Saturday, 18 August 2018

কুরআন সুরা-- ৪ নিসা-- ৯১ থেকে ৯৫ আয়াত

   বিশ্বমানব শিক্ষায় পবিত্র কুরআনের আলো। [সুরা—৪ নিসা—৯১ থেকে ৯৫ আয়াত।]
   ৯১) অবশ্য তোমরা কিছু লোক পাবে, যারা তোমাদের সাথে ও তাদের সম্প্রদায়ের সাথে শান্তি চায়। যখনই তাদেরকে বিপর্যয়ের দিকে ফিরান হয়, তখনই এ ব্যাপারে তারা তাদের পূর্বাবস্থায় ফিরে যায়। যদি তারা তোমাদের নিকট হতে চলে না যায়, ( অর্থাৎ বিরোধিতা করে), তোমাদের নিকট শান্তি প্রস্তাব না করে এবং তাদের হস্ত সংবরণ না করে, তবে তাদের যেখানেই পাবে গ্রেফতার করবে ও হত্যা করবে এবং আমি তোমাদেরকে তাদের বিরুদ্ধাচরণের স্পষ্ট অধিকার দিয়েছি।
        মর্মার্থঃ—কপট বা মুনাফিক ব্যক্তিরা বড়ই হীনবলের হয়। এরা সুযোগ সন্ধানী লোক। এদের কাছ থেকে বিশ্বাসীদের দূরত্ব বজায় রেখে চলতে হয়। তাই নিজের দুর্বল চিত্তকে নিজের জ্ঞানরাজত্বে বন্দী করে সমস্ত প্রকার দুর্বলতাকে হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছেন আল্লাহ্‌ জেহাদের ময়দানে।
           ৯২) কোন বিশ্বাসীকে হত্যা করা কোন বিশ্বাসীর জন্য সংগত নয়, তবে ভুলবশত করলে তা স্বতন্ত্র। এবং কেউ কোন বিশ্বাসীকে ভুলবশত হত্যা করলে এক বিশ্বাসী দাস মুক্ত করা এবং তার পরিজনবর্গকে রক্তপন অর্পন করা বিধেয়, যদি তারা ক্ষমা না করে। যদি সে তোমাদের শত্রু পক্ষের লোক হয় এবং বিশ্বাসী হয় তবে এক বিশ্বাসী দাস মুক্ত করা বিধেয়আর যদি সে এমন এক সম্প্রদায়ভুক্ত হয় যার সাথে তোমরা চুক্তিবদ্ধ, তবে তার পরিজনবর্গকে রক্তপন অর্পন এবং এক বিশ্বাসী দাস মুক্ত করা বিধেয়, এবং যে সংগতিহীন সে একাধিক্রমে দুই মাস রোযা রাখবে। তওবার ( সংশোধনের) জন্য এ আল্লাহ্‌র বিধান। বস্তুত আল্লাহ্‌ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
       মর্মার্থঃ—আল্লাহ্‌ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময় তাঁর আশ্রয়ে থেকে জেহাদের ময়দানে যাতে কোন প্রকার অন্যায় কাজ না হয় সেজন্য সদা সাবধানে থাকার জন্যই এই আয়াত অবতীর্ণ হয়। অন্তরে সামান্য দুর্বলতা এলেই পাপ মানুষকে আচ্ছন্ন করে ফেলতে পারে, তাই সমস্ত প্রকার দুর্বলতাকে জ্ঞানরূপ অস্ত্র দ্বারা ছেদন করে সদায় বীরবেশে পবিত্ররূপে আল্লাহ্‌র সান্নিধ্যে থাকতে হয় জেহাদীদের। আলো যেমন অন্ধকার সৃষ্টি করে না, সে অন্ধকারকে বিলীন করে, তেমনি জেহাদীরা শত্রু সৃষ্টি করে না, তারা শত্রুকে ধ্বংস বা বিলীন করে।
      ৯৩) আর যে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কোন বিশ্বাসীকে হত্যা করবে তার শাস্তি জাহান্নাম(নরক),সেখানে সে চিরকাল থাকবে এবং আল্লাহ্‌ তার প্রতি রুষ্ট হবেন, তাকে অভিসম্পাত করবেন, এবং তার জন্য মহাশাস্তি প্রস্তুত করে রাখবেন।
       মর্মার্থঃ—যে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের অন্তরের বিশ্বাস ও পবিত্রতাকে হত্যা করবে, সেই আত্মহত্যা করার পাপে পাপী হয়ে নিজের জন্য জাহান্নাম নির্মান করবে, সেই জাহান্নামে সে চিরকাল থাকবে এবং আল্লাহ্‌ সহ সকলের অভিসম্পাত গ্রহণ করতে থাকবে। তাই মানুষকে নিজের পবিত্র রাজত্বের রাজা আল্লাহ্‌কে জেনে তাঁর নির্দেশ মেনেই ধর্মরাজ্য পরিচালনা করতে হয়।
