বিশ্বমানব
শিক্ষায় পবিত্র কুরআনের আলো। [ সুরা—৫ মায়িদাহ—৫৬ থেকে ৬০ আয়াত।]
৫৬) এবং যে
কেউ আল্লাহ্, তাঁর রসূল এবং বিশ্বাসীদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করবে, নিশ্চয় আল্লাহ্র
দল বিজয়ী হবে।
মর্মার্থঃ—আল্লাহ্,
তাঁর রসূল এবং বিশ্বাসীগণ কখনও মানুষকে মন্দ কাজ করার পরামর্শ ও মন্দ পথে এগিয়ে
যাবার উপদেশ দিবেন না। তাই যারা তাঁদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করবে তাদের কোন চিন্তার
কারণ থাকবে না। নিশ্চয় সত্যের জয় হবে ও আল্লাহ্র দল বিজয়ী হবে।
৫৭) হে
বিশ্বাসীগণ! তোমাদের পূর্বে যাদের কিতাব দেয়া হয়েছে তাদের মধ্যে যারা, তোমাদের
ধর্মকে হাসি তামাসা ও ক্রীড়ার বস্তুরূপে গ্রহণ করে, তাদের ও অবিশ্বাসীদের তোমরা
বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। এবং যদি তোমরা বিশ্বাসী হও তবে আল্লাহ্কে ভয় কর।
মর্মার্থঃ—হাজার
অবিশ্বাসী, অজ্ঞ, সংশয়ী চিত্ত বন্ধু অপেক্ষা একজন জ্ঞানী বিশ্বাসী বন্ধু অনেক
শ্রেয়। যারা তোমার বিশ্বাসকে আঘাত দিবে, হাসি, তামাসা ও ক্রীড়ার বস্তু মনে করবে,
তাদের থেকে তুমি তফাৎ- এ থাকবে, কখনো তাদেকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করে নিজের গোপন কথা
জানাবে না। আল্লাহ্কে ভয় করে তাঁকেই বন্ধুরূপে গ্রহণ করবে এবং অন্তর্জগৎ ও
বহির্জগৎ সত্যজ্ঞানের দ্বারা শাসন করে নিয়ন্ত্রণে রাখবে।
৫৮) আর তোমরা যখন নামাযের জন্য আহ্বান কর তখন
তারা ওকে (আযানকে) হাসি তামাসা ও ক্রীড়ার বস্তুরূপে গ্রহণ করে। কেননা এরা এমন এক
সম্প্রদায় যাদের বোধশক্তি নেই।
মর্মার্থঃ—তোমরা যখন মানুষকে সৎকর্মানুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য মানুষকে
আহ্বান কর তখন দেখবে এই বোধশক্তিহীন মানুষেরা এ নিয়ে ঠাট্টা তামাসা করে। তারা
নিজেও ভাল কাজ করবে না আর কেউ করতে গেলেও উৎসাহ দিবে না, এরা এমনি এক বোধশক্তিহীন
সম্প্রদায়।
৫৯) বল,
হে আসমানী গ্রন্থধারীগণ! আমরা আল্লাহ্তে ও আমাদের প্রতি অবতীর্ণ যা অবতীর্ণ হয়েছে
তাতে বিশ্বাস করি, এ ছাড়া অন্য কারণে তোমরা আমাদের প্রতি বিরুদ্ধ ভাবাপন্ন নও, এবং
তোমাদের অধিকাংশই সত্যত্যাগী।
মর্মার্থঃ—প্রকৃতির
নিয়মে যারা সত্যে স্থির তাদের প্রতি বিরুদ্ধ ভাবাপন্ন হবেই সত্যত্যাগীরা। যারা
সত্যকে জানে না তারা সত্যের কি মহিমা ও শক্তি আছে তা উপলব্ধি করবে কিভাবে? আল্লাহ্
সত্য, তিনি সত্য হয়ে কেবল সত্যকেই অবতীর্ণ করেন নিজের বন্ধুদের জন্য। যারা তাঁর
সত্যকে পেয়েও তা গ্রহণ করে না তারাই সত্যত্যাগী হয়ে থেকে যায় চিরকাল আপন দোষে।
৬০) বল, আমি কি তোমাদেরকে এ অপেক্ষা নিকৃষ্ট
পরিণামের সংবাদ দেব যা আল্লাহ্র নিকট আছে? যাকে আল্লাহ্ অভিসম্পাত করেছেন, যার
উপর তিনি ক্রোধান্বিত, যাদের কতককে তিনি বানর ও কতককে শূকর করেছেন এবং যারা
সীমালংঘণকারীদের ‘ইবাদত করে মর্যাদায় তারাই নিকৃষ্ট এবং সরল পথ হতে সর্বাধিক
বিচ্যুত।
মর্মার্থঃ—মানুষ সীমালংঘনকারী হলে বা
সীমালংঘনকারীদের ইবাদত করলে, তারা আল্লাহ্র
অভিশাপে কখনো বানর যোনীতে বা কখনো শূকর যোনীতে জন্ম নিতে বাধ্য হবে। তাই মানব জনম
দুর্লভ জনম, এর অধঃপতন যাতে না হয়, সেজন্য সাবধানী হয়ে চলাটায় বিধেয়। পরকাল বা
পরের জীবনকে বিশ্বাস করেই এই জীবনেই মানুষকে প্রস্তুতি নিতে হয় নব জীবন সুন্দররূপে
গড়ে তোলার জন্য। ক্ষণস্থায়ী সুখ ভোগ করতে গিয়ে স্থায়ী পরকালের জীবনের সুখকে কখনও
ধ্বংস করা উচিত নয়।
জয় বিশ্বমানব
শিক্ষা ও পবিত্র কুরআনের আলোর জয়।


No comments:
Post a Comment