Monday, 6 August 2018

কুরআন সুরা--৩ আলে- ইমরান -- ১৬১ থেকে ১৬৬ আয়াত


বিশ্বমানব শিক্ষায় পবিত্র কুরআনের আলো। [ সুরা—৩ আলে—ইমরান—১৬১ থেকে ১৬৫ আয়াত।]
  ১৬১) নবী অন্যায়ভাবে কোন বস্তু গোপন করবে, এটা অসম্ভব! এবং যে অন্যায়ভাবে কিছু গোপন করবে, সে যা অন্যায়ভাবে গোপন করেছিল কিয়ামতের দিন তা নিয়ে সে উপস্থিত হবে। অতঃপর (সেদিন) প্রত্যেকেকে সে যা অর্জন করেছে তা পূর্ণ মাত্রায় দেয়া হবে। তাদের প্রতি কোন জুলুম করা হবে না।  
     মর্মার্থঃ—সত্যকে গোপন করে অন্যায়ভাবে বেশীদিন রাখা যায় না মিথ্যার আবরণে ঢেকে। সত্যকে চাপা দিয়ে রাখতে গেলে মানুষকে মিথ্যার আশ্রয় গ্রহণ করতেই হয়। অন্যায়ভাবে গোপনে যারা কোন বস্তু নিজের কাছে রাখে তাদের অন্তরে সেই গোপন বস্তুর কথা মুছে যায় না কিয়ামতের দিন পর্যন্ত, তাদের মনে আল্লাহ্‌র পবিত্র রূপ ফুটে না উঠে, সদায় সেই গোপন বস্তুর রূপ ফুটে উঠে। তাই এই জগতে যে যা উপার্জন করবে, সে তাই পাবে পরলোকে পূর্ণ মাত্রায়, এখানে কারো প্রতি কোন জুলুম করা হয় না।
     ১৬২) আল্লাহ্‌ যাতে সন্তুষ্ট, যে তারই অনুসরণ করে সে কি ওর মত, যে আল্লাহ্‌র ক্রোধের পাত্র হয়েছে এবং জাহান্নামই যার বাসস্থান? এবং সেটা নিকৃষ্ট আশ্রয়স্থল।
     মর্মার্থঃ—এখানে সকলেই আসে কাজ করে জ্ঞান লাভ করার জন্য। যারা কেবল আল্লাহ্‌কে সন্তুষ্ট করার জন্য, তাঁকেই অনুসরণ করে কাজ করে, তারা তো নিজের আবাসস্থল জান্নাত নিজের প্রতিপালকের সাথে থাকার জন্য আগে-ভাগেই নির্মাণ করে নেয়। আর যারা নিজের প্রতিপালককে অনুসরণ না করে নিজের স্বভাব বশে কাজ করে, তারা এখানেই জাহান্নাম তৈরী করে নেই, নিজের প্রতিপালককে বাদ দিয়ে। ফলে তারা অভিভাবকহীন আশ্রয়ের দিকে এগিয়ে যায় এবং নিজের তৈরি নিকৃষ্ট আশ্রয়স্থল জাহান্নামেই চিরকাল থাকে।
     ১৬৩) আল্লাহ্‌র নিকট তারা বিভিন্ন স্তরের; তারা যা করে আল্লাহ্‌ তার দ্রষ্টা।
     মর্মার্থঃ—আল্লাহ্‌র বিশালত্ব মাপার সাধ্য মানুষ কেন বড় বড় ফিরিশতাদেরও নেই। এখন যে যেমন জ্ঞানের মাত্রা অনুসারে তাঁকে দেখবে, সে তেমন স্তরের কর্মী হয়ে আল্লাহ্‌র আশ্রয়ে থাকবে। পৃথিবী ও আকাশে যে যা করে সব কিছুর দ্রষ্টা তিনি, তাই আত্মার উন্নতি বা অবনতি ঘটাতে তাঁর সময় লাগে না।
      ১৬৪) আল্লাহ্‌ অবশ্যই বিশ্বাসীদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন; তাদের নিজেদের মধ্য হতে রসূল প্রেরণ করে। সে (নবী) তার আয়াতগুলো তাদের নিকট আবৃত্তি করে, তাদের পরিশোধন করে এবং কিতাব ও প্রজ্ঞা শিক্ষা দেয়, যদিও তারা পূর্বে স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে ছিল।
    মর্মার্থঃ—মানুষ সত্যজ্ঞান না পাওয়া পর্যন্ত অন্ধকারে বিভ্রান্তির মধ্যে থাকে। তারপর আল্লাহ্‌র কৃপা লাভ করলে, সত্যজ্ঞানের আলোর বর্তিকা হয়ে মানুষের রূপেই আল্লাহ্‌ প্রেরিত কোন রসূল আসেন তার জীবনকে পবিত্র ধারার সাথে যুক্ত করে দেওয়ার জন্য। তিনি আল্লাহ্‌র অবতীর্ণ হওয়া বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থের মাধ্যমে তার অন্তর আলোকিত করেন।
       ১৬৫) যখন তোমাদের উপর বিপদ ( ওহুদের জিহাদের সময়) এসেছিল, যার দ্বীন বিপদ ( বদরের জিহাদে) তোমরা ঘটিয়েছিলে, তখন তোমরা বলেছিলে, এ কোথা থেকে এল? ( হে মোহাম্মদ) এ তোমাদের নিজেদেরই কাছ থেকে।  নিশ্চয়, আল্লাহ্‌ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।
    মর্মার্থঃ—যখন ঘর অন্ধকার হয়ে যায় তখনি মানুষের ঘরে বিপদ প্রবেশ করার সুযোগ পায়। জ্ঞানের প্রদীপ জ্বললে সেই ঘরে অজ্ঞান বিপদকে ডেকে নিয়ে প্রবেশ করতে সক্ষম হয় না। মানুষ বুদ্ধিমান জীব হয়েও নিজের সৎ বুদ্ধি বিক্রয় করে এবং শয়তানের কাছে শয়তানী বুদ্ধি ক্রয় করে সুখের আশায়। এই সুখের আশা করতে গিয়েই তারা নিজের বিপদ নিজেই ডেকে আনে এবং জেহাদে অর্থাৎ ধর্মযুদ্ধে পরাজিত হয়। আল্লাহ্‌ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান হয়ে মানুষের সাথেই থাকেন ন্যায়- অন্যায়ের সাক্ষীরূপে।
  জয় বিশ্বমানব শিক্ষা ও পবিত্র কুরআনের আলোর জয়।   

No comments:

Post a Comment