বিশ্বমানব শিক্ষায় পবিত্র কুরআনের আলো। [ সুরা—৫ মায়িদাহ—৭১
থেকে ৭৫ আয়াত।]
৭১) আর তারা মনে করেছিল যে, তাদের কোন শাস্তি
হবে না, ফলে তারা অন্ধ ও বধির হয়ে গিয়েছিল। অতঃপর আল্লাহ্ তাদের প্রতি ক্ষমা পরবশ
হয়েছিলেন। পুনরায় তাদের অনেকেই অন্ধ ও বধির হয়েছিল এবং তারা যা করে আল্লাহ্ তার
দ্রষ্টা।
মর্মার্থঃ—জ্ঞানী- গুণী ও রসূলদের প্রতি অত্যাচারী ও হত্যাকারীরা মনে
করেছিল যে, তাদের কোন শাস্তি হবে না, আল্লাহ্ বলে কেউ নেই। কিন্তু আল্লাহ্ সবার
অন্তর্যামী, কে কি করে এবং কে কি চিন্তা করে সবকিছুর তিনি দ্রষ্টা। কে বাঁচবে
অন্যায় করে তাঁর ক্রোধের আগুন থেকে? মানুষ অন্যায় করলেই প্রকৃতির নিয়মেই তার মন, বুদ্ধি
ও অহংকারের প্রতি কুপ্রভাব পড়বে এবং সেই প্রভাবে তার পঞ্চজ্ঞানেন্দ্রিয় ও
পঞ্চকর্মেন্দ্রিয় বিকল হয়ে যেতে পারে। তাই পাপের ফলে অত্যাচারীরা অভিশপ্ত হয়ে অন্ধ
ও বধির হয়ে গিয়েছিল। অনুশোচনা এলে অনেক সময় মানুষ অভিশাপ মুক্ত হয়ে পুনঃ সুস্থ দেহ
মন ফিরে পায়।
৭২) যারা বলে, আল্লাহ্ই মারইয়াম পুত্র মসীহ,
তারা নিঃসন্দেহে অবিশ্বাসী, অথচ মসীহ বলেছিল, হে বনী ইস্রাঈল! তোমরা আমার
প্রতিপালক ও তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ্র ইবাদত কর। অবশ্য যে কেউ আল্লাহ্র সাথে
(কাউকে) শরীক করবে, নিশ্চয় আল্লাহ্ তার জন্য জান্নাত নিষিদ্ধ করবেন এবং জাহান্নাম
তার বাসস্থান। অত্যাচারীদের জন্য কোন সাহায্যকারী নেই।
মর্মার্থঃ—অত্যাচারীদের
জন্য আল্লাহ্ কোন সাহায্যকারী রাখেন নি। প্রত্যেক রসূল যদি আল্লাহ্ হতেন তবে
পৃথিবী আল্লাহ্তে ভরে যেত এবং অত্যাচারী দলে পৃথিবী ছেয়ে যেত। কারণ প্রত্যেক রসূল
আল্লাহ্কে বাদ দিয়ে নিজে তাঁর শরীক হয়ে সকলের ইবাদত গ্রহণ করত। প্রত্যেক রসূলের
অধীনে এক একটা ধর্ম ও সম্প্রদায় গড়ে উঠতো। ফলে সকলেই নিজের ধর্ম ও সম্প্রদায়কে
বাঁচাবার জন্য পথভ্রষ্ট হয়ে আল্লাহ্র বিরুদ্ধাচরণ করতেই অভ্যস্থ হয়ে পড়তো। যদিও
বিশ্বব্যাপী আল্লাহ্ ও রসূলগণ না চাইলেও এইটাই সৃষ্টি হয়েছে।
৭৩) যারা বলে, আল্লাহ্ তো তিনের মধ্যে একজন,
তারা নিশ্চয় অবিশ্বাসী। এক উপাস্য ভিন্ন অন্য কোন উপাস্য নেই। তারা যা বলে তা হতে
নিবৃত না হলে তাদের মধ্যে যারা অবিশ্বাস করেছে, তাদের উপর অবশ্যই যন্ত্রণাদায়ক
শাস্তি আপতিত হবে।
মর্মার্থঃ—আল্লাহ্র লক্ষ লক্ষ রূপ ও নাম আসতে পারে তাঁর জ্ঞান ও শক্তির
জগৎ থেকে কিন্তু তিনি এক, তাঁর রূপ ও নামে কোন ভেদ নেই। এক উপাস্য ভিন্ন অন্য কোন
উপাস্য নেই। যারা এই সত্য অবিশ্বাস করেছে, তারাই অত্যাচারী মনোভাব নিয়ে আল্লাহ্
বিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত হয়েছে।
৭৪) তবে কি তারা আল্লাহ্র দিকে প্রত্যাবর্তন
করবে না ও তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করবে না? বস্তুত আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
মর্মার্থঃ—আল্লাহ্
ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু, যারা সত্যকে জেনে সত্যের নিকট আত্মসমর্পণ করে তারাই আল্লাহ্র
নিকট থেকে জ্ঞান লাভ করে তাঁর দিকেই ফিরে যায়, বাকীরা পথভ্রষ্ট হয়ে বিভিন্ন দিকে
ঘুরে বেড়ায় ও কোন সাহায্যকারী খুঁজে পায় না।
৭৫) মারইয়াম পুত্র মসীহ তো কেবল একজন রসূল, তার
পূর্বে বহু রসূল গত হয়েছে এবং তার মাতা সত্যনিষ্ঠ ছিল। তারা উভয়ে খাদ্যাহার করত।
দেখো, ওদের জন্য আয়াত (বাক্য) কিরূপ বিশদভাবে বর্ণনা করি, আরও দেখ ওরা কিভাবে সত্য
বিমুখ হয়।
মর্মার্থঃ—মারাইয়াম
পুত্র মসীহ একজন রসূল ছিলেন, তাঁর পূর্বে বহু রসূল এই পৃথিবীর বুকে গত হয়েছেন।
রসূলদের কাজ চিরন্তন সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করে বিশ্বে শাস্তির বার্তা পৌঁছে দেওয়া।
যারা সত্য বিমুখ হয়ে থাকে তাদেরকে সত্যমুখী করে গড়ে উঠার জন্য সাহায্য সহযোগিতা
করা। কোন রসূল এই পৃথিবীর নতুন কোন ধর্মমতের বিধান দিয়ে ধর্ম প্রতিষ্ঠা করেন না।
জয়
বিশ্বমানব শিক্ষা ও পবিত্র কুরআনের আলোর জয়।

No comments:
Post a Comment