Saturday, 4 August 2018

কুরআন সুরা--৩ আলে- ইমরান-- ১৪৬ থেকে ১৫০ আয়াত

    বিশ্বমানব শিক্ষায় পবিত্র কুরআনের আলো। [ সুরা—৩ আলে—ইমরান—১৪৬ থেকে ১৫০ আয়াত।]
   ১৪৬) এবং কত নবী জিহাদ করেছে, তাদের সাথে ছিল বহু রববানী( এক আল্লাহ্‌ বিশ্বাসী)। আল্লাহ্‌র পথে তাদের যে বিপর্যয় ঘটেছিল তাতে তারা হীনবল হয়নি, দুর্বল হয়নি এবং নত হয়নি। বস্তুত আল্লাহ্‌ ধৈর্যশীলদের পছন্দ করেন।
   মর্মার্থঃ—এই পৃথিবীর বুকে কত নবী ধর্মযুদ্ধ বা জিহাদ করেছেন তার হিসেব নেই। তাঁদের সকলের সাথেই ছিলেন বহু ধর্মপ্রাণ বা রববানী মানুষ। এই পথে ধর্মযুদ্ধ বা জিহাদ করতে গিয়ে তাঁদেরকে অনেক বিপর্যয়ের মধ্যে পড়তে হয়, কিন্তু তাঁদের চারিত্রিক বল এতই দৃঢ় যে, তাঁরা কখনো হীনবল হয়নি, দুর্বল হয়নি এবং নত হয়নি, তাঁরা সর্বক্ষেত্রে ধৈর্যের পরীক্ষা দিয়ে জয়ী হয়েছিলেন। বস্তুত আল্লাহ্‌ ধৈর্যশীলদের বড়ই পছন্দ করেন এবং তিনিই পরীক্ষা গ্রহণ করেন। যারা এই সত্য জানেন তাঁরাই সত্যমুখী হয়ে তাঁর কাছে ধৈর্যের পরীক্ষা দিয়ে যান এবং এই পরীক্ষার মাধ্যমে সত্যজ্ঞান লাভ করে অন্তরকে পবিত্র ও বিশ্বাসী করে তোলেন।
      ১৪৭) এবং তাদের (মুখে) এ কথা ছাড়া আর অন্য কোন কথা ছিল না, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের পাপ এবং কার্যে বাড়াবাড়ি তুমি ক্ষমা কর, আমাদের পা সুদৃঢ় রাখ এবং অবিশ্বাসী সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদের সাহায্য কর।
  মর্মার্থঃ—সারা পৃথিবী অবিশ্বাসী সম্প্রদায়ের লোকে পরিপূর্ণ, ঘরে বাইরে শত্রু বিশ্বাসীদের অন্তরে বিষ প্রয়োগ করে, বিশ্বাস ভেঙ্গে দেওয়ার জন্য। তাই বিশ্বাসীদের চোখ, কান ও মুখ বন্ধ করে, কেবল অন্তর থেকে নিজের প্রতিপালকের কাছেই সাহায্য চাইতে হয়, অন্তরের বিশ্বাসকে সুদৃঢ় করে ধরে রাখার জন্য। তাই তাঁরা সদায় নিজের প্রতিপালকের আশ্রয়ে থেকে প্রার্থনা করতেন—হে আমাদের প্রতিপালক, তুমি আমাদের পাপ ও বাড়াবাড়ি ক্ষমা কর, আমাদের পা সত্যস্তম্ভে স্থির রাখো এবং আমাদেরকে সত্যমুখী করে তোমার আশ্রয়ে ধরে রাখো। আমরা যেন সদায় অবিশ্বাসকে জয় করে অন্তরে বিশ্বাসকে ধারণ করে রাখতে পারি ও সত্যজ্ঞানী হয়ে প্রকাশিত ও বিকশিত হই।
       ১৪৮) অতঃপর আল্লাহ্‌ তাদের পার্থিব পুরষ্কার এবং পারলৌকিক উত্তম পুরষ্কার দান করেন। আল্লাহ্‌ পরোপকারীদের পছন্দ করেন।
        মর্মার্থঃ—যারাই অবিশ্বাসকে জয় করে অন্তরে দৃঢ় বিশ্বাসকে প্রতিষ্ঠিত করে তারাই আল্লাহ্‌র প্রিয় হয়ে যায়। তাদেরকে ইহজগতে ও পরজগতে তাঁর দেওয়ার কিছুই বাকী থাকে না। যদিও এরা তাদের প্রতিপালকের কাছে কিছুই নিজের জন্য দাবী করে না। এরা যেখানেই থাক পরের মঙ্গল করার জন্যই সদা তৎপর। আল্লাহ্‌ তাই পরোপকারীদের পছন্দ করেন।
       ১৪৯) হে বিশ্বাসীগণ! যদি তোমরা অবিশ্বাসীদের অনুগত হও, তবে তারা তোমাদেরকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে নিবে এবং তোমরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়বে।
    মর্মার্থঃ—যারা একবার অবিশ্বাসকে জয় করে অন্তরে বিশ্বাসকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছে, তারাই বিশ্বাসীগণের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এই চাকচিক্যময় জগতের ঘরে বাইরে চোখ ধাঁধানো কামনা- বাসনার ছড়াছড়ি, যদি পুনঃ বিশ্বাসীগণ তাদের অনুগত হয়ে পড়ে তবেই তারা আবার পূর্বাবস্থায় ফিরে যেতে বাধ্য হবে এবং সাধনার জীবনে বিশাল ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়বে। তাই সত্যজ্ঞানীদের সাবধানে কেবল সত্যস্তম্ভের উপরেই পা রেখে চলতে হয়।
    ১৫০) আল্লাহ্‌ই তোমাদের অভিভাবক এবং তিনিই শ্রেষ্ঠ সাহায্যকারী।
মর্মার্থঃ—আকাশে ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই আল্লাহ্‌র; এই সত্য জেনে নিজেকে আল্লাহ্‌র মধ্যেই বিশ্বাসীরা দেখতে পায়, এর ফলে তাঁদের অন্তর থেকে সব অবিশ্বাস দূর হয়ে যায়। তিনিই একমাত্র সকলের অভিভাবক তা তারা নিজের জ্ঞাননেত্রে দেখতে পায়। তিনি ছাড়া যে দ্বিতীয় কেউ সাহায্যকারী নেই এই বিশ্বাসও অন্তরে দৃঢ় হয়ে যায়, ফলে আর কোন দ্বিতীয় চিন্তা না করে কেবল তাঁর আশ্রয়ে থেকে তাঁকেই সন্তুষ্ট করার জন্য সৎ কর্ম সকলের কল্যাণের জন্য করে চলে।
      জয় বিশ্বমানব শিক্ষা ও পবিত্র কুরআনের আলোর জয়।

No comments:

Post a Comment