বিশ্বমানব শিক্ষায় পবিত্র কুরআনের
আলো। [ সুরা—৬ আন’আম –১০৬ থেকে ১১০ আয়াত।]
১০৬) তোমার প্রতিপালকের নিকট
হতে তোমার প্রতি যা প্রত্যাদেশ হয় তুমি তারই অনুসরণ কর, তিনি ব্যতীত অন্য কোন
উপাস্য নেই, এবং মুশরিকদের থেকে দূরে থাক।
মর্মার্থ-- প্রত্যেক মানুষ তার প্রতিপালকের নিকট থেকে
প্রত্যাদেশ পেতে থাকে নিজের চরিত্রকে সবার উপযোগী করে তোলার জন্য। কিন্তু মানুষ
নিজের অজ্ঞতার জন্য তা পালন না করে অন্যের ভাল- মন্দের অনুকরণ করতে যায়। নিজের
প্রতিপালককে ছেড়ে যারা অন্যের উপাসনা করতে যায় তারাই অনুকরণ প্রিয় হয়ে নিজের জ্ঞান
ও শক্তি হারিয়ে ফেলে পথভ্রষ্ট হয়ে পড়ে।
১০৭) আর আল্লাহ্ যদি ইচ্ছা
করতেন তবে তারা শরিক স্থাপন করত না এবং তোমাকে তাদের জন্য রক্ষক নিযুক্ত করিনি, আর
তুমি তাদের অভিভাবকও নও।
মর্মার্থঃ—নিজের জীবনের
পবিত্রতা নিজেকেই রক্ষা করে নিজের চরিত্র নিজেকেই গড়ে তুলতে হয়। আল্লাহ্ ইচ্ছা
করলে সকলকে একই চরিত্রের মানুষ তৈরি করতে পারতেন। যেমন তিনি অধিকাংশ জীবকেই একই
চরিত্রের গড়ে তুলেছেন। প্রত্যেক মানুষের নিজস্ব জ্ঞান- বুদ্ধি আছে, সেই জ্ঞান বুদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে মানুষকে
আত্মরক্ষা করতে হয়। কেউ কাউকে রক্ষা করতে পারে না কারও রক্ষক হয়ে, তাই কেউ কারো
অভিভাবকও নয়। নিজের অন্তরের আল্লাহ্ জাগ্রত করে তাঁকেই যারা অভিভাবক মনে করে তাঁর
নির্দেশিত পথে চলে তাঁরাই বুদ্ধিমান।
১০৮) এবং তারা আল্লাহ্কে ছেড়ে যাদেরকে ডাকে তাদের তোমরা গালি দেবে না,
কেননা, তারা ( সীমালংঘন করে) অজ্ঞানতাবশতঃ আল্লাহ্কেও গালি দেবে। এভাবে প্রত্যেক
জাতির দৃষ্টিতে তাদের কার্যকলাপ সুশোভন করেছি, অতঃপর, তাদের প্রতিপালকের নিকট
তাদের প্রত্যাবর্তন, অনন্তর তিনি তাদের কৃতকর্ম সম্বন্ধে তাদের অবহিত করবেন।
মর্মার্থঃ--- যারা নিজের
আল্লাহ্কে ছেড়ে অন্যকে ডাকে তাদেরকে গালাগালি দেওয়ার কোন প্রয়োজন নেই। কাউকে
গালাগালি দেওয়ার অর্থ নিজের আল্লাহ্কে গালি দেওয়া। সবায়কে নিজের কর্মফল নিয়ে ফিরে
যেতে হবে। তাই নিজেকে সর্ব অবস্থাতেই পবিত্র রাখতে হয়।
১০৯) আর তারা আল্লাহ্র নামে কঠিন শপথ করে বলে,
তাদের নিকট যদি কোন নিদর্শন আসত তবে অবশ্যই তারা ওতে বিশ্বাস করত। বল, নিশ্চয়ই
নিদর্শন সমূহ তো আল্লাহ্র এখতিয়ারভুক্ত। এবং তাদের নিকট নিদর্শনাবলী এলেও তারা যে
বিশ্বাস করবে না, এটা কিভাবে তোমাদেরকে বোধগম্য করানো যাবে?
মর্মার্থঃ—যারা আল্লাহ্র
নিদর্শন দেখতে চায়, তাদের উচিত আগে নিজের নিদর্শন খুঁজে বের করা। যারা নিজেকে
জেনেছে তারাই কেবল আল্লাহ্র নিদর্শনে বিশ্বাসী হয়ে সর্বত্র তাঁর নিদর্শন দেখতে
পায়। অবিশ্বাসী, অজ্ঞ ও পাষণ্ডদের কাছে আল্লাহ্ সরাসরি নিদর্শন পাঠালেও তারা তা
বিশ্বাস করবে না। কারণ তাদের অন্তর হচ্ছে অবিশ্বাসী।
১১০) এবং তারা যেমন প্রথমবারে বিশ্বাস করেনি
তেমনি আমিও তাদের অন্তরে ও নয়নে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করব এবং তাদের অবাধ্যতায়
উদভ্রান্তের ন্যায় ঘুরে বেড়াতে দেব।
মর্মার্থঃ—অবিশ্বাসী, অজ্ঞ,
পাষণ্ডেরা চিরকাল উদভ্রান্তের ন্যায় ঘুরে বেড়াবে নিজেদের অবিশ্বাসী অন্তর নিয়ে।
জয় বিশ্বমানব শিক্ষা ও পবিত্র
কুরআনের আলোর জয়।
No comments:
Post a Comment