Sunday, 23 September 2018

কুরআন সুরা--৬ আন'আম --১১১ থেকে ১১৫ আয়াত

    বিশ্বমানব শিক্ষায় পবিত্র কুরআনের আলো। [ সুরা—৬ আন’আম—১১১ থেকে ১১৫ আয়াত।]
   ১১১) (আল্লাহ্‌) তাদের নিকট ফিরিশতা প্রেরণ করলেও এবং মৃতেরা তাদের সাথে কথা বললেও এবং সকল বস্তুকে তাদের সম্মুখে হাজির করলেও, যদি না আল্লাহ্‌ অন্য রকম ইচ্ছা করেন তাহলে তারা বিশ্বাস করবে না, কিন্তু তাদের অধিকাংশই অজ্ঞ।
     মর্মার্থঃ—অজ্ঞরা নিজেদের অজ্ঞতা থেকে বেড়িয়ে আসতে সক্ষম হয় না, যদি না তাদের প্রতি আল্লাহ্‌র বা তাদের প্রতিপালকের কৃপা বর্ষিত হয়। অজ্ঞদের সামনে ফিরিশতারা এলেও তারা তাদেরকে চিনতে পারবে না, কারণ তাদেরকে চেনার জন্য যে জ্ঞানচক্ষু দরকার তা তাদের নেই। তেমনি তাদের সামনে মৃতরা জীবিত হয়ে কথা বললেও তারা তাদের নিজের অন্তরের প্রতিপালককে বিশ্বাস করতে পারবে না।     
        ১১২) এরূপে মানব ও জিনের মধ্যে শয়তানকে প্রত্যেক নবীর শত্রু করেছি, প্রতারণার উদ্দেশ্যে তাদের একে অন্যকে চমকপ্রদ বাক্য দ্বারা প্ররোচিত করে; যদি তোমার প্রতিপালক ইচ্ছা করতেন তবে তারা এটা করত না, সুতরাং তুমি তাদেরকে এবং তাদের মিথ্যা রচনাকে পরিত্যাগ কর।
          মর্মার্থঃ—বিশ্ব জুড়ে শয়তানের খেলা চলছে প্রকৃত সৎ মানুষকে বেছে তুলে নেওয়ার জন্য। আল্লাহ্‌র এই খেলা কেউ উপলব্ধি করতে পারে, কেউ পারে না।
     ১১৩) আর তারা এ উদ্দেশ্যে প্ররোচিত করে যে, যারা পরকালে বিশ্বাস করে না, তাদের মন যেন ওর (শয়তানের) প্রতি অনুরাগী হয় এবং ওতে যেন তারা পরিতুষ্ট হয়, আর তারা যা করে তাতে যেন তারা লিপ্ত থাকতে পারে।
        মর্মার্থঃ—যারা পরকালে বিশ্বাস করে না তারা ইহকালের সুখ –সম্পদে ডুবে থেকে জীবন সত্যকে ভুলে থাকে। শয়তানের কাজই হলো ইহকালের সম্পদ, যা আবর্জনা স্বরূপ তা দিয়ে মানব জীবনের সত্যকে ঢেকে দেওয়া।
       ১১৪) (বল) তবে কি আমি আল্লাহ্‌ ব্যতীত অন্যকে সালিশ মানব? যদিও তিনিই তোমাদের প্রতি সুস্পষ্ট কিতাব অবতীর্ণ করেছেন। যাদের কিতাব দিয়েছি তারা জানে যে, তা (কুরআন) তোমার প্রতিপালকের নিকট হতে সত্যসহ অবতীর্ণ হয়েছে। সুতরাং, তুমি সন্দিহানদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।
      মর্মার্থঃ—কুরআন হলো জীবন জ্যোতিস্বরূপ। অতএব একে যারা সন্দেহ করে তারা সন্দেহভাজন লোকের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়।
    ১১৫) সত্য এবং ন্যায়ের দিক দিয়ে তোমার প্রতিপালকের বাণী সম্পূর্ণ এবং তাঁর বাক্য পরিবর্তন করার কেউ নেই, তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
     মর্মার্থঃ—আল্লাহ্‌ সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ হয়ে মানব জাতির জীবন জিজ্ঞাসাকে অবতীর্ণ করেন কুরআনে, তাঁর আলোক বর্তিকার বা অহির মাধ্যমে।
     জয় বিশ্বমানব শিক্ষা ও পবিত্র কুরআনের জয়।

No comments:

Post a Comment