Thursday, 2 August 2018

কুরআন সুরা--৩ আলে-- ইমরান-- ১৩১ থেকে ১৩৫ আয়াত

    বিশ্বমানব শিক্ষায় পবিত্র কুরআনের আলো। [ সুরা- ৩ আলে- ইমরান—১৩১ থেকে ১৩৫ আয়াত।]
  ১৩১) এবং তোমরা সেই আগুনকে ভয় কর যা অবিশ্বাসীদের জন্য প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে।
       ভাবার্থঃ--- মানুষের অন্তরে যে জ্ঞানাগ্নি প্রজ্বলিত রয়েছে, সেই অগ্নিই মানুষকে সবদিক থেকে সুরক্ষিত বলয়ের মধ্যে ধরে রেখেছে। সেই আগুন-ই আলো হয়ে মানুষকে সত্যের পথ দেখিয়ে নিয়ে চলেছে। আবার সেই অগ্নিকে যদি কেউ অপবিত্র করার কাজে নিজেকে নিয়োজিত করছে তখন সেই অগ্নিও তাকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছে। তাই মানুষের উচিত নিজের অন্তরের প্রজ্বলিত আগুনকে ভয় করে সদায় নিজের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রেখে, সেই অগ্নি দিয়ে সমস্ত প্রকার কল্যাণকর কর্ম করার অভ্যাস করা। এই অগ্নি যেন কখনো ক্রোধরূপে প্রজ্বলিত হয়ে না উঠে অন্তরে সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখা। বিশ্বাসীরা এই সত্য জানে আর অবিশ্বাসীরা জানে না। তাই তারা নিজের আগুনে নিজেই পুড়ে মরে।
      ১৩২) আর তোমরা আল্লাহ্‌ ও তাঁর রসূলদের অনুসরণ কর, যাতে তোমরা কৃপা লাভ করতে পার।
       ভাবার্থঃ—আল্লাহ্‌ হচ্ছেন সেই অগ্নি যা সকলের দেহ- মন- অন্তরকে নিজের তেজ- আলো দিয়ে ধরে রেখেছেন এবং রসূলরা হচ্ছেন সেই অগ্নিঘর থেকে আগত আলোর বর্তিকা। নিজেকে সেই আলোর বর্তিকারূপে জানতে হলে অবশ্যই আল্লাহ্‌ ও তাঁর রসূলদের অনুসরণ করতে হবে। তাঁদের কৃপা না হলে কেউ স্বরূপবিজ্ঞানের জ্ঞান লাভ করে নিজেকে জানতে সক্ষম হয় না। আর নিজেকে না জানা পর্যন্ত আল্লাহ্‌, রসূল ও নিজের মধ্যে ভেদজ্ঞান মুছে যায় না, এই ভেদজ্ঞান অন্তর থেকে মুছে না গেলে সত্যজ্ঞান সূর্যের উদয় হয় না অন্তরে।
      ১৩৩) তোমরা প্রতিযোগিতা কর তোমাদের প্রতিপালকের নিকট থেকে ক্ষমা এবং জান্নাতের জন্য, যার প্রস্থ আকাশ ও পৃথিবীর সমান, যা সাবধানীদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে
      ভাবার্থঃ—জাহান্নাম হলো অতি মন্দ স্থান, সেখানে নেই আলো, সেই কোন ভালো খাদ্য-খাবার, নেই কোন উপকরণ যা দিয়ে জীবনকে উন্নত করে তোলার ব্যবস্থা কেউ করতে পারে। আর জান্নাত হলো অতি পবিত্র ও মনোরম স্থান, এখানে নেই অন্ধকার, নেই অজ্ঞান, নেই কোন হিংসা- দ্বেষ –দলাদলি, নেই কোন ভাল খাদ্যের অভাব। এই জান্নাত তৈরির প্রতিযোগিতা কর তাহলেই জাহান্নামের আর অস্তিত্ব থাকবে আকাশে ও পৃথিবীতে। আর ক্ষমার প্রতিযোগিতা কর তাহলেই আর অপরাধ ও সন্ত্রাসবাদী মন ও অন্তর খুঁজে পাওয়া যাবে না আকাশ ও পৃথিবীতে। সাবধানী ও সত্যজ্ঞানীদের জন্য এই বলয় প্রস্তুত করা রয়েছে আকাশ ও পৃথিবীতে।
     ১৩৪) যারা সচ্ছল ও অসচ্ছল অবস্থায় দান করে এবং যারা ক্রোধ সংবরণকারী এবং মানুষের প্রতি ক্ষমাশীল। আল্লাহ্‌ কল্যাণকারীদের ভালবাসেন।
     ভাবার্থঃ—মানুষের প্রতিটি অঙ্গে অগ্নি প্রজ্জ্বলিত হয়ে থাকে। এই অগ্নির রূপ ও গুণের শেষ নেই। বিদ্যুৎ এর সাহায্যে মানুষ যেমন কল্যাণমুখী সমস্ত কাজ করতে সক্ষম বাইরের জগতের উন্নতির জন্য তেমনি মানুষ নিজ দেহের বিদ্যুতের আগুন দিয়ে অন্তর্জগতের কাম- ক্রোধ- লোভকে সংবরণ করে সমস্ত প্রকার কল্যাণমুখী কাজ করতে সক্ষম। যারা নিজ দেহের অগ্নিকে শুভ কাজে লাগিয়ে বুদ্ধিকে সত্যস্তম্ভে স্থির রাখতে সক্ষম তারাই সমাজকে সবকিছুই দান করতে সক্ষম, প্রতিটি মানুষের মানুষের প্রতি ক্ষমাশীল হয়ে। সূর্যের কিরণ একই ভাবে সবার উপর বর্ষিত হয়, মেঘে ঢাকা অবস্থায় থাকলেও সেই কিরণ কৃপা বর্ষণ থেকে বিমুখ হয় না। তেমনি মানুষের ধর্ম সচ্ছল বা অসচ্ছল অবস্থাতে থেকেও নিজের সম্পদ দান করতে থাকা ক্ষমাশীল অন্তর নিয়ে।
      ১৩৫) আর যারা ( অনিচ্ছাকৃতভাবে) কোন অশ্লীল কাজ করে, অথবা নিজেদের প্রতি জুলুম করে আল্লাহ্‌কে স্মরণ করে এবং নিজেদের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। আল্লাহ্‌ ছাড়া আর কে পাপ ক্ষমা করবে? এবং তারা যা (অপরাধ) করে ফেলে তা জেনে শুনে পুনরায় করে না।
    ভাবার্থঃ—স্বভাব বশত যারা অশ্লীল কাজ বা অপরাধজনিত কাজ করে ফেলে,  নিজের ভুল নিজে ধরতে পেরে, অনুশোচনায় ভুগে এবং সেই পাপের জন্য বার বার তার প্রতিপালকের নিকট ক্ষমা চাহে, তাদের স্বভাব খুব শীঘ্র সংশোধন হয়ে যায়। এরা আল্লাহ্‌র কৃপা লাভ করে সাবধানী মানুষের দলে অন্তর্ভুক্ত হয়।
   জয় বিশ্বমানব শিক্ষা ও পবিত্র কুরআনের আলোর জয়।

No comments:

Post a Comment