বিশ্বমানব শিক্ষায় পবিত্র কুরআনের আলো। [
সুরা—৪ নিসা—৬ থেকে ১০ আয়াত]
৬)
পিতৃহীনদের প্রতি লক্ষ্য রাখবে, যে পর্যন্ত না তারা বিবাহযোগ্য হয়; এবং তাদের
মধ্যে ভাল মন্দ বিচারের জ্ঞান দেখলে তাদের সম্পদ তাদেরকে ফিরিয়ে দিবে। তারা বড় হয়ে
যাবে বলে অন্যায়ভাবে তা তাড়াতাড়ি খেয়ে ফেল না। যে অভাবমুক্ত সে যেন তা থেকে
নিবৃত্ত থাকে এবং যে বিত্তহীন সে যেন সংযত পরিমানে ভোগ করে। তোমরা যখন তাদের সম্পদ
সমর্পণ করবে তখন সাক্ষী রেখো। হিসাব গ্রহণে আল্লাহ্ই যথেষ্ট।
মর্মার্থঃ—নিজের কর্তব্য কর্ম করবে পবিত্র মন নিয়ে, যেন জাগতিক সম্পদের মোহ
তোমাদের হৃদয় স্পর্শ করতে না পারে। সংসারে থেকেই মানুষকে পরীক্ষা দিয়ে পবিত্র
অন্তর নিয়ে ফিরে যেতে হয়, তাই এখানকার আবর্জনা যেন জীবনকে আবদ্ধ না করে সেই জন্যই
এই আয়াত।
৭) মাতা- পিতা এবং আত্মীয় –স্বজনের
পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে পুরুষের অংশ আছে, এবং পিতা- মাতা এবং আত্মীয় – স্বজনের
পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে নারীরও অংশ আছে, তা অল্পই হোক অথবা বেশিই হোক,( তাদের জন্য)
এক নির্ধারিত অংশ ( রয়েছে)।
মর্মার্থঃ—এই জগতের সম্পদ নিয়ে কারো মন যাতে বিষাক্ত না হয়ে উঠে সেদিকে
খেয়াল রেখে যার যেমন অংশ তা ভাগ করে নিয়ে শান্তিতে থাকবে, এটাই তোমাদের
প্রতিপালকের বিধান।
৮) এবং সম্পত্তি বন্টনকালে আত্মীয়- স্বজন, পিতৃহীন
এবং অভাবগ্রস্থ লোক উপস্থিত থাকলে তাদেরকে সেটা থেকে কিছু দেবে এবং তাদের সাথে
সদালাপ করবে।
মর্মার্থঃ—সবায় যাতে সুখে থাকে, শান্তিতে থাকে তার ব্যবস্থা যত করবে ততই
তোমাদের মঙ্গল হবে।
৯) আর ( পিতৃহীনদের সম্পর্কে) মানুষের ভয় করা উচিত, যদি তারা পিছনে অসহায়
সন্তান ছেড়ে যেত ( তবে) তারাও তাদের সম্বন্ধে উদ্বিগ্ন হত। অতএব লোকের উচিত, (
এতিম অনাথ সম্পর্কে) আল্লাহ্কে ভয় করা এবং ন্যায়সংগত কথা বলা।
মর্মার্থঃ—নিজের সন্তানের কথা চিন্তা করেই পিতৃ –মাতৃহারা, দরিদ্র এদের
ভবিষ্যৎ জীবন গড়ে দেওয়ার চেষ্টা করবে, যাতে তারা সৎকর্মশীল হয়ে উঠতে পারে।
১০) নিশ্চয় যারা পিতৃহীনদের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করে তাদের উদরে আগুন
ভক্ষণ করে, তারা জ্বলন্ত আগুনে জ্বলবে।
মর্মার্থঃ—পিতৃ- মাতৃহারাদের সম্পদ যারা কেড়ে নেয় বা আত্মসাৎ করে তাদের মতো
স্বার্থপর ব্যক্তিদের জন্য মহাশাস্তি সদায় অপেক্ষা করে।
জয় বিশ্বমানব শিক্ষা ও পবিত্র কুরআনের আলোর জয়।

No comments:
Post a Comment