বিশ্বমানব শিক্ষায় পবিত্র কুরআনের আলো। [
সুরা—৬ আন’আম—১৩৬ থেকে ১৪০ আয়াত।]
১৩৬) আল্লাহ যে শস্য ও গবাদি পশু সৃষ্টি
করেছেন, তার মধ্য হতে তারা আল্লাহ্র জন্য এক অংশ নির্দিষ্ট করে এবং নিজেদের
ধারণানুযায়ী বলে, এ আল্লাহ্র জন্য এবং এ আমাদের দেবতাদের জন্য। যা তাদের দেবতাদের
অংশ তা আল্লাহ্র কাছে পৌঁছায় না এবং যা আল্লাহ্র অংশ তা তাদের দেবতাদের কাছে
পৌঁছায়, তারা যা মীমাংসা করে তা নিকৃষ্ট।
মর্মার্থঃ—যা কিছু সৃষ্টির মূলে এক আল্লাহ্ ছাড়া দ্বিতীয় নেই, তাই শস্য
হৌক আর গবাদি পশুই হৌক কেবল তাঁকেই উৎসর্গ করতে হয়, এই জ্ঞান যাদের নেই, তাদের
মীমাংসা অতি নিকৃষ্ট স্তরের ।
১৩৭) এরূপে তাদের দেবতাগণ বহু মুশরিকের দৃষ্টিতে সন্তান হত্যাকে শোভন করেছে
তাদের ধ্বংস সাধনের জন্য এবং তাদের ধর্ম স্বম্বন্ধে তাদের বিভ্রান্তি সৃষ্টির
জন্য। আল্লাহ্ ইচ্ছা করলে তারা এটা করত না। সুতরাং তাদের মিথ্যা নিয়ে তাদেরকে
থাকতে দাও।
মর্মার্থঃ—মানুষ নিজের কামনা বাসনার পরিতৃপ্ত করার জন্য ধ্বংসের পথে এগিয়ে
যায় এবং নিজের পুত্র বা সন্তানসম আত্মাকে হত্যা করে মিথ্যা পথে গিয়ে।
১৩৮) আর তারা তাদের ধারণা অনুসারে বলে, এ সব গবাদিপশু ও শস্যক্ষেত্র
নিষিদ্ধ, আমি যাকে ইচ্ছা করি সে ব্যতীত কেউ এসব আহার করতে পারে না এবং কতক গবাদি
পশু রয়েছে, যাদের পৃষ্টে আরোহণ করা নিষিদ্ধ
এবং কিছু আছে যাদের জবাই করার সময় তারা আল্লাহ্র নাম নেয় না। এ সমস্তই
তারা আল্লাহ্ সম্বন্ধে মিথ্যা রচনার উদ্দেশ্যে বলে, তাদের এ মিথ্যা রচনার প্রতিফল
তিনি শীঘ্রই তাদেরকে দিবেন।
মর্মার্থঃ—আল্লাহ্ সকলের খাদ্য নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। জ্ঞানীরা জানে
মানুষের খাদ্য কি এবং কোন খাদ্য কিভাবে খেলে দেহ মনকে পবিত্র রেখে আল্লাহ্র
সান্নিধ্যে থাকা যায়। আল্লাহ্র নামে মিথ্যা কথা বলে কোন পশুকে হত্যা করার প্রতিফল
শীঘ্রই মানব জাতি পাবে।
১৩৯) তারা আরও বলে, এসব গবাদি পশুর
গর্ভে যা আছে তা আমাদের পুরুষদের জন্য নির্দিষ্ট এবং এ আমাদের স্ত্রীদের জন্য
অবৈধ, আর এটা যদি মৃত হয় তবে নারী – পুরুষ সকলে এতে অংশীদার, তাদের এরূপ বলার
প্রতিফল তিনি তাদের শীঘ্রই দেবেন, নিশ্চয়, তিনি প্রজ্ঞাবান, সর্বজ্ঞ।
মর্মার্থঃ—পশুকে নিয়ে ও পশুর গর্ভস্থ সন্তানকে নিয়ে কামনা- বাসনা করা বা
লাভ লোকসানের হিসাব করার প্রতিফল মানব জাতি পাবে। আল্লাহ্ প্রজ্ঞাবান ও সর্বজ্ঞ,
তিনি মানব জাতিকে জ্ঞানী করে সৃষ্টি করেছেন, তাই তিনি কিছুতেই তাদের অজ্ঞতাকে
ক্ষমা করবেন না।
১৪০) যারা নির্বুদ্ধিতার জন্য ও অজ্ঞানতাবশত
নিজেদের সন্তানদের হত্যা করে এবং আল্লাহ্ প্রদত্ত জীবিকাকে আল্লাহ্ সম্বন্ধে
মিথ্যা রচনা করার উদ্দেশ্যে নিষিদ্ধ গণ্য করে, তারা তো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারা
অবশ্যই বিপথগামী এবং তারা সৎ পথপ্রাপ্তও ছিল না।
মর্মার্থঃ—যারা অজ্ঞতাবশত নিজের সন্তানকে অর্থাৎ নিজ আত্মাকে হত্যা করে
অন্ধকার জগতে নিয়ে যায় এবং আল্লাহ্ প্রদত্ত জীবিকা অর্থাৎ জ্ঞানকে উপেক্ষা করে
তারাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মানব জাতির প্রধান জীবিকা হচ্ছে জ্ঞান। এই জ্ঞানের পথ ত্যাগ করে যারাই অন্য পথে যায়, তারাই
বিপথগামী ও তারা সৎ পথপ্রাপ্ত হতে পারে না।
জয় বিশ্বমানব শিক্ষা ও পবিত্র কুরআনের আলোর জয়।

No comments:
Post a Comment