বিশ্বমানব শিক্ষায় পবিত্র কুরআনের আলো। [
সুরা—৪ নিসা—৬১ থেকে ৬৫ আয়াত।]
৬১) তাদের যখন বলা হয়, আল্লাহ্ যা
অবতীর্ণ করেছেন তার দিকে এবং রসূলের দিকে এস, তখন তুমি মুনাফিকদেরকে ( কপটদের)
তোমার নিকট থেকে মুখ একেবারে ফিরিয়ে নিতে দেখবে।
মর্মার্থঃ—যাদের অন্তরে সদায় কুবুদ্ধি কাজ করে তারা কিছুতেই মানুষকে সৎ ও
কল্যাণের পথে নিজে যেমন ডাক দিবে না, তেমনি তারা অন্যকেও সেই পথে যেতে বাধা দিবে
কুবুদ্ধির আশ্রয় নিয়ে বিভিন্ন চাটু কথা বলে। এই কপট লোকদের সান্নিধ্যে যারা থাকে
তারাও আল্লাহ্র বাক্যকে বিশ্বাস করে না, এমন কি আল্লাহ্র আলোর বর্তিকা স্বরূপ
তাঁর রসূলদেরকেও বিশ্বাস করে না। এরা কখনই সত্যমুখী হয়ে চলে না, সত্যের বিপরীত
দিকেই এদের সদা মুখ থাকে।
৬২) সুতরাং তাদের কৃতকর্মের জন্য
যখন তাদের উপর কোন বিপদ এসে পড়বে তখন তাদের কী অবস্থা হবে? অতঃপর তারা তোমার নিকট
আল্লাহ্র শপথ করে বলবে, আমরা কল্যাণ এবং সম্প্রীতি ব্যতীত অন্য কিছুই চাইনি।
মর্মার্থঃ—এই কপট লোকদের জীবনে যখন নিজেদের কর্মদোষে বিপদ এসে পড়বে তখন
এদের কি দশা হয়? তখনও তাদেরকে মিথ্যার আশ্রয় নিতে দেখা যায়। এরা মিথ্যা আল্লাহ্র
শপথ গ্রহণ করে এবং বলে আমরা তো কল্যাণ এবং সম্প্রীতি ব্যতীত অন্য কিছুই চাইনি,
তাসত্ত্বেও কেন আল্লাহ্ আমাদের এই বিপদের মধ্যে ফেললেন?
৬৩) এরাই তো তারা যাদের অন্তরে কী আছে আল্লাহ্ তা জানেন। সুতরাং তুমি
তাদের উপেক্ষা কর, তাদের সদুপদেশ দাও এবং তাদের এমন কথা বল, যার মর্ম উপলব্ধি করতে
পারে।
মর্মার্থঃ—এই কপট লোকদের আল্লাহ্ ভালভাবেই চিনেন ও জানেন। সুতরাং তারা এই
সৎ কর্মানুষ্ঠানে আসবে ও যাবে। তাদেরকে উপেক্ষা করেই চলবে এবং তাদের সামনে সত্যকে
তুলে ধরবে সহজ সরল ভাবে, যাতে সেই সব সত্যকে তারা উপলব্ধি করতে পারে এবং তাদের
অন্তরে সত্যের চাবুকের আঘাত লাগে।
৬৪) রসূল এই উদ্দেশ্যে প্রেরণ
করেছি যে, আল্লাহ্র নির্দেশ অনুসারে তার অনুসরণ করা হবে যখন তারা নিজেদের প্রতি
জুলুম করে, তখন যদি তারা তোমার নিকট আসত ও আল্লাহ্র ক্ষমা প্রার্থনা করত এবং
রসূলও তাদের জন্য ক্ষমা চাইত, তবে নিশ্চয়ই তারা আল্লাহ্কে ক্ষমাশীল ও পরম
দয়ালুরূপে পেত।
মর্মার্থঃ-- আল্লাহ্কে ক্ষমাশীল ও
পরম দয়ালুরূপে পেতে গেলে মানুষকে নিজের প্রতি জুলুম করা ত্যাগ করতে হবে ও সদায়
অন্তরের কপটতা থেকে মুক্ত নিজেকে মুক্ত রাখতে হবে। আল্লাহ্ একের পর এক তাঁর আলোক
বর্তিকা স্বরূপ রসূল প্রেরণ করতেই থাকেন মানুষকে তার চৌদ্দপুরুষ সহ পবিত্র করে
মুক্ত করে তুলে নেওয়ার জন্য।
৬৫) কিন্তু না, তোমার প্রতিপালকের শপথ! তারা বিশ্বাস করবে না যতক্ষণ
পর্যন্ত তারা তাদের নিজেদের বিবাদ বিসম্বাদের বিচার ভার তোমার উপর অর্পণ না করে,
অতঃপর তোমার সিদ্ধান্ত সম্বন্ধে তাদের মনে কোন দ্বিধা না থাকে এবং সর্বান্তঃকরণে
তা মেনে নেয়।
মর্মার্থঃ—মানুষের নিজস্ব জ্ঞান-বুদ্ধির জাগরণ না ঘটলে অন্তরের বিবাদ
বিসম্বাদ বা কলহ দূর হয় না। আর অন্তরের কলহ দূর না হলে সে কাউকে বিশ্বাস করতেও
পারে না। নিজেকে আল্লাহ্র নিকট আত্মসমর্পণ, আত্মনিবেদনের মাধ্যমে যখন কেউ রসূল বা
আত্মজ্ঞানী লোকের সান্নিধ্যে আসে তখনি প্রকৃত সত্যজ্ঞান সে লাভ করতে থাকে আকারে
ইঙ্গিতে।
জয় বিশ্বমানব শিক্ষা ও পবিত্র কুরআনের আলোর জয়।

No comments:
Post a Comment