Saturday, 11 August 2018

কুরআন সুরা--৪ নিসা ১৬ থেকে ২০ আয়াত

    বিশ্বমানব শিক্ষায় পবিত্র কুরআনের আলো। [ সুরা—৪ নিসা—১৬ থেকে ২০ আয়াত।]
      ১৬) আর তোমাদের মধ্যে যে দু’জন এতে (ব্যভিচারে) লিপ্ত হবে তাদের উভয়কে শাস্তি দেবে, তবে যদি তারা তওবা করে এবং সংশোধন করে নেয় তবে রেহাই দেবে। নিশ্চয় আল্লাহ্‌ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
       মর্মার্থঃ—যারা জ্ঞান দ্বারা নিজের অন্তর্জগৎ ও বহির্জগৎ পবিত্র রাখার কৌশল জানে না, তাদের মন সদায় ব্যভিচারে লিপ্ত হবার কামনা করে। এদের মনকে জ্ঞানের আলোতে আলোকিত করে সংযত করতে না পারলে মানব সমাজ ব্যভিচারে পরিপূর্ণ হয়ে যাবে। এজন্য যে দু’জন ব্যভিচারে লিপ্ত হবে তাদের উভয়কেই শাস্তি দিতে হবে। তারা যদি নিজের ভুল নিজে ধরতে পারে এবং নিজেদের চরিত্র সংশোধন করার অঙ্গীকার দেয় তবে শাস্তি থেকে রেহায় দিবে। আল্লাহ্‌ ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু হয়েই সকলকে সৎ পথে নিয়ে গিয়ে পবিত্র করতে চান।
      ১৭) আল্লাহ্‌ অবশ্যই সেই সব লোকের তওবা গ্রহণ করবেন যারা ভুল বশত মন্দ কাজ করে; এরাই তো তারা যাদের আল্লাহ্‌ ক্ষমা করেন। আল্লাহ্‌ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
       মর্মার্থঃ—যারা নিজের ভুল নিজে ধরতে পারে তারা অতি সহজেই নিজের প্রতিপালকের প্রিয় হয়ে উঠে। আল্লাহ্‌ সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাবান হয়ে সদায় এই সব ব্যক্তিদের সাহায্য করেন এবং সহজ সরল পথ দেখান।
     ১৮) (আজীবন) যারা মন্দ কাজ করে তাদের জন্য তওবা নয়, অবশেষে তাদের কারও মৃত্যু উপস্থিত হলে সে বলে,  আমি এখন তওবা করছি। আর যারা অবিশ্বাসী অবস্থায় মারা যায় তাদের জন্যও তওবা নয়। এরাই তো তারা, যাদের জন্য আমি যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির ব্যবস্থা করেছি।
       মর্মার্থঃ—যারা সৎ চিন্তা করতে পারে না তারা সৎ কর্ম করতেও সক্ষম নয়। তারা কেবল জীবনের বোঝা বহে ও মন্দ কাজ করেই মরে। এরা নিজের অন্তরের পবিত্র শক্তিকে বিশ্বাস না করায় সারা জীবন অবিশ্বাসী ও অপবিত্র অবস্থায় থেকে যায়। এদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে কোন লাভ নেই। এরা নিজের যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির ব্যবস্থা নিজেরাই করে রেখেছে।
      ১৯) হে বিশ্বাসীগণ! জোরজবরদস্তি করে নারীদেরকে তোমাদের উত্তরাধিকার গণ্য করা বৈধ নয়; তোমরা তাদের যা দিয়েছ তা থেকে কিছু আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে তাদের উৎপীড়ন করো না। যদি না তারা প্রকাশ্যে ব্যভিচার করে তাদের সাথে সৎভাবে জীবন যাপন করবে; তোমরা যদি তাদের ঘৃণা কর তবে এমন হতে পারে যে, আল্লাহ্‌ যাতে প্রভূত কল্যাণ রেখেছেন তোমরা তাকে ঘৃণা করছো।
      মর্মার্থঃ—নিজের স্ত্রী হোক বা সমাজের যে কোন নারী হোক তাদের স্বাধীনতা হরণ করা বা তাদের ঘৃণা করা, অবিশ্বাস করা অপরাধ। তাদের মধ্যে যে শক্তি আছে তার জাগরণ না ঘটলে মানব সমাজে প্রকৃত কল্যাণ আসতে পারে না। অন্তরের শক্তির জাগরণ ঘটাতে গিয়ে নারীদেরকেও নিজের জীবন নিয়ে গবেষণা করতে হয়, এবং বিশাল মনকে নিয়ে ছূটে যেতে হয় বিশালত্বের সাথে ঘর বাঁধার জন্য। তাই সমাজ যাকে ঘৃনা করে আল্লাহ্‌ সেই ঘৃণার মধ্যেই তাঁর প্রভুত কল্যাণ লুকিয়ে রাখেন এবং সময় হলেই তা বর্ষণ করেন।
       ২০) আর যদি এক স্ত্রীর স্থলে অন্য স্ত্রী গ্রহণ করা স্থির কর এবং তাদের একজনকে প্রচুর অর্থও দিয়ে থাক, তবুও তা থেকে কিছুই গ্রহণ করো না, তোমরা কি মিথ্যা অপবাদে এবং প্রকাশ্য পাপাচরণ দ্বারা তা গ্রহণ করবে?
      মর্মার্থঃ—নিজ স্বার্থ ও সুখের কথা চিন্তা করে যদি কাউকে প্রচুর অর্থও দিয়ে থাকো তবে তা ফিরে পাবার আশা করা অন্যায়। এতে নিজেকেই মিথ্যা অপবাদে জড়িয়ে যেতে হয় এবং প্রকাশ্য পাপাচরণ করার অপবাদ নিয়ে জীবন কাটাতে হয়। তাই মানুষের উচিত নিজের জ্ঞান- বুদ্ধি- বিবেকের উপর ভর করে, ভুত- ভবিষ্যৎ ও বর্তমান পরিস্থিতির কথা চিন্তা করে পথ চলা। বর্তমান জীবনের পথ চলার উপর নির্ভর করবে তার ভবিষ্যৎ জীবন ও পরকালের জীবন।
   জয় বিশ্বমানব শিক্ষা ও পবিত্র কুরআনের আলোর জয়।

No comments:

Post a Comment