বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞ অভিযান(৪০৬) তারিখঃ—১৬/ ০৯/ ২০১৮
আজকের আলোচ্য বিষয়ঃ—[ বেদযজ্ঞের মাধ্যমে অর্জুনের ন্যায় সদায় বেদভগবান
শ্রীকৃষ্ণের সাথে ঐক্য স্থাপন করে জীবনযুদ্ধে জয়ের পথে এগিয়ে চলবে।]
দ্রোণাচার্যের মৃত্যু হলে শোকগ্রস্ত
অশ্বত্থামা পাণ্ডবদের ওপর আগ্নেয়াস্ত্র প্রয়োগ করেন। সেটি নিক্ষেপ করতেই আকাশ থেকে
বাণবর্ষণ হতে থাকে এবং সেনাদের চারদিকে
আগুন ছড়িয়ে পড়ে। অর্জুন একাকী এক অক্ষৌহিণী সেনা নিয়ে অশ্বত্থামার সঙ্গে যুদ্ধ
করছিলেন। ঐ অস্ত্রের প্রভাবে অর্জুনের সমস্ত সৈন্য এমনভাবে দগ্ধ হয়ে গেল যে তাদের
কোনো চিহ্নই থাকল না। কিন্তু শ্রীকৃষ্ণ ও অর্জুনের দেহে কোনো আঘাৎ-ই লাগেনি। এই
দুই মহাপুরুষকে অস্ত্রের প্রভাব থেকে মুক্ত দেখে অশ্বত্থামা আশ্চর্যান্বিব ও চিন্তিত হয়ে গেলেন।
অশ্বত্থামা তাঁর হাতের অস্ত্র ফেলে রথ থেকে নেমে ‘ধিক্কার দিই, ধিক্কার দিই’ বলতে
বলতে রণভূমি ত্যাগ করলেন। এরমধ্যে ব্যাসদেবের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হল। তিনি তাঁকে
প্রণাম করে জিজ্ঞাসা করলেন যে, এই সর্বসংহারক অস্ত্র শ্রীকৃষ্ণ ও অর্জুনের ওপর
কোনো প্রভাব ফেলেনি কেনো? ব্যাসদেব তাঁকে জানালেন যে, ‘ শ্রীকৃষ্ণ নারায়ণের অবতার
এবং অর্জুন নরের অবতার, তাঁদের প্রভাব নারায়ণের সমান। এঁরা দুজন জগতকে ধর্ম-
মর্যাদায় রাখার জন্য যুগে যুগে অবতার গ্রহণ করেন’। ব্যাসদেবের কথা শুনে
অশ্বত্থামার চিন্তা দূর হল এবং তাঁর মনে অর্জুন ও শ্রীকৃষ্ণের প্রতি মহত্ত্ব-
বুদ্ধি জাগ্রত হল। ব্যাসদেবের এই বক্তব্যেও শ্রীকৃষ্ণ ও অর্জুনের ঐক্য প্রমাণিত
হয়।
অর্জুন তো ভগবানের কৃপাপাত্র ছিলেনই, ভগবান
শঙ্করেরও তাঁর প্রতি অত্যন্ত কৃপা ছিল। যুদ্ধে শত্রুসেনা সংহারের সময় অর্জুন লক্ষ
করতেন যে অগ্নির ন্যায় এক তেজস্বী মহাপুরুষ তাঁর আগে আগে যাচ্ছেন। তিনিই শত্রুনাশ
করতেন, কিন্তু লোকে মনে করত এসব অর্জুনের কাজ। তিনি ত্রিশূলধারী ও সূর্যের ন্যায়
তেজস্বী ছিলেন। বেদব্যাসের সঙ্গে কথা বলায় তিনি অর্জুনকে জানালেন যে, তিনিই ভগবান
শংকর। যাকে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কৃপা করেন, তাঁকে যে সকলেই কৃপা করবেন, এতে আশ্চর্যের
কী আছে। ‘ জা পর কৃপা রাম কৈ হোঈ। তাপর কৃপা করহি সব কোঈ’।। জয় বেদভগবান
শ্রীরামকৃষ্ণের জয়। ৭ম পর্ব ।। জয় বেদযজ্ঞের জয়।
No comments:
Post a Comment