বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞ অভিযান(৪১০) তারিখঃ—২০/ ০৯/ ২০১৮
আজকের আলোচ্য বিষয়ঃ—[ বেদযজ্ঞ করে সদায় জ্ঞানমার্গে বিরাজ করবে অর্জুনের
ন্যায় প্রভুভক্ত হয়ে।]
স্বর্গ থেকে ফিরে বনে এবং একবৎসর অজ্ঞাতরূপে
বিরাটনগরে থাকার সময়ও অর্জুন অদ্ভুত পরাক্রম দেখিয়েছেন। দুর্যোধনকে গন্ধর্বদের হাত
থেকে বাঁচানোর জন্য তিনি গন্ধর্বদের সঙ্গে যুদ্ধ করেন এবং নিজের বংশের মর্যাদা
রক্ষা করেন। বারো বছর বনবাসের পর পাণ্ডবগণ যখন এক বছর অজ্ঞাতবাস করার জন্য বিরাট
রাজার আশ্রয়ে থাকতে গেলেন, তখন তাঁদের অনুসন্ধানের জন্য দুর্যোধন বিরাট নগর আক্রমণ
করেন। ভীষ্ম, দ্রোণ, কর্ণ, কৃপ, অশ্বত্থামা আদি সব প্রধান বীরই তাঁর সঙ্গে ছিলেন।
তাঁরা বিরাটরাজের ষাট হাজার গাভী অপহরণ করে নিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন বিরাটরাজের পুত্র
উত্তর বৃহন্নলারূপধারী অর্জুনকে সারথি করে তাঁদের বাধা দিতে গেলেন। কৌরবদের বিশাল
বাহিনী দেখেই উত্তর ভয়ে শিহরিত হয়ে উঠল। তিনি রথ থেকে নেমে পালাতে চাইলেন।
বৃহন্নলা( অর্জুন) তাঁকে বুঝিয়ে রথের সারথি করে নিজেই যুদ্ধ করতে গেলেন। তিনি
অনায়াসে কর্ণ, কৃপ, দ্রোণ, অশ্বত্থামা এবং দুর্যোধনকে পরাজিত করেন, ভীষ্ম মূর্ছিত
হয়ে পড়েন। তারপর ভীষ্ম,দুর্যোধন, কর্ণ, দুঃশাসন, বিবিংশতি, দ্রোণাচার্য,
অশ্বত্থামা ও কৃপাচার্য—সকলে একসঙ্গে অর্জুনকে ঘিরে আক্রমণ করেন; কিন্তু অর্জুন
তাঁর বাণের ঝড় বর্ষণ করে তাঁদের সকলকে পরাস্ত করেন। শেষে অর্জুন সম্মোহন নামক
অস্ত্র নিক্ষেপ করেন, তাতে সমস্ত কৌরব বীর চেতনা হারান এবং তাঁদের অস্ত্র হস্তচ্যুত
হয়ে পড়ে। অর্জুন ইচ্ছা করলে তখনই সকলকে বধ করতে পারতেন, কিন্তু তিনি এইরূপ
কাপুরুষোচিত কাজের অনেক ঊর্ধ্বে ছিলেন। চেতনা ফিরে এলে ভীষ্মের পরামর্শে কৌরবগণ
গাভীর দল ছেড়ে ফিরে যাওয়াই শ্রেয় বলে মনে করলেন। অর্জুন বিজয় ঘোষণা করতে করতে নগরে
ফিরে এলেন। এইভাবে অর্জুন বিরাট রাজার গো-ধনের সঙ্গে তাঁর মানমর্যাদাও রক্ষা করে
তাঁর আশ্রয়দাতার ঋণ কয়েক গুণ বেশিরূপে পরিশোধ করেন। ধন্য অর্জুনের স্বামীভক্তি। জয়
বেদভগবান শ্রীকৃষ্ণের জয়। ১১তম পর্ব।। জয় বেদযজ্ঞের জয়।


No comments:
Post a Comment