Saturday, 22 September 2018

বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞ অভিযান ৪১২ তাং -- ২২/ ০৯/ ২০১৮

   বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞ অভিযান(৪১২) তারিখঃ—২২/ ০৯/ ২০১৮  
আজকের আলোচ্য বিষয়ঃ – [ বেদযজ্ঞ করে নিজের চরিত্রকে অর্জুনের চরিত্রের ন্যায় সত্যপ্রতিজ্ঞা এবং নিয়ম- পালনের তৎপরতা দিয়ে মহৎ করে তুলবে।]
অর্জুন জগৎবিজয়ী বীর এবং অদ্বিতীয় ধনুর্ধর ছিলেন, সেইসঙ্গে তিনি ছিলেন অত্যন্ত সত্যবাদী, সদাচারী, ধর্মাত্মা ও ইন্দ্রিয়জয়ী। পাণ্ডবগণ যখন ইন্দ্রপ্রস্থে রাজত্ব করছিলেন, সেই সময় একদিন লুণ্ঠনকারীরা এসে এক ব্রাহ্মণের গাভীর দল অপহরণ করে পালায়। ব্রাহ্মণ এসে পাণ্ডবদের কাছে কাঁদতে থাকেন। অর্জুন সেই ক্রন্দন শুনে করুণার্দ্র হয়ে তাঁর গাভী ফিরিয়ে আনার প্রতিজ্ঞা করেন। কিন্তু তাঁর অস্ত্র যে ঘরে ছিল, সেই ঘরে তখন মহারাজ যুধিষ্ঠির তাঁর পত্নী দ্রৌপদীর সঙ্গে বার্তালাপে ব্যস্ত ছিলেন। পাঁচ ভ্রাতার মধ্যে প্রথম থেকেই শর্ত হয়েছিল যে, দৌপদী যখন কোনো এক ভ্রাতার সঙ্গে একান্তে থাকবেন, তখন অন্য কোনো ভ্রাতা যদি সেই কক্ষে প্রবেশ করেন, তাহলে সেই ভ্রাতাকে বারোবছর বনে গিয়ে ব্রহ্মচর্য ব্রত পালন করতে হবে। অর্জুন খুব মুশকিলে পড়ে গেলেন, ব্রাহ্মণের গাভী ফিরিয়ে না আনলে ক্ষত্রিয়- ধর্ম –চ্যুৎ হবেন, আর অস্ত্র আনতে ঘরে প্রবেশ করলে নিয়মভঙ্গ হবে। শেষে অর্জুন স্থির করলেন যে নিয়মভঙ্গ করেই তিনি গাভীদের রক্ষা করবেন। তিনি ভাবলেন –‘ নিয়মভঙ্গ করলে আমার যত কঠিন প্রায়শ্চিত্ত করতে হোক না কেন, এমনকি প্রাণও যদি চলে যায়, তবুও ব্রাহ্মণের গোধন রক্ষা করে অপরাধীদের শাস্তি দেওয়া আমার ধর্ম এবং তা আমার জীবন রক্ষার থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ধন্য অর্জুনের ধর্মের প্রতি ভালোবাসা!
  অর্জুন ঘরে গিয়ে অস্ত্র নিয়ে লুণ্ঠনকারীদের পশ্চাদ্ধাবন করে ব্রাহ্মণের গাভী ফিরিয়ে আনলেন। তারপর তিনি জ্যেষ্ঠ ভ্রাতার কাছে গিয়ে তাঁর নিয়মভঙ্গের প্রায়শ্চিত্ত স্বরূপ বনগমনের আদেশ চাইলেন। যুধিষ্ঠির তাঁকে বোঝালেন যে, ‘ জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা তাঁর স্ত্রীর কাছে থাকলে, কনিষ্ঠ ভ্রাতা সেখানে গেলে অপরাধ হয় না। কোনো অপরাধ হয়ে থাকলে তা আমার প্রতি হয়েছে, আমি স্বেচ্ছায় তা ক্ষমা করছি। আর তুমি তো ধর্মপালনের জন্যই নিয়মভঙ্গ করেছ, সেই জন্যই তোমার বনে যাওয়ার প্রয়োজন নেই’। অর্জুনের পক্ষে নিয়মভঙ্গের প্রায়শ্চিত্তরূপ শাস্তি থেকে রক্ষা পাওয়ার এ এক উত্তম সুযোগ ছিল, অন্য কেউ হলে এমন সুযোগ হাতছাড়া করত না। আজকাল আইনের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আইনেরই আশ্রয় গ্রহণ করা একেবারেই ন্যায়সঙ্গত বলে মনে করা হয়। কিন্তু অর্জুন কোনোভাবেই শাস্তি থেকে বাঁচতে চাননি। যুধিষ্ঠির তাঁকে বোঝানো সত্ত্বেও তিনি নিয়ম পালন করা উচিত বলে মনে করেন এবং বনবাসের দীক্ষা নিয়ে রওনা হয়ে গেলেন। ধন্য অর্জুনের সত্যপ্রতিজ্ঞা এবং নিয়ম- পালনের তৎপরতা! জয় বেদযজ্ঞের জয়।

No comments:

Post a Comment