Wednesday, 19 September 2018

বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞ অভিযান ৪০৯ তাং ১৯/০৯/ ২০১৮


বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞ অভিযান(৪০৯) তারিখঃ—১৯/ ০৯/ ২০১৮
আজকের আলোচ্য বিষয়ঃ- [বেদযজ্ঞের দ্বারা মন্ত্রশক্তিকে জাগ্রত করে দেবতাদের অন্তর জয় জয় অর্জুনের ন্যায় দিব্য- অস্ত্রের অধিকারী হও, দেশের সবার মঙ্গলের জন্যে।]
পাণ্ডবগণ সকলেই দৈবজ্ঞানের অধিকারী ছিলেন বেদযজ্ঞ বলে। তাঁরা যখন দ্বিতীয়বার পাশাখেলায় পরাজিত হয়ে বনে বাস করতে থাকেন, সেই সময় মহর্ষি বেদব্যাস একদিন যুধিষ্ঠিরকে একান্তে ডেকে বলেন, ‘ অর্জুন নারায়ণের সহচর মহাতপস্বী নর। তাঁকে কেউ পরাজিত করতে পারবে না, তিনি অচ্যুতস্বরূপ। তিনি তাঁর তপস্যা ও পরাক্রমের দ্বারা দেবতাদের দর্শনলাভের যোগ্য। সুতরাং তুমি এঁকে অস্ত্রশিক্ষার জন্য ভগবান শংকর, দেবরাজ ইন্দ্র, বরুণ, কুবের এবং ধর্মরাজের কাছে পাঠাও। তিনি তাঁদের কাছে অস্ত্রশিক্ষা করে অত্যন্ত পরাক্রমশালী হবেন এবং তোমাদের হস্তচ্যুত রাজ্য ফিরিয়ে আনবেন’। যুধিষ্ঠির বেদব্যাসের নির্দেশ মেনে অর্জুনকে মহর্ষি বেদব্যাস প্রদত্ত মন্ত্রবিদ্যা দিয়ে ইন্দ্রের দর্শনের জন্য ইন্দ্রকীল পর্বতে পাঠান। সেখানে পৌঁছালে ইন্দ্র এক তপস্বীর রূপে তাঁকে দর্শন দেন। ইন্দ্র তাঁকে স্বর্গের ভোগ ও ঐশ্বর্যের প্রলোভন দেখান, কিন্তু অর্জুন সেসব ছেড়ে অস্ত্রবিদ্যা শেখার জন্য আগ্রহ দেখান। ইন্দ্র বলেন—‘ আগে তুমি তপস্যা দ্বারা ভগবান শংকরের দর্শনলাভ করো, তাঁর দর্শনে সিদ্ধ হয়ে তুমি স্বর্গে আসবে, তখন আমি তোমাকে সমস্ত দিব্য অস্ত্র দেব’। অর্জুন তো মনস্বী ছিলেনই, তিনি তখনই কঠিন তপস্যায় রত হলেন। তাঁর তপস্যায় প্রসন্ন হয়ে ভগবান শংকর এক ভীলের রূপে তাঁর সামনে প্রকটিত হলেন। একটি বন্য শূকর নিয়ে উভয়ের মধ্যে বিবাদ উপস্থিত হয় এবং দুজনের মধ্যে যুদ্ধ বেধে যায়। অর্জুন তাঁর অস্ত্রকৌশলে ভগবান শংকরকে প্রসন্ন করেন। শংকর বলেন-‘ অর্জুন! আমি তোমার অনুপম কর্মে প্রসন্ন হয়েছি। তুমি তেজ ও বলে আমারই সমান। তুমিই সনাতন ঋষি, তোমাকে আমি দিব্য জ্ঞান প্রদান করছি। তুমি দেবতাদেরও পরাজিত করতে সক্ষম হবে’। তারপর ভগবান শংকর অর্জুনকে দেবী পার্বতীসহ তাঁর প্রকৃত রূপে দর্শন দান করে তাঁকে বিধিপূর্বক পাশুপত অস্ত্র শিক্ষাদান করেন। এইভাবে দেবাদিদেব মহাদেবের কৃপা লাভ করে তিনি স্বর্গে যাওয়ার কথা চিন্তা করেছিলেন, ইতিমধ্যে বরুণ, কুবের, যম এবং দেবরাজ—এই চার লোকপাল সেখানে উপস্থিত হলেন। যম, বরুণ, ও কুবের তাঁকে দণ্ড, পাশ এবং অন্তর্ধান নামক অস্ত্র দান করলেন এবং স্বর্গে আগমনকালে ইন্দ্র তাঁকে অস্ত্র দেবার কথা বললেন। তারপর ইন্দ্র প্রেরিত রথে করে অর্জুন স্বর্গে গেলেন এবং সেখানে পাঁচবছর থেকে তিনি অস্ত্রবিদ্যা লাভ করেন। সেই সঙ্গে চিত্রসেন গন্ধর্বের কাছে গান্ধর্ব বিদ্যাও শেখেন। ইন্দ্রের কাছে অস্ত্রবিদ্যা লাভ করে অর্জুন যখন সর্বপ্রকার অস্ত্র চালাতে নিপুণ হলেন, তখন দেবরাজ তাঁকে নিবাতকবচ নামক দানব বধ করতে বললেন। তাঁরা সমুদ্রের মধ্যে এক দুর্গমস্থানে থাকতেন এবং সংখ্যায় ছিলেন তিন কোটি। দেবতারাও তাঁদের পরাজিত করতে অক্ষম ছিলেন। অর্জুন একাকী তাঁদের সকলকে সংহার করেন। এছাড়াও, নিবাত- কবচদের বধ করে ফেরার সময় তাঁর কালিকেয় এবং পৌলোম নামক দৈত্যদের সঙ্গে যুদ্ধ হয়, অর্জুন তাঁদেরও সংহার করেন। এইভাবে অর্জুন ইন্দ্রের প্রিয় কাজ করে, ইন্দ্রপুরীতে কিছুকাল বাস করে ভ্রাতাদের কাছে ফিরে আসেন। জয় বেদযজ্ঞ ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জয়। ১০ম পর্ব ।। জয় বেদযজ্ঞের জয়।।

No comments:

Post a Comment