বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞ
অভিযান(৪১৬) তারিখঃ—২৬/০৯/ ২০১৮
আজকের আলোচ্য বিষয়ঃ—[
বেদযজ্ঞ করে যে কোন মানুষ অর্জুনের ন্যায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ভক্ত- সখা- শিষ্য হয়ে
দিব্যজীবন লাভ করতে পারেন।]
বেশ কিছুদিন থেকেই বেদযজ্ঞ আসরে অর্জুনের চরিত্রের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা
করা হচ্ছে, এর মূল কারণ মানুষকে প্রেরণা – উৎসাহ দিয়ে বেদভগবান শ্রীকৃষ্ণের ভক্ত
করে তোলা। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের দিব্য লীলার সাথে যে মানুষ যত নিজের মন- বুদ্ধি-
অহংকারকে যুক্ত করে এগিয়ে যাবেন সে মানুষ ততই নিজের দিব্যরূপকে দেখতে পাবেন।
অশ্বত্থামা যখন রাত্রিকালে নিদ্রিত পাণ্ডবপুত্রদের এবং ধৃষ্টদ্যুম্ন আদিকে বধ করে
গঙ্গাতীরে অবস্থানরত ছিলেন, তখন তাঁর এই ক্রূর কর্মের সংবাদ পেয়ে ভীমসেন ও অর্জুন
প্রতিশোধ নেবার জন্য তাঁর অনুসন্ধান করতে থাকেন। ভীম ও অর্জুনকে আসতে দেখে
অশ্বত্থামা অত্যন্ত ভয় পেয়ে গেলেন। তিনি তাঁদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য
ব্রহ্মাস্ত্র প্রয়োগ করলেন। চোখের পলকে সেখানে প্রলয়কালের মতো অগ্নি উৎপন্ন হয়ে
চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ল। তাকে শান্ত করার জন্য অর্জুনও ব্রহ্মাস্ত্র প্রয়োগ করলেন,
কেননা ব্রহ্মাস্ত্রের দ্বারাই ব্রহ্মাস্ত্র শান্ত করা যায়। দুটি অস্ত্রের মধ্যে
আঘাত হওয়ায় ভীষণ গর্জন ধ্বনি শোনা গেল, হাজার হাজার উল্কাপাত হতে লাগল এবং সকল
প্রাণী ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে উঠলো। এই ভয়ানক কাণ্ড দেখে দেবর্ষি নারদ এবং মহর্ষি
ব্যাসদেব উভয়ে সেখানে পদার্পণ করে সেই বীরদের শান্ত করতে লাগলেন। এই দুই
মহাপুরুষের কথায় অর্জুন তৎক্ষণাৎ তাঁর অস্ত্র সংবরণ করলেন। অর্জুনের অস্ত্র
প্রয়োগের উদ্দেশ্যই ছিল অশ্বত্থামার অস্ত্রকে শান্ত করা। এমনই প্রভাব যে, সেটি
একবার প্রয়োগ করলে, তাকে সংবরণ করা অত্যন্ত কঠিন। শুধু ব্রহ্মচারীই সেটি সংবরণ করতে
পারেন। অশ্বত্থামা সেই দুই মহাপুরুষকে দেখে ব্রহ্মাস্ত্র সংবরণ করার বহু চেষ্টা
করেন, কিন্তু তিনি সংযমী না হওয়ায় সেটি ফেরাতে সক্ষম হলেন না। শেষে ব্যাসদেবের
কথায় তিনি সেটি উওরার গর্ভে আঘাত করেন এবং উত্তরা মৃতপুত্র প্রসব করেন। কিন্তু
শ্রীকৃষ্ণ সেই বালকের প্রাণ ফিরিয়ে দেন। এইভাবে অর্জুনের মধ্যে শূরবীরতা,
অস্ত্রজ্ঞান ও ইন্দ্রিয়জয়—এই তিনগুণের অদ্ভুত সংমিশ্রণ লক্ষ করা যায়।
অর্জুনের জীবন ছিল অত্যন্ত দিব্য।
তাঁর চরিত্র সম্বন্ধে আমরা যত চিন্তা ও আলোচনা করবো, ততই আমাদের জীবনও দিব্যজীবন
হয়ে উঠবে—এতে কোন সন্দেহ নেই। অর্জুনের চরিত্র আমাদের সকলের কাছে আদর্শ ও সৎ শিক্ষাপূর্ণ
বলেই প্রতীয়মান হয়ে আসছে। আশাকরি নিশ্চয় বেদযজ্ঞকারী বন্ধুরা এই কয়দিন ধরে সামান্য
হলেও তা উপলব্ধি করেছেন। জয় বেদযজ্ঞের জয়। জয় শ্রীকৃষ্ণ – অর্জুনের জয়।
No comments:
Post a Comment