Thursday, 2 August 2018

কুরআন সুরা-- ৩ আলে ইমরান -- ১২১ থেকে ১২৫ আয়াত


     বিশ্বমানব শিক্ষায় পবিত্র কুরআনের আলো। [ সুরা—৩ আলে—ইমরান—১২১ থেকে ১২৫ আয়াত।]
  ১২১) এবং ( স্মরণ কর) যখন তুমি তোমার পরিজনবর্গের নিকট থেকে প্রত্যূষে বের হয়ে জিহাদের ( ওহুদের জিহাদ) জন্য বিশ্বাসীদের ঘাঁটি ঠিক করে দিচ্ছিলে; এবং আল্লাহ্‌ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
     ভাবার্থঃ—যাদের অন্তরে সকলের কল্যাণ করার ভাব- ভাবনা জেগে উঠে,  তাদের স্বভাব বা ধর্ম হয়ে উঠে সকলকে নিয়ে নিজের স্বভাব ও চরিত্রের দল গঠন করে সমাজ থেকে অশুভশক্তিকে চিরতরের জন্য মুছে ফেলা। আল্লাহ্‌ সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ হয়ে এদের অন্তরের সব কথায় জানেন ও শোনেন। তাই এখানে তোমাকে স্মরণ করতে বলা হচ্ছে যখন তুমি প্রথমে এই কাজ শুরু করেছিলে  তখন পরিবার পরিজনবর্গের কথা চিন্তা না করে সকাল হতেই ছূটে যেতে সেই পবিত্র ধর্মপ্রাণ মানুষগুলোর ঘাঁটিতে, তাদের সকলকে উৎসাহ দেওয়ার জন্য। তোমার লক্ষ্য ছিল তাঁদেরকে অন্ধকার থেকে মুক্ত করে আলোর জগতে নিয়ে যাওয়া ধর্মযুদ্ধ বা জেহাদের মাধ্যমে।
     ১২২) যখন তোমাদের মধ্যে দু’দলের সাহস হারাবার উপক্রম হয়েছিল, অথচ আল্লাহ্‌ ছিলেন উভয়ের সহায়ক। আর বিশ্বাসীদের উচিত আল্লাহ্‌র প্রতিই নির্ভর করা।
     ভাবার্থঃ—যে কোন কল্যাণমুখী কাজে দুটি দলের প্রয়োজন হয়, একদল জ্ঞান, বুদ্ধি ও অর্থ দিয়ে অপর দলকে কর্মে বা ধর্মযুদ্ধে নিয়োজিত করে সমাজ থেকে আবর্জনা মুছে ফেলার উৎসাহ দিয়ে থাকে। আল্লাহ্‌ উভয় দলের সাথেই থাকেন তাসত্ত্বেও অনেক সময় এই সব কল্যাণমুখী যুদ্ধে মানুষ বিভিন্ন কারণে সাহস হারিয়ে ফেলে এবং শুভ উদ্যোগ বন্ধ হয়ে যাবার উপক্রম হয়। এই অবস্থায় সত্যজ্ঞানী ও বিশ্বাসীগণের আল্লাহ্‌র উপর নির্ভর করে অধিক উৎসাহে এই কল্যাণমুখী জেহাদকে জীবন্ত করে ধরে রাখার ব্যবস্থা করা উচিত ধর্ম।
     ১২৩) এবং নিশ্চয় বদরের জিহাদে আল্লাহ্‌ তোমাদের সাহায্য করেছিলেন, তখন তোমরা ছিলে হীনবল। সুতরাং তোমরা আল্লাহ্‌কে ভয় কর, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।
