বিশ্বমানব শিক্ষায় পবিত্র কুরআনের আলো। [
সুরা—৬ আন’আম—৭১ থেকে ৭৫ আয়াত।]
৭১) বল, আল্লাহ্ ব্যতীত আমরা কি এমন কিছুকে
ডাকব, যা আমাদের কোন উপকার কিংবা অপকার করতে পারে না? আল্লাহ্ আমাদেরকে সৎপথ
প্রদর্শনের পর আমরা কি সেই ব্যক্তির ন্যায় পূর্বাবস্থায় ফিরে যাব, যাকে শয়তান
পৃথিবীতে পথ ভুলিয়ে হয়রান করেছে? যদিও তার সহচরগণ তাকে ঠিকপথে আহ্বান করে বলে, আমাদের
নিকট এস। বল, আল্লাহ্র পথই পথ এবং আমরা বিশ্ব জগতের প্রতিপালকের নিকট আত্মসমর্পণ
করতে আদিষ্ট হয়েছি।
মর্মার্থঃ—আমরা যতক্ষণ না নিজেকে বিশ্ব
জগতের প্রতিপালকের প্রতিনিধি ভাবতে না শিখবো ততক্ষণ আমাদের অন্তর থেকে সংকীর্ণ ভাব
দূরীভূত হবে না। আর সংকীর্ণ ভাব দূরীভূত না হলে অন্তরে জ্ঞানের প্রদীপ জ্বলবে না।
অন্ধকার জগতে থাকলে মানুষকে জাগতিক বস্তুকেই সত্য বলে মনে হয় এবং অন্তর থেকে সেই
সব বস্তুকেই পাবার আশা করে মানুষ সেই সব বস্তুর মূর্তিকেই ডাকে।
৭২) এবং
নামায আদায় কর এবং তাঁকে ভয় কর এবং তাঁরই নিকট তোমাদেরকে সমবেত করা হবে।
মর্মার্থঃ—জীবন সত্যকে জানার জন্যে নামাযের
মাধ্যমে নিজের অন্তর্জগৎ ও বহির্জগতকে নিয়ন্ত্রণ কর এবং তাঁকে অন্তরে জাগ্রত করে
রাখো। তিনি অন্তরে জাগ্রত থাকলেই ভয় হবে যেকোন অন্যায় কাজকর্ম করতে এবং অন্তর
থেকেই জানতে পারবে তাঁরই নিকট সকলকে সমবেত করা হবে।
৭৩) তিনিই যথাবিধি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী
সৃষ্টি করেছেন, যখন তিনি বলেন, ‘হও’ তখনই হয়ে যায়। তাঁর কথায় সত্য। যেদিন শিংগায়
ফুঁৎকার দেয়া হবে সেদিনকার কর্তৃত্ব তো তাঁরই, অদৃশ্য ও দৃশ্য সব কিছু সম্বন্ধে
তিনি পরিজ্ঞাত, এবং তিনি প্রজ্ঞাময়, সবিশেষ অবহিত।
মর্মার্থঃ—তাঁর সুর বা ডাক কানে এলেই সব
পরিষ্কার হয়ে যাবে। তিনি প্রজ্ঞাময় হয়ে সদায় তোমার অন্তরে জাগ্রত হয়ে সবকিছু
দেখছেন।
৭৪) স্মরণ কর, ইব্রাহিম তার পিতা আজরকে
বলেছিল, আপনি কি মূর্তিকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করেন? আমি তো আপনাকে ও আপনার সম্প্রদায়কে
স্পষ্ট ভ্রান্তিতে দেখছি।
মর্মার্থঃ—ইব্রাহীম তাঁর পিতাকে জাগতিক
স্বপ্নে বিভোর থাকতে দেখে বলেছিলেন, এই স্বপ্ন ভেঙ্গে অর্থাৎ মূর্তি ভেঙ্গে
ভ্রান্তি থেকে মুক্ত হন।
৭৫) এভাবে ইব্রাহীমকে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর
পরিচালন ব্যবস্থা দেখাই, যাতে সে নিশ্চিত বিশ্বাসীদের অন্তর্ভুক্ত হয়।
মর্মার্থঃ—আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীকে যিনি পরিচালিত
করেন, একমাত্র তিনিই সকলের উপাস্য, তিনি সকলের অন্তরে বিরাজ করছেন উপাস্যরূপে। তাই
নিজের প্রতি বিশ্বাস রেখে কেবল তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কর্ম-ই হচ্ছে তাঁকে ডাকা ও
তাঁর উপাসনা করা।
জয় বিশ্বমানব শিক্ষা ও পবিত্র কুরআনের জয়।
No comments:
Post a Comment