Saturday, 25 August 2018

কুরআন সুরা--৫ মায়িদাহ -- ৬ থেকে ১০ আয়াত



বিশ্বমানব শিক্ষায় পবিত্র কুরআনের আলো। [ সুরা—৫ মায়িদাহ—৬ থেকে ১০ আয়াত।]
    ৬) হে বিশ্বাসীগণ! যখন তোমরা নামাযের জন্য প্রস্তুত হবে তখন তোমরা তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাত কনুই পর্যন্ত ধৌত করবে এবং তোমাদের মাথায় হাত বুলাবে এবং পা গ্রন্থি পর্যন্ত ধৌত করবে, যদি তোমরা অপবিত্র থাক তবে বিশেষভাবে পবিত্র হবে। যদি তোমরা পীড়িত হও অথবা সফরে (প্রবাসে) থাক অথবা তোমাদের কেউ শৌচস্থান হতে আগমন করে, অথবা তোমরা স্ত্রীর সাথে মিলিত হও এবং পানি না পাও, তবে বিশুদ্ধ মাটি দ্বারা তায়াস্মুম করবে এবং তা তোমাদের মুখে ও হাতে বুলাবে, আল্লাহ্‌ তোমাদের কষ্ট দিতে চান না, বরং তিনি তোমাদেরকে পবিত্র করতে চান ও তোমাদের প্রতি তাঁর অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করতে চান, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন কর।
      মর্মার্থঃ—মানব দেহেই আল্লাহ্‌র বাসস্থান, এই সত্য জেনে নিজের জীবন্ত মসজিদকে সদায় পবিত্র রাখবে। এই মসজিদে বসেই আল্লাহ্‌র রূপ দেখতে হয়, যেমন আয়নাতে ময়লা থাকলে সেই আয়নাতে নিজের স্বচ্ছরূপ দেখা যায় না, তেমনি দেহ- মন- প্রাণ পবিত্র না থাকলে কেউ আল্লাহ্‌র স্বচ্ছরূপ নিজ হৃদয় মসজিদে দেখতে সক্ষম হয় না। বাইরের পবিত্রতার সাথে অন্তরের পবিত্রতার সম্পর্ক অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত, তাই পঞ্চজ্ঞানেন্দ্রিয় ও পঞ্চকর্মেন্দ্রিয়কে পবিত্র রেখেই মন – বুদ্ধি- অহংকারকে পবিত্র রাখতে হয়, যেকোন শুভ বা সৎ কর্ম অনুষ্ঠান সম্পূর্ণ করার জন্য। নামায মানব জীবনের এক সৎ প্রক্রিয়া, যার দ্বারা মানুষের দেহ- মন- প্রাণ পবিত্র হয় এবং মানবাত্মা আল্লাহ্‌র সাথে সেতু বন্ধন করতে সক্ষম হয়।
       ৭) তোমাদের প্রতি আল্লাহ্‌র অনুগ্রহ স্মরণ কর। এবং তোমরা যখন বলেছিলে, শ্রবণ করলাম ও মান্য করলাম তখন তিনি তোমাদেরকে যে অঙ্গীকারে আবদ্ধ করেছিলেন তাও স্মরণ কর এবং আল্লাহ্‌কে ভয় কর, নিশ্চয় আল্লাহ্‌ অন্তরে যা আছে সে সম্বন্ধে অবহিত।
        মর্মার্থঃ—প্রত্যেক মানুষের অন্তরের কথা আল্লাহ্‌ জানেন, অতএব মানুষের অন্তরের আশা- আকাঙ্ক্ষা যত উন্নত হবে তার আল্লাহ্‌ তাকে তেমনভাবেই গড়ে তোলার ব্যবস্থা করবেন, এটাই হচ্ছে মানুষের সাথে আল্লাহ্‌র অঙ্গীকার। মানুষ আল্লাহ্‌কে নিজের অভিভাবক মান্য করে, তাঁকে যত ভয় করে নিজের অন্তর্জগৎ ও বহির্জগৎ নিয়ন্ত্রিত করতে সক্ষম হবে ততই সে তাঁর জ্ঞান বিজ্ঞানের রাজত্বে পৌঁছাতে থাকবে। অতএব আল্লাহ্‌র স্মরণ ও মনন মানুষকে পবিত্র জ্ঞানী সত্তায় পরিণত করে।
        ৮) হে বিশ্বাসীগণ! আল্লাহ্‌র উদ্দেশ্যে ন্যায় সাক্ষ্যদানে তোমরা অবিচল থাকবে, কোন সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ তোমাদেরকে যেন কখনও সুবিচার না করতে প্ররোচিত না করে। সুবিচার কর, এটা আত্মসংযমের নিকটতর এবং আল্লাহ্‌কে ভয় কর, তোমরা যা কর আল্লাহ্‌ তার খবর রাখেন।
         মর্মার্থঃ—আল্লাহ্‌ যেমন সত্যের উপর ভর করেই আকাশ ও পৃথিবীর সবকিছু নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখে পরিচালনা করছেন, তেমনি তিনি মানুষকে শিক্ষা দিয়েছেন সত্যের উপর ভর করে আত্মসংযম রক্ষা করে সুবিচার করতে। কোন সম্প্রদায়ের উপর বিদ্বেষ ভাব থাকলে মানুষ সত্য থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ে ও সুবিচার করতে সক্ষম হয় না। মানুষ যা করে আল্লাহ্‌ তার খবর রাখেন, তাই তিনি কোন সাম্প্রদায়িক মনোভাবাপন্ন লোককে পছন্দ করেন না, আর তারা কখনও তাঁর রাজত্বে সুবিচার করতেও পারে না।
       ৯) যারা বিশ্বাস করে ও সৎকাজ করে আল্লাহ্‌ তাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তাদের জন্য ক্ষমা এবং মহাপুরষ্কার আছে।
        মর্মার্থঃ—যাদের নিজ অন্তরের আল্লাহ্‌র পূর্ণ শক্তির প্রতি বিশ্বাস আছে এবং সেই শক্তির উপর ভর করে সদায় সৎ চিন্তা ও সৎ কর্মে লিপ্ত থাকে তারা আল্লাহ্‌র নিকট থেকে মহাপুরষ্কার লাভ করবে।
      ১০) আর যারা অবিশ্বাস করে এবং আমার আয়াত (বাক্য) কে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে তারা প্রজ্জ্বলিত আগুনের অধিবাসী।
      মর্মার্থঃ—যারা নিজের অন্তরের আল্লাহ্‌র প্রতি অবিশ্বাসী তারা তো নিজের জীবনের প্রতিও অবিশ্বাসী। অবিশ্বাসী মানুষ কিভাবে সত্যকে বিশ্বাস করে জীবনের সাথে সত্যকে যুক্ত করবে? এই সমস্ত মানুষ পরাশান্তির জগতে বাস না করে সদায় আগুনের প্রদেশে বাস করে।
   জয় বিশ্বমানব শিক্ষা ও পবিত্র কুরআনের আলোর জয়।

No comments:

Post a Comment