Friday, 17 August 2018

কুরআন সুরা-- ৪ নিসা --- ৮১ থেকে ৮৫ আয়াত


বিশ্বমানব শিক্ষায় পবিত্র কুরআনের আলো। [ সুরা—৪ নিসা—৮১ থেকে ৮৫ আয়াত।]
      ৮১) আর তারা বলে, আমরা অনুসরণ (করি), অতঃপর যখন তারা তোমার নিকট থেকে চলে যায় তখন রাত্রে তাদের একদল, তারা যা বলে তার বিপরীত পরামর্শ করে, তারা রাত্রে যা পরামর্শ করে আল্লাহ্‌ তা লিপিবদ্ধ করে রাখেন, সুতরাং তুমি তাদের উপেক্ষা কর এবং আল্লাহ্‌র প্রতি ভরসা কর, কর্ম বিধানে আল্লাহ্‌ই যথেষ্ট।
          মর্মার্থঃ—জ্ঞানের জগতের আসরকে দিন এবং কামনা- বাসনার আসরকে রাত্রি বা অন্ধকার বলা হয়। জ্ঞানের আসরে বা সৎ কর্মানুষ্ঠানের আসরে অংশ গ্রহণ করার সৌভাগ্য খুব কম লোকের হয়। যাদের হয় তারা যতক্ষণ সেই আসরে থাকে ততক্ষণ মনে মনে ভাবে তারা সৎ পথের অনুসারী এবং আল্লাহ্‌ ও রসূলের অনুগত। তারপরেই রাত্রি হলে তাদের অন্তর কামনা- বাসনার অন্ধকারে ডুবে যায় এবং আল্লাহ্‌র উপদেশের বিপরীত চিন্তা-ভাবনা তাদেরকে আচ্ছন্ন করে। তাই জ্ঞানীরা নিজের আলোর বর্তিকা নিয়ে চলে, কে কি করছে তা দেখতে যায় না, সেগুলি উপেক্ষা না করলে জ্ঞানীদের মন সেসব ঘটনা ভারাক্রান্ত করে তুলবে। আল্লাহ্‌ রাত্রির ঘটনা লিপিবদ্ধ করে রাখেন, তিনিই সকলের কর্মবিধায়ক।
          ৮২) আচ্ছা, তবে কি তারা কুরআন সম্বন্ধে চিন্তা করে না? এ (কুরআন) যদি আল্লাহ্‌ ব্যতীত অন্য কারও হত, তবে তারা তাতে নিশ্চয় অনেক অসংগত কথা পেত।
          মর্মার্থঃ—যারা অন্ধকারে আছে তারা কেন আলোর পথে এগিয়ে আসছে না? কুরআন তো সেই আলো, সবার অন্তরের অন্ধকার দূরীভূত করার জন্য, তবে কেন তারা কুরআন সম্বন্ধে চিন্তা করছে না? আল্লাহ্‌ ব্যতীত কুরআন যদি অন্য কারো দ্বারা অবতীর্ণ হতো তবে এখানে অনেক অসংগত কথা পেত। কুরআন নিয়ে জ্ঞানীরা গবেষণা করে দেখুক তাহলেই এর আলো সকলকে আলোকিত করবে।
      ৮৩) আর যখন শাস্তি অথবা ভয়ের কোন সংবাদ তাদের নিকট আসে তখন তারা তা প্রচার করে, যদি তারা তা রসূল কিংবা তাদের মধ্যে যারা ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত তাদের গোচরে আনত, তবে তাদের মধ্যে যারা তথ্য অনুসন্ধান করে তারা তার যথার্থতা নির্ণয় করতে পারত। তোমাদের প্রতি যদি আল্লাহ্‌র অনুগ্রহ ও দয়া না থাকত, তবে তোমাদের কিছু লোক ছাড়া সকলে শয়তানের অনুসরণ করত।