       ৯৪) হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা যখন আল্লাহ্‌র পথে বের হবে তখন তদন্ত করে নেবে এবং কেউ তোমাদের মঙ্গল কামনা করলে বা শ্রদ্ধা জানালে, ইহজীবনের সম্পদের লোভে বলো না, তুমি বিশ্বাসী নও। কারণ আল্লাহ্‌র কাছে অনায়াসলভ্য সম্পদ প্রচুর রয়েছে। তোমরা তো পূর্বে এরূপই ছিলে, অতঃপর আল্লাহ্‌ তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন, সুতরাং তোমরা পরীক্ষা করে নেবে। তোমরা যা কর আল্লাহ্‌ সে বিষয়ে সবিশেষ অবহিত।
     মর্মার্থঃ—আল্লাহ্‌র পথে সংগ্রাম করতে বের হয়ে কে শত্রু আর কে মিত্র তা নিজের জ্ঞানচক্ষু দিয়ে আগে তদন্ত করে দেখে তবেই কাউকে শত্রু বা অবিশ্বাসী বলবে, নচেৎ তুমি নিজেই আল্লাহ্‌র শত্রু হয়ে যাবে। বিশ্বাসীরা আল্লাহ্‌র পথে সংগ্রামে বের হয় অবিশ্বাসীদের নির্মূল করার জন্য, অবিশ্বাসীর বীজ বপন করে তা সৃষ্টি করার জন্য নয়, তেমনি জেহাদিরা আল্লাহ্‌র শত্রুকে ধ্বংস করার জন্য যুদ্ধ করে, আল্লাহ্‌র শত্রু সৃষ্টি করার জন্য নয়। মানুষের অসৎ প্রবৃত্তিকে জ্ঞানাস্ত্র দ্বারা ধ্বংস করে সৎ প্রবৃত্তির প্রতিষ্ঠা করার জন্যই তোমরা আল্লাহ্‌র পথে সংগ্রামে বের হয়েছো, তা ভুলে যদি ইহ জগতের সম্পদের লোভে নিজের প্রতিষ্ঠার দিকে পা বাড়াও তবে তোমরা আল্লাহ্‌র ঘোর শত্রু হয়ে উঠবে। আল্লাহ্‌র ঘরে প্রচুর পরিমাণে পবিত্র সম্পদ রয়েছে যা তিনি তাঁর পথে সংগ্রামী পবিত্র সত্তাদের দেওয়ার জন্য গচ্ছিত রেখেছেন। তোমরা যাকিছু কর আল্লাহ্‌ সে সম্পর্কে পুরোপুরি অবহিত রয়েছেন।
      ৯৫) বিশ্বাসীদের মধ্যে যারা অক্ষম নয়, অথচ ঘরে বসে থাকে এবং আল্লাহ্‌র পথে স্বীয় ধন- প্রাণ দ্বারা জিহাদ করে তারা সমান নয়। যারা স্বীয় ধন- প্রাণ দ্বারা জিহাদ করে আল্লাহ্‌ তাদেরকে, যারা ঘরে বসে থাকে তাদের উপর মর্যাদা দিয়েছেন; আল্লাহ্‌ সকলকেই কল্যাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। যারা ঘরে বসে থাকে তাদের উপর যারা জিহাদ করে তাদেরকে আল্লাহ্‌ মহাপুরষ্কারের ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন।
    মর্মার্থঃ—যারা ঘর ছেড়ে মাঠে নেমে বিশ্বাসের বীজ বপন করে মানব সমাজকে জ্ঞানের আলোতে আলোকিত করে, আর যারা ঘরে বসে থাকে আর সেই ফসল ভোগ করে নিশ্চয় আল্লাহ্‌র কাছে এরা দুজন সমান হতে পারে না। সূর্যের আলো যেমন সকলকে সমানভাবে আলো দান করে, তেমনি আল্লাহ্‌ সকলকেই কল্যাণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকেন সমানভাবে। সূর্যের আলোকে যে যেমন খুশী কল্যাণ বা অকল্যাণ কাজে লাগাতে পারে তাতে সূর্যের কোন ক্ষতি হয় না, তেমনি আল্লাহ্‌র দেওয়া জ্ঞান বা আয়াতকে যেমনভাবে খুশী মানুষ ক্ষেত্রে চাষ করতে পারে ফসল পাবার জন্য, তাতে তাঁর অবতীর্ণ আয়াতের কোন ক্ষতি হয় না।
     জয় বিশ্বমানব শিক্ষা ও পবিত্র কুরআনের আলোর জয়। 

No comments:

Post a Comment