বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞ অভিযান(৪০৭)
তারিখঃ—১৭/ ০৯/ ২০১৮
আজকের আলোচ্য বিষয়ঃ-[ বেদযজ্ঞ করে অর্জুনের
ন্যায় কোমলস্বভাব এবং –সত্যপ্রতিজ্ঞ হও, তাহলেই তোমার অন্তরের দৈবীগুণ জাগ্রত
হবে।]
ভগবানের পরম ভক্ত এনং কৃপাপাত্র হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অর্জুনের আরও অনেক গুণ
ছিল। কেনই বা হবে না, সূর্যের সঙ্গে সূর্য –রশ্মির মতো ভক্তির সঙ্গে দৈবীগুণ তো
আনুষঙ্গিকভাবে থাকবেই। তিনি অত্যন্ত ধীর, বীর, ইন্দ্রিয়জয়ী, দয়ালু, কোমলস্বভাব এবং
সত্যপ্রতিজ্ঞ ছিলেন। জন্ম থেকেই তাঁর মধ্যে দৈবীগুণ নিহিত ছিল। গীতায় স্বয়ং ভগবান
শ্রীকৃষ্ণ স্বীকার করেছেন ‘ সম্পদং দৈবীমভিজাতোহসি’। তাঁর জন্মের সময় মাতা
কুন্তীদেবীকে সম্বোধন করে আকাশবাণী হয়েছিল—‘কুন্তী! এ বালক কার্তবীর্য অর্জুন এবং
ভগবান শংকরের মতো পরাক্রমশালী এবং ইন্দ্রের ন্যায় অজেয় হয়ে তোমার যশবৃদ্ধি করবে।
বিষ্ণু যেমন তাঁর মাতা অদিতিকে প্রসন্ন করেছিলেন, এই পুত্র তেমনই তোমাকে প্রসন্ন
করবে’। এই আকাশবাণী শুধু কুন্তী নয়, সকলেই শুনেছিলেন। তাতে ঋষি –মুনি, দেবতা ও
সমস্ত প্রাণী অত্যন্ত প্রসন্ন হয়েছিলেন। আকাশে দুন্দুভি বেজেছিল এবং পুষ্পবর্ষণ হয়েছিল।
এইভাবে অর্জুনের জন্মকাল থেকেই তাঁর অলৌকিকত্ব প্রকট হতে থাকে। ইনি যখন একটু বড়ো
হন, তখন ভ্রাতাদের এবং ধৃতরাষ্ট্র কুমারদের সঙ্গে সঙ্গে এঁরও শিক্ষা- দীক্ষার ভার
প্রথমে কৃপাচার্য ও পরে দ্রোণাচার্যের উপর ন্যস্ত হয়। সূতপুত্র নামে প্রসিদ্ধ
কর্ণও এঁদের সঙ্গেই শিক্ষা পাচ্ছিলেন। দ্রোণাচার্যের সব শিষ্যদের মধ্যে শিক্ষা,
বাহুবল এবং পরাক্রমের দৃষ্টিতে আর সমস্ত অস্ত্র- প্রয়োগ তৎপরতা ও নিখুঁত লক্ষ্যভেদ
ইত্যাদিতে অর্জুনই সর্বশ্রেষ্ঠ ছিলেন। তিনি তাঁর গুরু দ্রোণাচার্যের অত্যন্ত সেবা
করতেন। তাঁর সেবা ও বুদ্ধিমত্তায় প্রসন্ন হয়ে দ্রোণাচার্য একদিন তাঁকে বলেন,
‘পুত্র! আমি এমন কাজ করব, জগতে যাতে তোমার সমকক্ষ কোনো ধনুর্ধর না হয়’।
দ্রোণাচার্যের ন্যায় সিদ্ধ গুরুর প্রতিজ্ঞা কি কখনও মিথ্যা হতে পারে? অর্জুন
বাস্তবিকপক্ষে জগতে অদ্বিতীয় ধনুর্ধর হয়ে উঠেছিলেন।
পাণ্ডব ও কৌরব রাজপুত্রদের অস্ত্রবিদ্যা শিক্ষা সমাপনে গুরুদক্ষিণা দেবার
সময় হলে গুরু দ্রোণাচার্য শিষ্যদের বললেন—‘ তোমরা পাঞ্চালরাজ দ্রুপদকে যুদ্ধে
বন্দী করে আনো, এটিই আমার সব থেকে বড় গুরুদক্ষিণা হবে’। সকলেই প্রসন্নতাসহ
গুরুদেবের আদেশ মেনে নিলেন। অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে দ্রুপদ- নগর আক্রমণ করলেন।
পাঞ্চালরাজ তাঁর ভাইদের সঙ্গে তাঁদের প্রতিহত করলেন। প্রথমে কৌরবরাই তাঁদের আক্রমণ
করেন, কিন্তু পাঞ্চালরাজের কাছে পরাজিত হয়ে তাঁদের ফিরে আসতে হয়। পরে অর্জুন, ভীম
এবং নকুল- সহদেবকে সঙ্গে করে দ্রুপদকে আক্রমণ করেন। অর্জুন একবাক্যে দ্রুপদকে ধরে
এনে দ্রোণাচার্যের সামনে হাজির করেন। অর্জুনের পরাক্রমের কথা সর্বত্র ছড়িয়ে
পড়লো। জয় বেদভগবান শ্রীকৃষ্ণের জয়। ৮ম
পর্ব ।। জয় বেদযজ্ঞের জয়।
No comments:
Post a Comment