বিশ্বমানব শিক্ষায় পবিত্র
কুরআনের আলো। [ সুরা—৪ নিসা—৮৬ থেকে ৯০ আয়াত।]
৮৬) আর যখন তোমাদেরকে অভিবাদন করা হয়, তখন
তোমরাও তা অপেক্ষা উত্তম অভিবাদন করবে, অথবা ওরই অনুরূপ করবে, নিশ্চয় আল্লাহ্
সর্ববিষয়ে হিসাব গ্রহণকারী।
মর্মার্থঃ—দুদিনের জীবনে
নিজের আচরণ যত পবিত্র করবে ততই তোমার অন্তর পবিত্র হতে থাকবে। নিজের মন ও অন্তরের
পবিত্র রক্ষা করার জন্য সকলকে শ্রদ্ধা- প্রেম- প্রীতির বন্ধনে অভিবাদনের মাধ্যমে
বেঁধে রাখবে, কাউকে উপেক্ষা ও অশ্রদ্ধা করবে না। কাউকে অশ্রদ্ধা করার অর্থ নিজের
আল্লাহ্কে অশ্রদ্ধা করা। শ্রদ্ধাবান ব্যক্তিরাই কেবল আল্লাহ্র নিকট থেকে জ্ঞান
লাভ করে থাকেন। একই পবিত্র সত্তা সবার অন্তরে অবস্থান করছেন, তাই তিনি সর্ববিষয়ে
হিসাব গ্রহণকারী।
৮৭) আল্লাহ্ ছাড়া অন্য
উপাস্য নেই, নিশ্চয়ই তিনি তোমাদেরকে শেষ বিচারের দিন একত্র করবেন এতে কোন সন্দেহ
নেই। কে আছে আল্লাহ্ অপেক্ষা অধিক সত্যবাদী।
মর্মার্থঃ--- আল্লাহ্র
বিশালত্বের কথা কেউ চিন্তা বা কল্পনাতে আনতে পারবে না, তাঁর রূপ, গুণ ও নামের শেষ
নেই। তিনি ছাড়া জীবের অন্য কেউ উপাস্য নেই। তিনি যেদিন সব সৃষ্টি গুটিয়ে নিবেন
সেদিন হবে শেষ দিন, সেদিন সকলকে একত্রিত তিনি করবেন, কবে করবেন তা তিনিই জানেন।
তাঁর থেকে বেশী সত্য অন্য কেউ জানেন না তাঁর রাজত্বে, তাই তিনিই একমাত্র সত্যবাদী
পবিত্র সত্তা সকলের কাছে।
৮৮) তোমাদের কী হয়েছে যে, তোমরা কপটদের
সম্বন্ধে দু’দলে বিভক্ত হয়ে গেলে? যখন আল্লাহ্ তাদের কৃতকর্মের জন্য তাদেরকে
পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দিয়েছেন! আল্লাহ্ যাকে পথভ্রষ্ট করেন তোমরা কি তাকে সৎপথে
পরিচালিত করতে চাও? বস্তুত আল্লাহ্ যাকে পথভ্রষ্ট করেন তুমি তার জন্য কখনও কোন পথ
পাবে না।
মর্মার্থঃ—সত্যজ্ঞানীদেরও
চিত্ত বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়ে কপট মানুষদের চাকচিক্যময় কার্যকলাপ দেখে। তাই সমাজের বুকে
দেখা যায় জ্ঞানীগুণীরাও দু’দলে বিভক্ত হয়ে গিয়ে একদল কপটদের সমর্থনে ও অন্যদল
তাদের বিরুদ্ধে চলে যায়। কপট ব্যক্তিরা সত্যত্যাগী হয়ে নিজের পুর্বাবস্থায় চিরকাল
অবস্থান করে, কারণ তারা পথভ্রষ্ট, আর এই পথভ্রষ্টকারীদেরকে কেউ সৎ পথে পরিচালিত
করতে পারে না। আল্লাহ্ যাকে পথভ্রষ্ট করেন তার জন্য কেউ কখনও কোন পথ খুঁজে পেতে
পারে না ও তাকে দেখাতেও পারবে না।
৮৯) তারা যেরূপ অবিশ্বাস করেছে
তোমরাও সেরূপ অবিশ্বাস কর এবং তোমরা তাদের সমান হও এই তো তারা চায়। অতএব আল্লাহ্র
পথে গৃহত্যাগ না করা পর্যন্ত তাদের মধ্য হতে কাউকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করবে না যদি
তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে তাদেরকে যেখানে পাবে গ্রেফতার করবে এবং তাদের মধ্য হতে
কাউকেও বন্ধু ও সহায়রূপে গ্রহণ করবে না।
মর্মার্থঃ—বিশ্বাসঘাতকেরা
চাইবে বিশ্বাসীরাও তাদের দলে আসুক এবং তাদের বন্ধু হয়ে তাদের মতো হয়ে চলুক ও তাদের
সমর্থক হয়ে থাকুক। সাবধানীরা যেন এদেরকে কখনো মনে স্থান না দেয় এবং বন্ধুরূপে
গ্রহণ না করে। মানব দেহ হলো পবিত্র আল্লাহ্র গৃহ, এই গৃহের সর্বাঙ্গ জুড়ে তাঁর
শক্তি ও আলো কাজ করছে। এই সত্য জেনে যখন তারা তাদের কুৎসিত কামনা- বাসনার গৃহ
ত্যাগ করে আল্লাহ্র জন্য বেড়িয়ে আসবে নিজের গৃহকে পবিত্র করার জন্য তখনি তাদের
বন্ধুরূপে গ্রহণ করবে। আর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং এই সত্যে বিশ্বাস না করে
তবে তাদেরকে অন্তর থেকে গ্রেফতার করে অন্ধকার কাগাগারে চিরকালের জন্য বন্দী রাখবে,
তাদের স্মৃতি মন থেকে মুছে ফেলবে। তাদের মধ্যে থেকে কাউকে নিজের বন্ধুরূপে গ্রহণ
করবে না।
৯০) কিন্তু তাদের নয় যারা এমন এক সম্প্রদায়ের
সাথে মিলিত হয় যাদের সাথে তোমরা চুক্তিবদ্ধ, অথবা যারা তোমাদের নিকট এমন অবস্থায়
আগমন করে, যখন তাদের মন তোমাদের সাথে অথবা তাদের সম্প্রদায়ের সাথে যুদ্ধ করতে চায়
না। আল্লাহ্ যদি ইচ্ছা করতেন তবে তাদেরকে তোমাদের উপর ক্ষমতা দিতেন এবং নিশ্চয়
তারা তোমাদের সাথে যুদ্ধ করত। সুতরাং তারা যদি তোমাদের নিকট থেকে চলে যায়, তোমাদের
সাথে যুদ্ধ না করে এবং তোমাদের নিকট শান্তি প্রস্তাব করে তবে আল্লাহ্ তোমাদের জন্য
তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা অবলম্বনের পথ রাখেন না।
মর্মার্থঃ—এই বিশাল পৃথিবীর বুকে
কত সম্প্রদায়ের মানুষের বাস, তার হিসেব তোমাদের
কাছে নেই। তোমরা কখনো ভাবিও না যে তোমরাই কেবল আল্লাহ্র প্রিয় ও জ্ঞানী সম্প্রদায়। জ্ঞানীরা সদায় জ্ঞানীদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েই
সর্বত্র বিচরণ করে। এই জ্ঞানী সম্প্রদায়কে পেলে সসম্মানে জ্ঞানের আদান প্রদান করবে শান্তির পরিবেশ রচনা করার জন্য। যুদ্ধ করতে হয় শান্তি প্রতিষ্ঠার
জন্য, কোন সম্পত্তি বা দেশ দখলের জন্য যুদ্ধ যারা করে তারা কখনো জ্ঞানী ও বিশ্বাসী
সম্প্রদায় ভুক্ত নয়। তাই এই সব সম্প্রদায়ের জন্য শান্তির কোন পথ খোলা রাখেন নি
আল্লাহ্। এরা নিজেরাই নিজেরাই আল্লাহ্র বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে যথাসময়ে নিশ্চিহ্ন
হয়ে যায় এই পৃথিবীর বুক থেকে।
জয় বিশ্বমানব শিক্ষা ও পবিত্র
কুরআনের আলোর জয়।

No comments:
Post a Comment