বিশ্বমানব
শিক্ষায় পবিত্র কুরআনের আলো। [ সুরা—৬ আন’আম—৮১ থেকে ৮৫ আয়াত।]
৮১) তোমরা যাকে
আল্লাহ্র শরিক কর, আমি তাকে কিরূপে ভয় করব? যে বিষয়ে তিনি তোমাদেরকে কোন সনদ
দেননি তাতে তোমরা আল্লাহ্র শরিক করতে ভয় কর না? সুতরাং যদি তোমরা জান তবে বল,
দু’দলের মধ্যে কোন দল নিরাপত্তা লাভের অধিকারী?
মর্মার্থঃ--- জ্ঞানের পরিবর্তে অজ্ঞান এবং আলোর পরিবর্তে অন্ধকারকে যারা
ভালবাসে বা ইবাদত করে, তারা কিভাবে কুরআনের আয়াতগুলি উপলব্ধি করবে? এরা তো আল্লাহ্র
নাম করে তাঁর শরিকদের ইবাদত করে ও তাদেরকেই ভালবাসে। এই জগতের যাকিছু সম্পদ তাদের
দিকেই মানুষের মুখ এবং মানুষ সেই সম্পদশালীকেই ভয় করে। কে এমন আছে, যে আল্লাহ্
সৃষ্ট সম্পদকে শরিক না করে তাঁর ইবাদত করে ও তাঁকে ভয় করে সেই সব সম্পদের লোভ থেকে
মুক্ত হয়ে নিজের অন্তর্জগৎ ও বহির্জগতকে নিয়ন্ত্রণে রাখে?
৮২) যারা
বিশ্বাস করেছে এবং তাদের বিশ্বাসকে শরিক স্থাপন দ্বারা কলুষিত করেনি, নিরাপত্তা
তাদেরই জন্য, এবং তারাই সৎপথপ্রাপ্ত।
মর্মার্থঃ—যারা
নিজের অন্তরের সততাকে বিশ্বাস করে দ্বিতীয় আর কোন দিকে শরিক স্থাপন করতে যায় না
তাদের জন্যই আল্লাহ্র সবদিক থেকেই নিরাপত্তা রয়েছে।
৮৩) এবং এ আমার যুক্তি যা ইব্রাহীমকে তার
সম্প্রদায়ের সাথে মুকাবিলা করতে দিয়েছিলাম। যাকে ইচ্ছা মর্যাদায় আমি উন্নীত করি,
তোমার প্রতিপালক প্রজ্ঞাময়, জ্ঞানী।
মর্মার্থঃ—যার
প্রতিপালক প্রজ্ঞাময়, জ্ঞানী, সেই কেবল নিজের মর্যাদা রক্ষা করতে সক্ষম, তাঁর
প্রদত্ত জ্ঞান দ্বারা।
৮৪) এবং
তাকে দান করেছিলাম ইসহাক ও ইয়া’কুব এবং এদের প্রত্যেককে সৎপথে পরিচালিত করেছিলাম।
পূর্বে নূহকেও সৎপথে পরিচালিত করেছিলাম
এবং তার বংশধর দাউদ, সুলায়মান, আইউব, ইউসুফ, মুসা ও হারুনকেও, আর এভাবেই সৎকর্মপরায়ণদের
আমি পুরস্কৃত করি।
মর্মার্থঃ—যুগে
যুগে এরাই নিজের অন্তরে আল্লাহ্র দেওয়া জ্ঞানের বাতি প্রজ্বলিত করতে সক্ষম হয়েছে
এবং আল্লাহ্র নিকট থেকে নিজের সৎ কর্মের জন্য পুরস্কৃত হয়েছে।
৮৫) এবং যাকারিয়া, ইয়াহইয়া, ঈসা এবং ইলিয়াসকেও
সৎপথে পরিচালিত করেছিলাম। এরা সকলে সজ্জনদের অন্তর্ভুক্ত।
মর্মার্থঃ—যারাই
সত্যজ্ঞানের পথ ধরে, সৎ কর্ম করেছে তারাই সজ্জনদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়ে রয়েছে।
মানব জাতিকে উৎসাহ দেওয়ার জন্য এখানে কয়েক জনের নাম অবতীর্ণ হয়েছে।
জয় বিশ্বমানব
শিক্ষা ও পবিত্র কুরআনের আলোর জয়।
No comments:
Post a Comment