       ভাবার্থঃ—বদরের জিহাদ একটা দৃষ্টান্ত বিশ্বাসীদের অন্তরে শক্তির সঞ্চার ঘটানোর জন্য। ধর্মযুদ্ধ বা জিহাদে অংশ গ্রহণ জীবনকে পবিত্র করে তোলার এক অধ্যাত্মজীবনের প্রশিক্ষণ। এই জিহাদে অংশগ্রহণ করার পূর্বে সকল মানুষকেই হীনবল, হীনবুদ্ধি ও হীনস্বভাব বা ধর্মের দেখা যায়। তারপর ধীরে ধীরে তাদের প্রতি আল্লাহ্‌র কৃপা বর্ষিত হতে থাকে এবং ফিরিশতাদের তরফ থেকে বিভিন্নভাবে সাহায্য সহযোগিতা আসতে থাকে। এই দেখে জিহাদে অংশকারীদের মনোবল বৃদ্ধি হতে থাকে এবং আল্লাহ্‌কে ভয় করে ও তাঁর প্রতি বিশ্বাস এনে তারা নিজেদের জীবনকে পবিত্র ধারার সাথে যুক্ত করার জন্য অন্তর্জগৎ ও বহির্জগৎ সত্যজ্ঞানের দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করার সংগ্রামে লিপ্ত থাকে। বদরে যে জিহাদ হয়েছিল, তার ফলে মানবজাতির হীনভাব সম্পূর্ণভাবে অন্তরে থেকে মুছে গিয়েছিল। সকলেই অন্ধকার থেকে আলোর অভিমুখে যাত্রা শুরু করার প্রেরণা লাভ করেছিল।
       ১২৪) (স্মরণ কর) যখন তুমি বিশ্বাসীগণকে বলেছিলে, যদি তোমাদের প্রতিপালক তিন হাজার প্রেরিত ফিরিশতা দ্বারা তোমাদের সাহায্য করেন, তবে কি তোমাদের জন্য তা যথেষ্ট হবে না?
        ভাবার্থঃ—ধর্মযুদ্ধ বা জিহাদে অংশগ্রহণ করার পূর্বে মানুষের অন্তরে হাজার রকমের দুর্বলতা দেখা যায়, এই পার্থিব জীবনকে ঘিরে। তাই কেউ ইচ্ছা করলেই এই পবিত্র পথে আসতে সক্ষম হয় না। যখন আল্লাহ্‌র প্রেরণা লাভ করে তখনি তাদের অন্তরে জেগে উঠে এই পথে গিয়ে সকলের কল্যাণমুখী জীবন গড়ে তোলার। বিশ্বাসীরা জানেন, তিন হাজার কেন তিন লাখ ফিরিশতার শক্তিও কোন কাজে আসবে না,  যদি না কেউ বিশ্বাসী হয়ে নিজের অন্তর্জগৎ ও বহির্জগৎ পবিত্র রেখে নিজ প্রতিপালকের নিকট আত্মসমর্পণ করে।
        ১২৫) হাঁ নিশ্চয়, যদি তোমরা ধৈর্য ধর এবং সাবধান হয়ে চল তবে তারা দ্রুতগতিতে তোমাদের উপর আক্রমণ করলে তোমাদের প্রতিপালক পাঁচ হাজার চিহ্নিত ফিরিশতা দ্বারা তোমাদেরকে সাহায্য করবেন
    ভাবার্থঃ—জিহাদ বা ধর্মযুদ্ধে অংশ গ্রহণকারীদের সাবধানী হয়ে অনেক ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে হয় তার প্রতিপালকের কাছে। কত শত্রুর আক্রমণকে প্রতিরোধ করতে হয় এই জীবনযুদ্ধে। তবে যারা সত্যজ্ঞানী হয়ে এই জীবন যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করে, তাদের জীবনকে ঘিরে এক আল্লাহ্‌র বলয়ের সৃষ্টি হয় এবং এই বলয়ের মধ্যে পাঁচ হাজার চিহ্নিত ফিরিশতা বা দেবতা থাকেন বিভিন্ন দিক থেকে সাহায্য করার জন্যে। এই ফিরিশতাগণ সকলেই হলেন অদৃশ্য শক্তি, এই শক্তিকে বিশ্বাসীরা দেখতে পেলেও অবিশ্বাসীরা এই শক্তির কোন টের পায় না।
    জয় বিশ্বমানব শিক্ষা ও পবিত্র কুরআনের আলোর জয় ।

No comments:

Post a Comment