Tuesday, 18 September 2018

বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞ অভিযান ৪০৮ তাং ১৮/ ০৯/ ২০১৮

  বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞ অভিযান(৪০৮) তারিখঃ—১৮/ ০৯/ ২০১৮
আজকের আলোচ্য বিষয়ঃ—[ বেদযজ্ঞ করে অর্জুনের ন্যায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে গুরু- বন্ধু- সখা- ভগবান মান্য করে জীবন পথে এগিয়ে চলো, দেখবে তোমার জয়ের পতাকা তিনিই বহন করে চলেছেন সর্বত্র।]
পাণ্ডবেরা দ্রৌপদীর স্বয়ংবরের সংবাদ পেয়ে একচক্রা নগরী থেকে দ্রুপদ- নগরের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে তাঁদের গন্ধর্বদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। অর্জুন অস্ত্রকৌশলে তাঁদের পরাজিত করেন এবং তাঁদের রাজা অঙ্গারপর্ণকে (চিত্ররথকে) বন্দী করেন। পরে উভয়ের মধ্যে মিত্রতা হয়। দ্রৌপদীর স্বয়ংবর অর্জুন এমন কাজ করলেন, যা কোনো রাজাই করতে পারেননি। দুর্যোধন, শাল্ব, শিশুপাল, জরাসন্ধ এবং শল্য ইত্যাদি বহু রাজা এবং রাজকুমার—যারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন, সেই সভায় রাখা ধনুকটি উত্তোলন করতে অসফল হন। অর্জুন মুহূর্তের মধ্যে সেটি উঠিয়ে তাতে তূণ চড়িয়ে সকলের চোখের সামনে লক্ষ্যভেদ করেন। পাণ্ডবেরা সেই সময় ব্রাহ্মণের ছদ্মবেশে ছিলেন, তাই অন্যান্য রাজারা তাঁদের ব্রাহ্মণ মনে করে সকলে একত্রিত হয়ে তাঁদের আক্রমণ করলেন। কিন্তু তাঁরা অর্জুন ও ভীমের কাছে পরাজিত হলেন। সেই সময় অর্জুন ও কর্ণের মধ্যে বাণযুদ্ধ এবং ভীম ও শল্যের মধ্যে গদাযুদ্ধ হয়। কিন্তু এঁরা দুজনেই অর্জুন ও ভীমের সঙ্গে পেরে ওঠেননি।
  খাণ্ডবদহনের সময়ও অর্জুন অদ্ভুত পরাক্রম দেখিয়েছিলেন। যখন অগ্নিদেব ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ও অর্জুনের সহায়তায় খাণ্ডববন দহন করতে শুরু করেন, সেই সময় সমস্ত দেবতা গরমে ভীত হয়ে দেবরাজ ইন্দ্রের কাছে যান, তখন ইন্দ্রের আদেশে মেঘরাজী সেই প্রচণ্ড অগ্নি শান্ত করার জন্য প্রচণ্ডভাবে ধারাবর্ষণ শুরু করে। অর্জুন তাঁর অস্ত্র দ্বারা জলধারা আকাশেই আটকে রাখেন, মাটিতে পড়তেই দেননি। ইন্দ্রও তাঁর তীক্ষ্ণ বাণে অর্জুনকে উত্তর দেন। দুজনে ভয়ানক যুদ্ধ বেধে যায়। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাঁর চক্র এবং অর্জুন তাঁর বাণের সাহায্যে দেবতাদের সমস্ত চেষ্টা বিফল করেন। সেইসময় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাঁর কালরূপ প্রকট করেন। দেবতা ও দানব সকলে তাঁর পৌরুষ দেখে বিস্ময়াভিভূত হন।  শেষে ইন্দ্রকে সম্বোধন করে আকাশবাণী হয় যে, ‘ তুমি শ্রীকৃষ্ণ ও অর্জুনকে কোনোভাবেই পরাস্ত করতে পারবে না। কারণ এঁরা সাক্ষাৎ নর- নারায়ণ, এঁদের শক্তি ও পরাক্রম অসীম। এঁরা সকলের পক্ষেই অজেয়। তুমি দেবতাদের নিয়ে চলে যাও, তোমার পক্ষে তাই শোভনীয় হবে’। আকাশবাণী শুনে ইন্দ্র সকলকে নিয়ে ফিরে গেলেন। অগ্নি তখন সেই বিশাল খাণ্ডববন ভস্ম করে দিলেন। অর্জুনের সেবায় প্রসন্ন হয়ে অগ্নি তাঁকে দিব্য-অস্ত্র প্রদান করলেন। ইন্দ্রও তাঁর অস্ত্র- কৌশলে প্রসন্ন হয়ে তাঁকে অস্ত্রদান করার প্রতিজ্ঞা করেন এবং অগ্নিদেবের প্রার্থনায় বরুণদেব তাঁকে অক্ষয় তূণীর, গাণ্ডীব ধনুক এবং বানর চিহ্নযুক্ত ধ্বজা শোভিত রথ যুদ্ধের পূর্বেই তাঁকে প্রদান করেন। অর্জুন ছাড়া আর কে জানবেন এই বেদযজ্ঞ রহস্য? জয় বেদভগবান –শ্রীকৃষ্ণের জয়।। ৯ম পর্ব ।। জয় বেদযজ্ঞের জয়।

No comments:

Post a Comment