Thursday, 2 August 2018

কুরআন সুরা--৩ আলে-- ইমরান-- ১২৬ থেকে ১৩০ আয়াত

   বিশ্বমানব শিক্ষায় পবিত্র কুরআনের আলো। [ সুরা—৩ আলে- ইমরান—১২৬ থেকে ১৩০ আয়াত।]
  ১২৬) আর এটা তো আল্লাহ্‌ তোমাদের জন্য সুসংবাদ করেছেন, যাতে তোমাদের মন শান্ত থাকে এবং সাহায্য শুধু পরাক্রান্ত, প্রজ্ঞাময় আল্লাহ্‌র নিকট থেকেই হয়।
      ভাবার্থঃ—হাজার হাজার ফিরিশতা তোমাদেরকে সাহায্য করার জন্য প্রস্তুত আছেন, যদি তোমরা তাঁদের দেওয়া সাহায্যকে জনকল্যাণে নিয়োজিত করার বলয় প্রস্তুত করতে পারো। তোমাদের মনকে শান্ত করে চিত্তকে স্থির করে অন্তঃকরণ পবিত্র কর, আল্লাহ্‌ পরাক্রান্ত, প্রজ্ঞাময় তাঁর সাহায্য পবিত্র ক্ষেত্র ছাড়া অন্য কোথাও বর্ষিত হয় না। আল্লাহ্‌ তোমাদেরকে জিহাদে অংশ গ্রহণ করার সুসংবাদ দিয়েছেন যাতে তোমাদের বিশাল অন্তঃকরণ ( ক্ষেত্র) সদায় পবিত্র বা উর্বরা থাকে তাঁর প্রেরিত সাহায্য গ্রহণের জন্য।
     ১২৭) এই জন্য যে, তিনি অবিশ্বাসীদের এক অংশকে নিশ্চিহ্ন অথবা লাঞ্ছিত করবেন; তখন তারা নিরাশ হয়ে ফিরে যাবে।
      ভাবার্থঃ—অবিশ্বাসীদের হৃদয় এতই সঙ্কীর্ণ যে আল্লাহ্‌র কৃপা বর্ষিত হলেও  সেখানে তা প্রবেশের কোন ফাঁকফোকর থাকে না। তাই তারা ফিরিশতাদের দ্বারা প্রেরিত মহামূল্যবান সম্পদকেও অবজ্ঞা করে এবং নিজেরাই নিজেদেরকে লাঞ্ছিত করার পথ খুলে দেয়। এরা আল্লাহ্‌র আলো এলেই নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়, যেমন অন্ধকারের আয়ু ততক্ষণ থাকে যতক্ষণ সেখানে আলো প্রবেশ করে না। তাই এদেরকে তো নিরাশ হয়ে এই জ্ঞানপীঠ থেকে ফিরে যেতেই হবে।
     ১২৮) এ বিষয়ে তোমার করণীয় কিছুই নেই, তিনি( আল্লাহ্‌) তাদের প্রতি ক্ষমা করবেন অথবা তাদের শাস্তি দেবেন, কারণ তারা অত্যাচারী।
         ভাবার্থঃ—অত্যাচারী সম্প্রদায়ের মননশক্তি, চিন্তাশক্তি, কল্পনাশক্তি ও বিচার শক্তি বড়ই বিষাক্ত, এরা মিথ্যার উপর ভিত্তি করে জীবন গড়তে গিয়ে অবাধ্য জাতিতে পরিণত হয়। এখানে কারো কিছুই করণীয় থাকে না, কেউ যদি নিজের ভাল নিজে বুঝতে না পারে, তাহলে তার জীবনে কারো উপদেশ কোন কাজে লাগে না। এসব লোকের বিচার একমাত্র আল্লাহ্‌ করবেন, তিনি তাদের প্রতি ক্ষমাশীল হতেও পারেন, আবার শাস্তি দিতেও পারেন।
      ১২৯) এবং আকাশে ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সমস্তই আল্লাহ্‌র। তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন এবং যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেন। আল্লাহ্‌ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
     ভাবার্থঃ—আকাশে ও পৃথিবীতে যা কিছু দৃশ্য ও অদৃশ্য শক্তি আছে সবই আল্লাহ্‌র, তাই সকলেই নিজ নিজ স্বভাব অনুসারে তাঁর প্রতিনিধিত্ব করছে। মানুষও এই পৃথিবিীতে তাঁরই প্রতিনিধিত্ব করে চলেছে জ্ঞানে বা অজ্ঞানে। যারা জ্ঞানে তাঁর প্রতিনিধিত্ব করে তারা তাঁকে নিজ সন্তানের মতোই চেনে জানে, তাই তাদের দ্বারা কোন অন্যায় কাজ হয় না। আর যারা অজ্ঞানে নিজের স্বভাব গুণে প্রতিনিধিত্ব করে, তারা নিজেদের স্বভাব দোষে ক্ষমার অধিকারী হবে না শাস্তির যোগ্য হবে তা তিনিই জানেন।  তিনি তো ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু সবার প্রতি, তাই কার প্রতি কখন কিভাবে তাঁর শাস্তি অথবা করুণা বর্ষিত হয় তা অন্য কেউ টের পায় না।
     ১৩০) হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা ক্রমবর্ধমান হারে ( দ্বিগুণ চতুর্গুণ বা চক্রবৃদ্ধি হারে) সুদ খেয়ো না এবং আল্লাহ্‌কে ভয় কর তবেই তোমরা সফলকাম হতে পারবে।
     ভাবার্থঃ—মানুষ নিজের কামনা-বাসনা, লোভ, ক্রোধ নিয়ন্ত্রণ না করে তাদের গতিকে যত বৃদ্ধি করতে থাকবে, ততই তাদেরকে সুদ খাওয়ার জীবনের ভার বহন করতে হবে। কাম- ক্রোধ- লোভ- মোহের পিছনে যত মানুষ ছুটবে ততই তাদের রাস্তা দিন দিন ক্রমবর্ধমান হারে বৃদ্ধি হতে থাকবে, চক্রবৃদ্ধি হারে সুদের ন্যায়। তাই এই পথ থেকে সরে এসে আল্লাহ্‌কে ভয় করে তাঁর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রেখে মানুষের উচিত নিজের স্বভাব বা ধর্মের পরিবর্তন করার অভ্যাস করা। মানুষ যত জ্ঞানের দ্বারা কামনা- বাসনা, লোভ, ক্রোধ ও মোহকে ছেদন করতে পারবে, ততই সে নিজের অন্তর্জগৎ ও বহির্জগৎ এর আবর্জনা থেকে মুক্ত হয়ে নিজের পবিত্র ভাবে স্থির থাকতে পারবে।
    জয় বিশ্বমানব শিক্ষা ও পবিত্র কুরআনের আলোর জয়।

No comments:

Post a Comment