         মর্মার্থঃ— কুরআনে যে শাস্তি বা ভয়ের সংবাদ দেওয়া হয়েছে, তার অপপ্রচার না করে, তা নিয়ে জ্ঞানীদের কাছে গেলেই সঠিক উত্তর পেয়ে যাবে সকলেই এবং মনের দ্বন্ধ দূর হয়ে যাবে। মানব জাতির প্রতি যদি আল্লাহ্‌র অনুগ্রহ ও দয়া না থাকতো, তবে কিছু লোক ছাড়া সকলেই শয়তানের অনুসরণ করতো। আল্লাহ্‌র অনুগ্রহ মানুষের প্রতি আছে বলেই কিছু মানুষ সৎ বুদ্ধির আশ্রয়ে থেকে শয়তানী বুদ্ধির মানুষদের দমিয়ে রেখেছে।
       ৮৪) সুতরাং আল্লাহ্‌র পথে সংগ্রাম কর, তোমাকে শুধু তোমার নিজের জন্য দায়ী করা হবে এবং বিশ্বাসীগণকে উদ্বুদ্ধ কর, হয়ত আল্লাহ্‌ অবিশ্বাসীদের শক্তি সংযত করবেন। আল্লাহ্‌ শক্তিতে প্রবলতর ও শাস্তিদানে কঠোরতর।
     মর্মার্থঃ—নিজে আল্লাহ্‌র পথে সংগ্রাম করে সংযমী ও সৎকর্মশীল হও। নিজে সৎ ও জ্ঞানী হয়ে বিশ্বাসীগণকে উদ্বুদ্ধ কর, তাতেই তুমি তোমার আল্লাহ্‌র প্রিয়পাত্র হয়ে উঠবে। ঘরে একটা আলো জ্বললেই সেই ঘরের সব অন্ধকার দূর হয়ে যাবে এবং সেই ঘরের সব সম্পদ দেখতে পাবে, তখন দেখবে সত্যের কাছে মিথ্যা আর ভিরতে পারবে না। আল্লাহ শক্তিতে প্রবলতর ও শাস্তিদানে কঠোরতর, এই সত্যকে মাথায় রেখে সত্যমুখী হয়ে চলতে থাকো তাহলেই অন্তরের সমস্ত অবিশ্বাস দূর হয়ে যাবে এবং আলোর ঝর্নার সাথে তোমার মন ও হৃদয় যুক্ত হয়ে যাবে চিরকালের জন্য।
        ৮৫) কেউ কোন ভাল কাজের সুপারিশ করলে ওতে তার অংশ থাকবে, এবং কেউ কোন মন্দ কাজের সুপারিশ করলে ওতে তার অংশ থাকবে। বস্তুত আল্লাহ্‌ সর্ববিষয়ে লক্ষ্য রাখেন।
    মর্মার্থঃ—তোমার আল্লাহ্‌ তোমার সর্ববিষয়ে লক্ষ্য রাখেন, এই সত্য জেনেও যদি তুমি মন্দ কাজের কাউকে সুপারিশ কর বা নিজে মন্দ কাজ কর, তবে সেই  কর্মের ফল তোমাকেই নিতে হবে। আবার যদি ভাল কাজের সুপারিশ কর বা নিজে ভাল কাজ কর তবে সেই কর্মের ফলও তোমাকেই ভোগ করতে হবে। আর যদি তুমি কেবল আল্লাহ্‌র পথেই তাঁর জন্যই কর্ম কর বা কর্মের সুপারিশ কর তবে তোমাকে ভাল-মন্দ কোন কর্মের ফল স্পর্শ করতে পারবে না, কারণ তুমি চিন্তামুক্ত আল্লাহ্‌র ঘরের বান্দা বা কর্মী ছাড়া কেউ নও।
      জয় বিশ্বমানব শিক্ষা ও পবিত্র কুরআনের আলোর জয়।

No comments:

Post a Comment