Wednesday, 19 September 2018

কুরআন সুরা-- ৬ আন'আম-- ৯১ থেকে ৯৫ আয়াত

বিশ্বমানব শিক্ষায় পবিত্র কুরআনের আলো।[ সুরা—৬ আন’আম – ৯১ থেকে ৯৫ আয়াত।]
  ৯১) তারা আল্লাহ্‌র যথাযোগ্য মর্যাদা দান করে নি যখন তারা বলে, আল্লাহ্‌ মানুষের নিকট কিছুই অবতরণ করেননি। বল, তবে মুসার আনীত কিতাব যা মানুষের জন্য আলো ও পথপ্রদর্শক ছিল, যা তোমরা বিভিন্ন পৃষ্ঠায় লিপিবদ্ধ করে কিছু প্রকাশ কর ও যার অনেকাংশ গোপন রাখ এবং যা তোমাদের পিতৃপুরুষগণ ও তোমরা জানতে না তাও শিক্ষা দেয়া হয়েছিল, তা কে অবতরণ করেছিল? বল, আল্লাহ্‌ই। অতঃপর তাদের নিরর্থক আলোচনারূপ খেলায় তাদেরকে মগ্ন হতে দাও।
  মর্মার্থঃ—মানুষ সহজ সরল পথে ঠিক সূর্যের আলো মতো সব কিছুই জীবন ধারণের জন্য পেয়ে চলেছে, এসবের মূলে আল্লাহ্‌র অদৃশ্য শক্তি কাজ করছে। জ্ঞানীরা সব সত্যকে স্বীকার করে। আর অজ্ঞরা সত্যকে নিয়ে নিরর্থক আলোচনা করে। তাই আল্লাহ্‌ জ্ঞানীদের পথকে সহজ সরল করেন এবং তাদের সাথে তিনি থাকেন।
    ৯২) এ কিতাব (কুরআন) কল্যাণময় করে অবতরণ করেছি, যা ওর পূর্বেকার কিতাবের সমর্থক এবং যা দিয়ে তুমি মক্কা ও তার পার্শ্ববর্তী লোকদের সতর্ক কর। যারা পরকালে বিশ্বাস করে তারা ওতে (কুরআনে) বিশ্বাস করে এবং তারা তাদের নামাযের হেফাজত করে।
  মর্মার্থঃ—জ্ঞানীদের কাছে কুরআনের আলো পরম কল্যাণময়। তাই তারা পূর্ববর্তী সমস্ত ঐশীকিতাবের মর্যাদা রক্ষা করে, কুরআনের আলোকে সবার মাঝে তুলে ধরে।
     ৯৩) আর যে আল্লাহ্‌ সম্বন্ধে মিথ্যা রচনা করে কিংবা বলে, আমার নিকট প্রত্যাদেশ হয়, যদিও তার প্রতি প্রত্যাদেশ হয় না এবং সে বলে, আল্লাহ্‌ যা অবতরণ করেছেন আমিও সেরূপ অবতরণ করব তার চেয়ে বড় যালিম আর কে? এবং যদি তুমি দেখতে পেতে যখন যালিমগণ মৃত্যু যন্ত্রণায় থাকবে আর ফিরিশতাগণ হাত বাড়িয়ে বলবে, তোমাদের প্রাণ বের কর, তোমরা আল্লাহ্‌ সম্বন্ধে অন্যায় বলতে ও তাঁর নিদর্শন সম্বন্ধে ঔদ্ধত্য প্রকাশ করতে, সেজন্য আজ তোমাদেরকে অবমাননাকর শাস্তি দেয়া হবে।
     মর্মার্থঃ—মিথ্যাকে মিথ্যা বলেই জ্ঞানীরা বাতিল করে ও সত্যকে সত্য বলেই তারা তা গ্রহণ করে। জ্ঞানীরা মৃত্যু যন্ত্রণার মধ্যেও আল্লাহ্‌র আনন্দধারায় প্রবাহিত নদীকে দেখতে পায়, তাই তাদের কাছে এই পার্থিব দেহের জ্বালা যন্ত্রণা দুঃখদায়ক হয় না। আর অজ্ঞরা এর বিপরীত দিকে ধাবিত হয়।
     ৯৪) তোমরা আমার নিকট নিঃসঙ্গ অবস্থায় এসেছ যেমন প্রথমে তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছিলাম, তোমাদেরকে যা দিয়েছিলাম তা তোমরা পশ্চাতে ফেলে এসেছ, তোমরা যাদের শরিক করতে সেই সুপারিশকারিগণকেও তোমাদের সাথে দেখছি না। তোমাদের মধ্যকার সম্পর্ক অবশ্য ছিন্ন হয়েছে এবং তোমরা যা ধারণা করেছিলে তাও নিষ্ফল হয়েছে।
    মর্মার্থঃ—এখানে সবায় নিঃসঙ্গ অবস্থায় আসে এবং সেই অবস্থাতেই ফিরে যায়। তাহলে কে তাদের সঙ্গে যায়, এই চিন্তা করলেই মানুষ সঠিক উত্তর পেয়ে যাবে, তখন আর কেউ আল্লাহ্‌র শরিক বানাতে যাবে না।
     ৯৫) নিশ্চয় আল্লাহ্‌ শস্যবীজ ও আঁটি অংকুরিত করেন। তিনিই প্রাণহীণ হতে জীবন্তকে নির্গত করেন এবং জীবন্ত হতে প্রাণহীণকে নির্গত করেন। এ তো আল্লাহ্‌, সুতরাং তোমরা কোথায় ফিরে যাবে?  
   মর্মার্থঃ—জ্ঞানী এই পৃথিবীর বুকে জন্ম- মৃত্যুর লীলাখেলা দেখে যায়, কোন শক্তিবলে সবায় প্রাণবন্ত হয়ে উঠছে, আবার কোন শক্তি বলে প্রাণবন্তরা পুনঃ প্রাণহীন হয়ে যাচ্ছে। এর শক্তির মধ্যেই জ্ঞানীরা আল্লাহ্‌ প্রদত্ত বহু নিদর্শন দেখতে পায়।
    জয় বিশ্বমানব শিক্ষা ও পবিত্র কুরআনের জয়।  

No comments:

Post a Comment