বিশ্বমানব শিক্ষায় পবিত্র কুরআনের আলো। [ সুরা –৪ নিসা- ১০১ থেকে ১০৫
আয়াত।]
১০১) তোমরা যখন দেশ বিদেশে সফর করবে তখন যদি
তোমাদের আশংকা হয় যে, অবিশ্বাসীগণ তোমাদেরকে নির্যাতন করবে, তবে নামায সংক্ষিপ্ত
করলে তোমাদের কোন দোষ নেই। অবিশ্বাসীগণ তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।
মর্মার্থঃ—বিশ্বাসী হয়ে অন্তরের বিশ্বাসকে
যখন দেশ বিদেশে প্রতিষ্ঠা করার জন্য সফর করবে তখন সর্বাগ্রে অন্তর থেকে সমস্ত
অবিশ্বাসীগণের চিত্র মুছে ফেলবে কারণ তাদের কথা মনে এলেই তোমার অন্তর থেকে বিশ্বাস
উড়ে যাবে এবং অবিশ্বাস অন্তর বাইরে জুড়ে বাসা বাঁধবে। অবিশ্বাসীগণ বিশ্বাসীদের
প্রকাশ্য শত্রু। অন্তরে এই বিশ্বাসকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য নামায যদি সংক্ষিপ্ত
করতে হয় তবুও করবে কিন্তু এই সত্যজ্ঞানের কর্মানুষ্ঠান ত্যাগ করবে না।
১০২) আর তুমি যখন তাদের মধ্যে অবস্থান করবে ও
তাদের নিয়ে নামায আদায় করবে তখন ( মুসলমানদের) একদল তোমার সঙ্গে যেন দাঁড়ায়; আর
তারা যেন সশস্ত্র থাকে। অতঃপর সিজদা করা হলে তারা যেন তোমাদের পিছনে অবস্থান করে,
আর অপর একদল যারা নামাযে শরীক হয়নি, তারা তোমার সাথে যেন নামাযে শরীক হয় এবং তারা
যেন সতর্ক ও সশস্ত্র থাকে। অবিশ্বাসীগণ কামনা করে যেন তোমরা তোমাদের অস্ত্র শস্ত্র
ও আসবাবপত্র সম্বন্ধে অসতর্ক হও যাতে তারা তোমাদের উপর হঠাৎ ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে।
কিন্তু তোমাদের কোন দোষ নেই, যদি বৃষ্টি বাদলের জন্য তোমাদের কষ্ট হয় অথবা তোমাদের
অসুখ হয়, আর তোমরা অস্ত্র রেখে দাও। কিন্তু অবশ্যই তোমরা হুঁশিয়ার থাকবে। নিশ্চয়
আল্লাহ্ অবিশ্বাসীদের জন্য লাঞ্ছনাদায়ক
শাস্তি প্রস্তুত রেখেছেন।
মর্মার্থঃ—নিশ্চয় আল্লাহ্ অবিশ্বাসীদের
জন্য লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত রেখেছেন। যারা অন্তর থেকে আল্লাহ্র
সর্বব্যাপকতা ও সর্বশক্তির কথা জানে তারা কেবল তাঁর উপরই নির্ভরশীল হয়ে তাঁর পথে
এগিয়ে যায়। আর যারা তাঁর উপর নির্ভরশীল হয়ে থাকতে পারে না নিজের প্রাণের ভয়ে তাদের
চিত্ত অস্থির, মন অবিশ্বাসী, তাদের জন্য তিনি শাস্তির বিভিন্ন কৌশল করে রেখেছেন।
এই আয়াত সেই অবিশ্বাসীদের চিত্তকে স্থির করার জন্য অবতীর্ণ হয়, সেই সাথে আল্লাহ্
পরীক্ষার মাধ্যমে যাচায় করার কৌশল নেন বিশ্বাসীদের।
১০৩)
তারপর যখন তোমরা নামায শেষ করবে, তখন দাঁড়িয়ে, বসে এবং শুয়ে আল্লাহ্কে স্মরণ
করবে; যখন তোমরা নিরাপদ হবে তখন যথাযথভাবে নামায আদায় করবে, নির্ধারিত সময়ে
যথাযথভাবে নামায আদায় করা বিশ্বাসীদের জন্য অবশ্য কর্তব্য।
মর্মার্থঃ—যখন তোমরা নিরাপদ হবে, অর্থাৎ আর
তোমাদের মন শত কামনা- বাসনাতেও টলবে না তখনি তোমরা বিশ্বাসী হয়ে শতকাজের মধ্যেও
নির্ধারিত সময়ে নামায আদায় করে নিতে পারবে। তখন আর দেহের উপর নির্ভরশীল হয়ে নামায
আদায় করতে হয় না বিশ্বাসীদের, তখন তাদের আত্মা আল্লাহ্র আত্মার সাথে এমনভাবে
যুক্ত থাকে যে তিনিই তাদের আত্মাকে পরিচালিত করেন নিজের পথে।
১০৪) আর শত্রুদলের সন্ধানে তোমরা সাহস হারিয়ে
ফেল না। যদি তোমরা যন্ত্রণা পাও তবে তারাও তো তোমাদের মতই যন্ত্রণা পায় এবং
আল্লাহ্র কাছে তোমরা যা আশা কর তারা তা করে না। বস্তুত আল্লাহ্ সর্বজ্ঞ,
প্রজ্ঞাময়।
মর্মার্থঃ--- শত্রু ধ্বংস করবে কিন্তু
শত্রু সৃষ্টি করতে যাবে না। শত্রু সৃষ্টি করতে গেলেই তোমরা সৎ সাহস হারিয়ে ফেলবে।
তোমরা শত্রু সৃষ্টি করে যে যন্ত্রণা পাও,
যাকে শত্রু সৃষ্টি করলে সেও একই যন্ত্রণা ভোগ করে। তোমরা আল্লাহ্র কাছে যা আশা কর
তারা তা করে না। বস্তুত আল্লাহ্ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়, তিনি জানেন কে তার শত্রু আর
কে তার মিত্র।
১০৫) তোমার প্রতি সত্যসহ কিতাব অবতীর্ণ
করেছি, যাতে আল্লাহ্ তোমাকে যা জানিয়েছেন সেই অনুসারে তুমি মানুষের মধ্যে বিচার
মীমাংসা কর আর তুমি বিশ্বাসঘাতকদের পক্ষ সমর্থন করো না।
মর্মার্থঃ—যারা নিজের সততার প্রতি বিশ্বাস
রাখতে পারে না তারাই অবিশ্বাসী বিশ্বাসঘাতক, এদের পক্ষ যারা সমর্থন করবে তারাও
অবিশ্বাসী ও বিশ্বাসঘাতক।
জয় বিশ্বমানব শিক্ষা ও পবিত্র কুরআনের আলোর
জয়।

No comments:
Post a Comment