বিশ্বমানব শিক্ষায় পবিত্র কুরআনের আলো। [
সুরা—৬ আন’আম—১৪১ থেকে ১৪৫ আয়াত।]
১৪১) এবং তিনিই লতা ও বৃক্ষ উদ্যানসমূহ সৃষ্টি করেছেন এবং খেজুর বৃক্ষ,
বিভিন্ন স্বাদবিশিষ্ট খাদ্যশস্য, যয়তুন ও দাড়িম্ব সৃষ্টি করেছেন এগুলো একে অন্যের
সদৃশ্য এবং বিসদৃশও। কারণ তিনি অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না।
মর্মার্থঃ—এই পৃথিবীর বুকে বিশাল ভোজনালয় সৃষ্টি করেছেন সবার জন্য তিনি,
কেউ এই সব খাদ্য অপচয় করুক নিশ্চয় তিনি অভিভাবক হয়ে এটা চাইবেন না। সঞ্চয় করা আর
অপচয় করা দুটোই তাঁর কাছে সমান। তাই তিনি অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না। কি নাই তাঁর ভাণ্ডারে?
১৪২) আর গবাদি পশুর মধ্যে কিছু ভারবাহী ও কিছু ক্ষুদ্রাকার পশু রয়েছে।
আল্লাহ্ যা জীবিকারূপে তোমাদেরকে দিয়েছেন তা আহার কর এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ
করো না’ নিশ্চয়, সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু;
মর্মার্থঃ—আল্লাহ্ সবার জন্যই পবিত্র জীবন জীবিকার ব্যবস্থা করে রেখেছেন
বিভিন্ন দিক দিয়ে। কেবল বুদ্ধিবলে মানুষকে সেই পবিত্র জীবিকার পথ খুঁজে নিতে হবে।
এই জীবিকার পথ খুঁজতে গিয়ে যারা শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে শয়তানী বুদ্ধির আশ্রয়ে গিয়ে
জীবন- জীবিকার পথে যাবে, তারাই হবে শয়তানের বন্ধু, তারা কিছুতেই বুঝতে পারবে না যে
শয়তান তাদের প্রকাশ্য শত্রু।
১৪৩) এ পশুগুলো আট প্রকার, মেষ হতে দুটি ও ছাগল হতে দুটি। বল, নর দুটি
কিংবা মাদি দুটিই কি তিনি নিষিদ্ধ করেছেন অথবা মাদি দুটির গর্ভে যা আছে তা? যদি
তোমরা সত্যবাদী হও তবে প্রমাণসহ আমাকে জানাও।
মর্মার্থঃ—মাটি, জল, তেজ, বায়ু, আকাশ, মন, বুদ্ধি ও অহংকার এই আট প্রকার
গুণের সমন্বয়ে সমস্ত জীবের জন্ম। যারা এই আট গুনের ঊর্ধ্বে উঠে নিজেকে জানার
চেষ্টা করে না, তারাই এই পৃথিবীর মাটিতে পশু নামে পরিচিত পায়। এরা সবায় গর্ভজাত।
১৪৪) এবং উট হতে দুটি ও হতে দুটি। বল, নর দুটি কিংবা মাদি দুটিই কি তিনি
নিষিদ্ধ করেছেন অথবা মাদি দুটির গর্ভে যা আছে তা? এবং আল্লাহ্ যখন এ সব নির্দেশ
দান করেন তখন কি তোমরা উপস্থিত ছিলে? সুতরাং যে ব্যক্তি অজ্ঞানতাবশত- মানুষকে বিভ্রান্ত
করার জন্য আল্লাহ্ সম্বন্ধে মিথ্যা রচনা করে তার চেয়ে বড় যালিম আর কে? নিশ্চয়
আল্লাহ্ সীমালংঘনকারী সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালিত করেন না।।
মর্মার্থঃ—আল্লাহ্ সীমালংঘনকারী সম্প্রদায়কে
সৎপথে পরিচালিত করেন না, আর সৎ পথে থেকে সত্যকে নিয়ে গবেষণা করেই সত্যকে জানতে হয়।
আর না জেনে মিথ্যা কথা যারা রচনা করায় সিদ্ধহস্ত তাদের থেকে বড় যালিম কেউ থাকতে
পারে না।
১৪৫) বল, আমার প্রতি যে প্রত্যাদেশ হয়েছে তাতে, লোকে যা আহার করে তার মধ্যে
মড়া, রহমান রক্ত, শূকরের মাংস ব্যতীত আমি কিছুই নিষিদ্ধ পাই না। কেননা এ সব অপবিত্র
অথবা যা অবৈধ , আল্লাহ্ ছাড়া অন্যের নাম
নেওয়ার কারণে, তবে কেউ অবাধ্য না হয়ে এবং সীমালংঘন না করে তা গ্রহণে বাধ্য হলে
তোমার প্রতিপালক অবশ্যই ক্ষমাশীল, পরমদয়ালু।
মর্মার্থঃ—আল্লাহ্ ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু, তাঁকে জেনে ও বিশ্বাস করে সেই
পথেই মানুষের এগিয়ে যাওয়া উচিত। পবিত্র খাদ্য খাওয়ার উপর মানুষের মনের পবিত্রতা বজায় থাকে।
জয় বিশ্বমানব শিক্ষা ও পবিত্র কুরআনের আলোর জয়।
No comments:
Post a Comment