তবে তো সে বিশ্বের সকল সৃষ্টিকে আপন করে
ভালবাসতে পারবে না। এর ফলে তাদের কৃতকর্মের সব ফল নিষ্ফল হয়ে যাবে।
৮৯) এদেরকেই
কিতাব, কর্তৃত্ব ও নবুওত প্রদান করেছি, অতঃপর যদি এরা এগুলোকে প্রত্যাখ্যানও করে
তবে, আমি তো এমন এক সম্প্রদায়ের প্রতি এগুলোর ভার অর্পণ করেছি যারা তা
প্রত্যাখ্যান করবে না।
মর্মার্থঃ—মানব
জাতিকে আল্লাহ্ ধর্মজ্ঞান, কর্তৃত্ব করার অধিকার সবকিছুই প্রদান করেছেন। এখন
এগুলো পেয়েও যারা তা প্রত্যাখ্যান করবে তারা তো সত্য প্রত্যাখ্যানকারীদের দলভুক্ত
হবে। আল্লাহ্ সদায় তাঁর দেওয়া দানকে রক্ষা করেন জ্ঞানী সম্প্রদায়ের হাতে অর্পণ
করে। তাই কুরআনের রক্ষার ভার জ্ঞানীদের হাতেই অর্পিত হয়ে আসছে।
৯০) এদেরই
আল্লাহ্ সৎপথে পরিচালিত করেছেন, সুতরাং তুমি তাদের পথের অনুসরণ কর। বল, এর জন্য
আমি তোমাদের নিকট পারিশ্রমিক চাই না, এ তো শুধু বিশ্ব জগতের জন্য উপদেশ।
মর্মার্থঃ—যারা
বিশ্বজগতের প্রতিপালকের অধীনে বিশ্বমানব শিক্ষার কর্মী হয়ে সৎ পথ ধরে এগিয়ে চলে
তারা কোন প্রকার পারিশ্রমিক দাবী করে না কারও কাছে। যা বিশ্ব জগতের জন্য উপদেশ তা
কেবল প্রচার করাতেই তাদের আনন্দ।
জয় বিশ্বমানব
শিক্ষা ও পবিত্র কুরআনের আলোর জয়।
No comments:
Post a Comment