Monday, 10 September 2018

কুরআন সুরা-- ৬ আন'আম -- ৪৬ থেকে ৫০ আয়াত

        বিশ্বমানব শিক্ষায় পবিত্র কুরআনের আলো। [ সুরা—৬ আন’আম – ৪৬ থেকে ৫০ আয়াত।]
      ৪৬) বল, তোমরা কি ভেবে দেখেছ, আল্লাহ্‌ যদি তোমাদের শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নেন এবং তোমাদের হৃদয় মোহর করে দেন, তবে আল্লাহ্‌ ব্যতীত কোন উপাস্য আছে যে তোমাদেরকে সেগুলো ফিরিয়ে দেবে? কিরূপে কথাগুলো নানাভাবে বর্ণনা করি। এতদসত্ত্বেও তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়।
       মর্মার্থঃ—মানুষকে সদায় সতর্ক হয়ে চলা উচিত এবং চিন্তা করে দেখা উচিত, কে তার এই দেহে সূর্যের ন্যায় উজ্জ্বল চক্ষু এবং সবকিছু শোনার জন্য কর্ণ এবং মহাকাশের ন্যায় বিশাল হৃদয় দিয়েছেন? যিনি এগুলো সৎ কর্ম করার জন্য দিয়েছেন, তিনি যদি সেগুলো কেড়ে নেন তবে তার কি অবস্থা হতে পারে? তিনি এগুলি যে শক্তিবলে দিয়েছেন, সেই শক্তিবলে তার কেড়ে নিতে মুহূর্ত মাত্র সময় লাগবে না। আল্লাহ্‌ মানব জাতিকে যত সহজ সরল ভাবে শিক্ষা দিয়েছেন এবং তাঁর বাক্যকে বিস্তারিত ভাবে ব্যখ্যা করে বলেছেন, তাতে মানব জাতির মুখ ফিরিয়ে থাকার কথা নয়। তবুও দেখা যায় তারা সত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।
         ৪৭) বল, তোমরা কি ভেবে দেখেছো, আল্লাহ্‌র শাস্তি অকস্মাৎ অথবা প্রকাশ্যে তোমাদের উপর আপতিত হলে অনাচারী সম্প্রদায় ব্যতীত আর কে ধ্বংস হবে?
          মর্মার্থঃ—যখন এই পৃথিবীর অনাচারী সম্প্রদায়ের অত্যাচার মানুষ, জীব জন্তু গাছপালা সবার উপরে প্রভাব বিস্তার করে, তখনি প্রকৃতি ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে এবং আল্লাহ্‌র শাস্তিও প্রকৃতিকে রক্ষা করার জন্য এই অনাচারী সম্প্রদায়ের উপর এসে পড়ে। যারা আল্লাহ্‌র আশ্রয়ে থেকে কাল অতিবাহত করে তাদের উপর কালের প্রভাব পড়ে না।
       ৪৮) রসূলগণকে তো শুধু সুসংবাদবাহী ও সতর্ককারীরূপেই প্রেরণ করি, কেউ বিশ্বাস করলে ও নিজেকে সংশোধন করলে তার কোন ভয় নেই এবং সে দুঃখিতও হবে না।
           মর্মার্থঃ—আল্লাহ্‌ প্রেরিত রসূলগণ তাঁর নির্দেশ অনুসারে কেবল সুসংবাদ দিয়ে মানুষকে সতর্ক করে চলে যান। তারপরে মানুষ যদি সত্যকে বিশ্বাস করে নিজের স্বভাব ও চরিত্রের সংশোধন করে,  তবে তাদের কোন ভয় থাকবে না ও তাদেরকে কোন দুঃখও স্পর্শ করতে পারবে না। কিয়ামতও আল্লাহ্‌কে দেখে ভয় করে, তাই তাঁর আশ্রয়ে যারা থাকে তাদেরকে কালও স্পর্শ করতে পারে না।
        ৪৯) যারা আমার নিদর্শনকে মিথ্যা বলেছে সত্য ত্যাগের জন্য তাদের উপর শাস্তি আপতিত হবে।
                 মর্মার্থঃ—জীবন ও জীবনকে ধারণ করে রাখার জন্য যত সামগ্রী সবই আল্লাহ্‌র দান ও নিদর্শন। তাঁর দানকে উপেক্ষা করে কারও সামান্য নড়া- চড়া করারও ক্ষমতা নেই। তাঁর দানকে উপেক্ষা করে যারা অহংকার প্রদর্শন করে তাঁর সত্যকে ত্যাগ জীবন পথে চলে তাদের উপর কখন শাস্তি নেমে আসবে তা তারা জানে না, কিন্তু আল্লাহ্‌ সব দেখে চলেছেন।
       ৫০) বল, আমি তোমাদেরকে এ বলি না যে, আমার নিকট আল্লাহ্‌র ধন ভাণ্ডার আছে, অদৃশ্য সম্বন্ধেও আমি অবগত নই, এবং তোমাদেরকে এ কথাও বলি না যে, আমি ফিরিশতা, আমার প্রতি যা প্রত্যাদেশ হয় আমি শুধু তারই অনুসরণ করি। বল, অন্ধ ও চক্ষুষ্মান কি সমান? তোমরা কি অনুধাবন কর না।
   মর্মার্থঃ—সকলেই আল্লাহ্‌র ধন ভাণ্ডারের মালিক ও অদৃশ্য শক্তির অধিকারী। কিন্তু অন্ধ ও চক্ষুষ্মান সমান নয়। যারা নিজের চক্ষু দিয়ে সত্যকে খুঁজে নিয়ে দেখতে জানে, আপন করে নিতে জানে, তারাই তো জন্মান্ধতা রোগ থেকে মুক্ত হয়ে মৃতদের মধ্যে থেকে জেগে উঠে এবং আল্লাহ্‌র বাণী শুনতে পায় এবং সেই আহ্বানকে অনুসরণ করে এগিয়ে চলে তাঁর দিকে।
    জয় বিশ্বমানব শিক্ষা ও পবিত্র কুরআনের আলোর জয়।  

No comments:

Post a Comment