Friday, 3 August 2018

বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞ অভিযান ৩৬২ তাং -- ০৩/ ০৮/ ২০১৮


   বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞ অভিযান(৩৬১) তারিখঃ—০৩/ ০৮/ ২০১৮  আজকের আলোচ্য বিষয়ঃ-- [পবিত্র বেদ, উপনিষদ, গীতার মূল শিক্ষা বিশ্বমানব শিক্ষার আলো।]
  মানুষের হৃদয়ে ঈশ্বরের বাস। তিনি মানব হৃদয়ে অবস্থান থেকে হৃদয় বেদ খুলে দেন। তিনি মানব হৃদয়ে জাগ্রত হয়ে যে পবিত্র জ্ঞানের প্রকাশ ঘটান তাই বেদ। বেদ হচ্ছে জ্ঞান- বেদ হচ্ছে সত্য—বেদ হচ্ছে ঈশ্বর। বেদ হচ্ছে ঈশ্বরের জ্ঞান-বিজ্ঞানের ঘর। এই বেদকে কোন গ্রন্থের মধ্যে আবদ্ধ করে রাখা মানুষের সাধ্যাতীত। ঈশ্বর মানুষের ও তাঁর সৃষ্টির মঙ্গলের জন্য অনুগ্রহ করে যেটুকূ প্রকাশ করেছেন—তাই মানুষ ধারণ করতে সক্ষম নয়। বেদের সামান্য অংশ যদি কোন  মানুষ ধারণ করে রাখতে সক্ষম হয়, তবেই তার জন্ম সার্থক হয়ে উঠবে।
  বিশ্বের যত সত্য ও জ্ঞানের গ্রন্থ আছে সবই বেদের অন্তর্ভুক্ত। কারণ বেদ শব্দের অর্থ জ্ঞান। বেদ হচ্ছে অপৌরুষেয় অর্থাৎ কোন ব্যক্তির লেখা নয়। মুনি- ঋষিরা যোগ – ধ্যানের মাধ্যমে যা শুনতেন, তা অন্তরে ধরে রেখে মনন করতেন এবং শেষে নিজেদের মধ্যে আলচনা করতেন। এই ভাবেই চলে আসছিল।  এই জ্ঞানের কোন লিখিত রূপ ছিল না—গুরু শিষ্যকে এই জ্ঞান দান করতেন তাঁর অন্তরে। যে জ্ঞানের দ্বারা শিষ্যের অন্তরের সমস্ত অজ্ঞান বা অন্ধকার দূর হয়ে যেতো। বেদের অগ্নি হচ্ছেন জ্ঞান। এই জ্ঞান যে কোন অশুভ শক্তিকে বিনাশ করতে সক্ষম। যারা জ্ঞানের উপাসনা করে তারাই অগ্নির ন্যায় তেজে নিজ আত্মাকে জাগ্রত করতে সক্ষম হয়। সর্বব্যাপী এই আত্মার উপাসনা করে তারা ঈশ্বরের জ্ঞান—বিজ্ঞানের ঘরের সাথে যুক্ত হয়ে আনন্দলোকে অবস্থান করে।
  বেদ, উপনিষদ, গীতা ইত্যাদি গ্রন্থে কোন ধর্মীয় সংকীর্ণতা স্থান পায় নি। সর্বত্র মানবাত্মার জয়গান করা হয়েছে ও ঈশ্বরের সৃষ্টির প্রশংসা করা হয়েছে। মানুষকে অজ্ঞানের কারাগার থেকে মুক্ত করে আলোর প্রদেশে নিয়ে যাবার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মানুষকে জন্ম—মৃত্যুর বন্ধন থেকে মুক্ত করে এক ঈশ্বরের আলোয় নিয়ে যাবার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
  নিজ আত্মার জাগরণ না ঘটাতে পারলে কেউ রক্ত মাংসের দেহ থেকে নিজেকে পৃথক দেখতে সক্ষম নয়। নিজেকে আত্মা রূপে দেথতে না পেলে কেউ এক ব্রহ্মে বা এক ঈশ্বরে বিশ্বাসী হতে পারে না। আত্মা হয়ে পরমাত্মার সাথে মিলিত না হলে কেউ একের রহস্য জানতে সক্ষম হয় না। বেদ, উপনিষদ,  গীতা, ভাগবত ইত্যাদি সত্য গ্রন্থ মানুষকে নিজ হৃদয় মন্দিরে যে আত্মা রয়েছেন তাঁর উপাসনার শিক্ষা দিয়েছেন এবং বিভিন্ন ভাবে আত্মার জাগরণের মন্ত্র শিক্ষা দিয়েছেন। এই সব মন্ত্রের দ্বারা আত্মা কিভাবে সদায় পরাত্মার সাথে যুক্ত থেকে মহা আনন্দময়লোকে অবস্থান করবে তার সহজ সরল পথ বিশ্বের সমস্ত মানুষকে দেখানো হয়েছে।  জয় বিশ্বমানব শিক্ষা ও বেদযজ্ঞের জয়।

No comments:

Post a Comment