বিশ্বমানব শিক্ষায় পবিত্র কুরআনের আলো। [ সুরা—৬ আন’আম – ১০১ থেকে ১০৫
আয়াত।]
১০১) তিনি আকাশ ও ভূমণ্ডলের স্রষ্টা, তাঁর
সন্তান হবে কিরূপে? তাঁর তো কোন ভার্যা নেই, তিনিই তো সমস্ত কিছু সৃষ্টি করেছেন
এবং প্রত্যেক বস্তু সম্বন্ধে তিনিই সবিশেষ অবহিত।
মর্মার্থঃ—আল্লাহ্ আকাশ ও ভূমণ্ডলের সমস্ত
কিছুর স্রষ্টা, তিনি সকলকে নিজের মনের মধ্যে ধরে রাখেন এবং মন থেকে যাকে সেরূপে
খুশী সৃষ্টি করেন, এবং সকলের বিষয়েই তিনি সবিশেষ অবহিত। তিনি মনে করলেই সবকিছু
সৃষ্টি করতে পারেন, এই সৃষ্টির জন্য তাঁকে কারও সাহায্য নিতে হয় না।
১০২)
এই তো আল্লাহ্, তোমাদের প্রতিপালক! তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই, তিনিই সব কিছুর
স্রষ্টা; সুতরাং তোমরা তাঁর ইবাদত কর, তিনি সব কিছুরই তত্ত্বাবধায়ক।
মর্মার্থঃ—আল্লাহ্ সেই মহাজাগতিক শক্তি,
তিনি ছাড়া দ্বিতীয় উপাসক আর কেউ হতে পারে না।
১০৩) তিনি দৃষ্টির অধিগম্য নন, কিন্তু
দৃষ্টিশক্তি তাঁর অধিগত, এবং তিনিই সুক্ষ্মদর্শী, সম্যক পরিজ্ঞাত।
মর্মার্থঃ—তিনি ইচ্ছা করলেই যে কোন নিজের
প্রিয়জনকে দেখা দিতে পারেন, যেকোন রূপে।
১০৪) তোমাদের প্রতিপালকের নিকট হতে তোমাদের নিকট
স্পষ্ট প্রমাণ এসেছে, সুতরাং কেউ তা দেখলে তা দিয়ে সে নিজেই লাভবান হবে। আর কেউ না
দেখলে তাতে সে নিজেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এবং আমি তোমাদের তত্ত্বাবধায়ক নই।
মর্মার্থঃ—যে সত্যকে দেখতে চায় এবং তাঁকে
দেখার জন্য সাধনা করে সেই লাভবান হয়। আর যারা সত্যকে জেনেও তাঁকে দেখার জন্য সাধনা
করে না, তারা বৃথা এই পৃথিবীতে সময় নষ্ট করে এবং নিজেদের ক্ষতি নিজেরাই করে।
১০৫) আর এভাবে নিদর্শনাবলী বিভিন্ন প্রকারে
বিবৃত করি। ফলে, অবিশ্বাসীগণ বলে, তুমি এটা পূর্ববর্তী কিতাব অধ্যায়ন করে বলছ; আমি
কিন্তু জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য সুস্পষ্টভাবে বিবৃত করি।
মর্মার্থঃ—জ্ঞানীদের চোখই কেবল আল্লাহ্র প্রেরিত
নিদর্শন দেখতে পায়। অজ্ঞ ও অবিশ্বাসীরা নিজের রোগেই নিজে আক্রান্ত হয়ে, অন্ধ
অবস্থায় চোখের কাছের আলো দেখতে পায় না।
জয় বিশ্বমানব শিক্ষা ও পবিত্র কুরআনের আলোর
জয়।
No comments:
Post a Comment