জয় বিশ্বমানব শিক্ষায় পবিত্র কুরআনের আলো। [ সুরা—৬
আন’আম—৫৬ থেকে ৬০ আয়াত।]
৫৬) বল, তোমরা
আল্লাহ্ ব্যতীত যাদের আহ্বান কর নিশ্চয় তাদের ‘ইবাদত করতে আমাকে নিষেধ করা হয়েছে।
বল, আমি তোমাদের খেয়াল- খুশির অনুসরণ করি না, করলে আমি বিপথগামী হব এবং
সৎপথপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত থাকবনা।
মর্মার্থঃ—মানুষ যখন আল্লাহ্ ব্যতিরেকে নিজের কামনা—বাসনা দ্বারা এই জগতের
রূপের ইবাদত করতে থাকবে তখনি সে আবদ্ধ জীব হয়ে পড়বে, আর তার অন্তর থেকে মুক্ত
চিন্তা জেগে উঠবে না। দিন দিন কামনা বাসনার আগুন বৃদ্ধি পেয়ে জ্বলতেই থাকবে বেশী
উজ্জ্বল হয়ে অন্তরে। তাই মানুষের কখনও উচিত নয় নিজের মনের খেয়াল—খুশির অনুসরণ করা।
যদি কেউ নিজের ধর্মগ্রন্থের উপদেশ না মেনে নিজে নিজে ধর্ম ও উপাস্য দেবতা তৈরি করে
নেয়, তবে তো সে বিপথগামী হবে এবং সৎপথ প্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকবে না।
৫৭) বল, আমি
আমার প্রতিপালকের স্পষ্ট প্রমাণের উপর নির্ভরশীল,অথচ তোমরা ঐটিকে প্রত্যাখ্যান
করেছ, তোমরা যা সত্বর চাচ্ছ --তা আমার নিকট নেই, কর্তৃত্ব তো আল্লাহ্রই, তিনি সত্য
বিবৃত করেন এবং মীমাংসাকারীদের মধ্যে তিনিই শ্রেষ্ঠ।
- মর্মার্থঃ—গাছ লাগিয়ে যারা সাথে সাথে
গাছের কাছে ফল চায়, তারা মূর্খ। আর যারা ভবিষ্যৎ দেখতে পায় তারাই বিশ্বাসী হয়ে
বৃক্ষের সেবা যত্ন করে। তাই তারা আল্লাহ্র সত্য নিদর্শনকে কখনও অবিশ্বাস করে
প্রত্যাখ্যান করে না। আল্লাহ্ ফলদাতা হয়ে মীমাংসা করে দেন এবং তিনিই মীমাংসাকারীদের
মধ্যে শ্রেষ্ঠ।
৫৮) বল,
তোমরা যা সত্বর চাচ্ছ তা যদি আমার নিকট থাকত তবে আমার ও তোমাদের মধ্যকার ব্যাপারে
তো মীমাংসাই হয়ে যেত, এবং আল্লাহ্ অনাচারীদের সম্বন্ধে সবিশেষ অবহিত।
মর্মার্থঃ--- যাদের ধৈর্য নেই তারা জ্ঞান লাভ করতে পারে না। আল্লাহ্
অনাচারী ও অত্যাচারীদের বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে তাদেরকে আরও নীচুগামী লোভী ও
কদাচারী করে তোলেন।
৫৯)
তাঁরই নিকট অদৃশ্যের চাবি রয়েছে, তিনি ব্যতীত অন্য কেউ তা জানে না। জলে- স্থলে যা
কিছু আছে তা তিনিই অবগত, তাঁর অজ্ঞাতসারে একটি পাতাও পড়ে না, মৃত্তিকার অন্ধকারে
এমন কোন শস্যকণাও অংকুরিত হয় না, অথবা রসযুক্ত কিংবা শুষ্ক এমন কোন বস্তু নেই যা
সুস্পষ্ট কিতাবে (কুরআনে) নেই।
মর্মার্থঃ—আল্লাহ্র কাছেই অদৃশ্যের চাবি- কাঠি। জলে- স্থলে- অন্তরীক্ষে যা
কিছু আছে তাদের সবার বিষয়ে তিনি সবই অবগত আছেন। তাঁর অজ্ঞাতসারে একটা গাছের পাতাও
খসে না। যা কিছু হয়েছিল—যা কিছু হচ্ছে ও যা কিছু হবে, সবই তাঁর নির্দেশক্রমে। আর
সেসব বিষয়ে সবকিছুই কিতাবে সুস্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ করা আছে।
৬০)
তিনিই রাত্রিকালে তোমাদের ঘুম আনয়ন করেন এবং দিবসে তোমরা যা কর তা তিনি জানেন,
অতঃপর দিবসে তোমাদের তিনি পুনরায় জাগরিত করেন যাতে নির্ধারিতকাল পূর্ণ হয়। অতঃপর
তাঁর দিকেই তোমাদের প্রত্যাবর্তন, অনন্তর তোমরা যা কর সে সম্বন্ধে তোমাদেরকে তিনি
অবহিত করবেন।
মর্মার্থঃ---
এই পৃথিবীর বুকে সৃষ্টিকাল হচ্ছে দিন, তারপর সৃষ্টি গুটিয়ে নিলেই হয় রাত্রি।
রাত্রি শেষে বিচার সভার পরে আবার সৃষ্টি বা দিন। এই রহস্য কেবল তিনিই জানেন।
জয় বিশ্বমানব
শিক্ষা ও পবিত্র কুরআনের আলোর জয়।

No comments:
Post a Comment