বিশ্বমানব শিক্ষায় পবিত্র কুরআনের আলো। [ সুরা—৬ আন’আম- ৭৬ থেকে ৮০ আয়াত।]
৭৬) অতঃপর রাতের অন্ধকার যখন তাকে আচ্ছন্ন করল
তখন সে নক্ষত্র দেখে বলল, ঐটিই আমার প্রতিপালক। অতঃপর যখন তা অস্তমিত হল তখন সে
বলল, যা অস্তমিত হয় তা আমি পছন্দ করি না।
মর্মার্থঃ—ইব্রহীম
জ্ঞানী, সে জ্ঞানের ইবাদত করতো। অন্ধকার আকাশে নক্ষত্র দেখে তাদেরকে নিয়েই সে
গবেষণা করতো এবং সেসব নক্ষত্র কিভাবে মানব জীবনে প্রভাব বিস্তার করে আছে সে
সম্বন্ধে জ্ঞান লাভ করে ভাবতো, এরাই বোধহয় সবার প্রতিপালক। পরবর্তীতে ভুল ভেঙ্গে
যায়, দেখলো এদেরও সৃষ্টি আছে, ধ্বংস আছে এবং কেউ এদের সৃষ্টিকর্তাও আছে।
৭৭) অতঃপর যখন সে চন্দ্রকে উদিত হতে দেখল তখন সে
বলল, এটি আমার প্রতিপালক। যখন সেটি অস্তমিত হল তখন সে বলল, আমাকে আমার প্রতিপালক
সৎপথ প্রদর্শন না করলে আমি অবশ্যই পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভুক্ত হব।
মর্মার্থঃ—চন্দ্রকে
নিয়েও ইব্রাহীমের গবেষণা চলে। চন্দ্রকেও প্রত্যেকের জীবনে প্রভাব বিস্তার করতে সে
দেখে, কিন্তু তার প্রভাবও শেষ হয়ে যায়। কারণ তারও সৃষ্টি হয়েছে এবং ধ্বংস আছে। যার
সৃষ্টি ও ধ্বংস আছে তাকে আশ্রয় করে থাকলে, মানুষকেও সেই সৃষ্টি ও ধ্বংসের মধ্যে
আবদ্ধ থাকতে হবে এবং পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভুক্ত হতে হবে।
৭৮) অতঃপর যখন সে সূর্যকে উদিত হতে দেখল তখন সে
বলল, এটি আমার মহান প্রতিপালক। যখন সেটিও অস্তমিত হল তখন সে বলল, হে আমার
সম্প্রদায়! তোমরা যাকে আল্লাহ্র শরিক কর, তা থেকে আমি নির্লিপ্ত।
মর্মার্থঃ—সূর্যকে
নিয়েও সে গবেষণা করে এবং দেখে সূর্যের প্রভাব মানব জীবনে সবথেকে বেশী, কিন্তু
সূর্যেরও একজন সৃষ্টিকর্তা আছেন। সূর্যও কালের কবলে পড়ে নিজের তেজ হারিয়ে ফেলবে। তাই যাকে কাল
স্পর্শ করতে পারে না, সেই কেবল তার প্রতিপালক হতে পারেন।
৭৯) নিশ্চয়ই
আমি একনিষ্ঠভাবে তাঁর দিকে মুখ ফিরাচ্ছি যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন
এবং আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নয়।
মর্মার্থঃ—ইব্রাহীম
তার সম্প্রদায়কে বলল, আমি একনিষ্ঠভাবে সেই সত্যের দিকেই মুখ ফিরাচ্ছি যিনি
আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীকে নিজ শক্তিবলে সৃষ্টি করেছেন এবং নিজের অধীনে রেখে পরিচালিত
করছেন। তিনিই আমার একমাত্র উপাস্য, যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীরও উপাস্য হয়ে রয়েছেন।
৮০) তার সম্প্রদায় তার সাথে বিতর্কে লিপ্ত হল।
সে বলল, তোমরা কি আল্লাহ্ সম্বন্ধে আমার সঙ্গে বিতর্কে লিপ্ত হবে? তিনি তো আমাকে
সৎপথে পরিচালিত করেছেন। আমার প্রতিপালক অন্যবিধ ইচ্ছা না করলে তোমরা যাকে তাঁর
শরিক কর তাকে আমি ভয় করি না। সব কিছুই আমার প্রতিপালকের জ্ঞানায়ত্ত, তবে কি তোমরা
অনুধাবন করবে না?
মর্মার্থঃ—মানুষের
মধ্যে যারা অজ্ঞ তারাই বিতর্কে লিপ্ত হয় এবং সৎপথ দেখতে পায় না। যার বিশালত্বকে
কোন কিছুই দ্বারা পরিমাপ করা যায় না তাকে কার সাথে তুলনা করা যাবে? তাই যারা সেই
বিশালত্বের আশ্রয়ে চলে যায় তাদের আর ক্ষুদ্রকে দেখে ভয় কিসের?
জয় বিশ্বমানব
শিক্ষা ও পবিত্র কুরআনের জয়।
No comments:
Post a Comment