Tuesday, 14 August 2018

কুরআন সুরা--৪ নিসা- ৪৬ থেকে ৫০ আয়াত

    বিশ্বমানব শিক্ষায় পবিত্র কুরআনের আলো। [ সুরা—৪ নিসা—৪৬ থেকে ৫০ আয়াত।]
    ৪৬) ইহুদীদের কিছু লোক কথাগুলি বিকৃত করে এবং বলে, আমরা শুনলাম ও অমান্য করলাম এবং শোন না শোনার মত, আর নিজেদের জিহ্বা কুঞ্চিত করে এবং ধর্মের প্রতি তাচ্ছিল্য করে বলে, ‘রায়েনা’। কিন্তু তারা যদি বলত, ‘শুনলাম ও মান্য করলাম’ এবং শোন ও আমাদের প্রতি লক্ষ্য কর’ তবে তা তাদের জন্য ভাল ও সংগত হত। কিন্তু তাদের অবিশ্বাসের জন্য আল্লাহ্‌ তাদের অভিসম্পাত করেছেন। অতএব, তাদের অল্পসংখ্যক লোকই বিশ্বাস করে।
     মর্মার্থঃ—এখানে মানব জাতিকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য এই আয়াত অবতীর্ণ হয়। অবশ্যই মানুষকে ভালো ভালো কথাগুলি মন দিয়ে শোনা উচিত, তারপর সেই কথাগুলি অন্তরে ধরে রেখে মনন করা ও তার সত্য উপলব্ধি করা উচিত। সত্য উপলব্ধি করার পর সেই কথাগুলি নিজের বন্ধু ও প্রতিবেশীকে বলে তাদেরকেও ভালো পথে ও সৎ পথে চলার জন্যে আহ্বান করা উচিত। যারা অজ্ঞ তারা কখনো উপদেশকে মান্য করে সৎ বলয় তৈরী করে না, তাই তারা চিরকাল নিজের আল্লাহ্‌র কাছে অভিসম্পাতের পাত্র হয়েই থেকে যায়। এখানে ইহুদী জাতিকে উপমা স্বরূপ আনা হলেও বিশ্ববাসীর এক শ্রেণির মানুষের অজ্ঞতার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।
        ৪৭) যাদের কিতাব দেয়া হয়েছে, তোমরা তোমাদের নিকট যা আছে তার সমর্থকরূপে আমি যা অবতীর্ণ করেছি তাতে বিশ্বাস স্থাপন কর, তোমাদেরকে এমনভাবে পথভ্রষ্ট করার পূর্বে যখন তোমরা আর কখনও বিশ্বাস করবে না, শনিবার অমান্যকারীদের যেরূপ অভিসম্পাত করেছিলাম সেরূপ তোমাদের অভিসম্পাত করার পূর্বে। বস্তুত আল্লাহ্‌র আদেশ কার্যকর হয়েই থাকে।
        মর্মার্থঃ---কেউ অন্ধকার জগতে নিয়ে যাবার আগেই তোমরা নিজের অন্তরের জ্ঞানের প্রতি বিশ্বাস ও সেই সাথে অবতীর্ণ কিতাবের প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস স্থাপন কর, তাহলে আর তোমাদেরকে চাকচিক্যময় জগত আকর্ষণ করতে পারবে না। যদি একবার অন্তরে চাকচিক্যময় জগতের লোভ প্রবেশ করে তবে তোমরাও আধ্যাত্মিক জগতে প্রবেশের ছাড়পত্র পাবার পথ পরিত্যাগ করে আল্লাহ্‌র অভিশাপের পথ ধরতে বাধ্য হবে। সপ্তাহে একদিন বিশ্রাম দিবসের কথা ভুলে গিয়ে সেদিনও কামনা- বাসনার পিছনে ছুটবে অর্থাৎ আল্লাহ্‌র শরিক তৈরী করে তার পিছনে ছুটবে।
       ৪৮) নিশ্চয় আল্লাহ্‌ তাঁর শরিক করার অপরাধ ক্ষমা করেন না। এ ছাড়া অন্যান্য অপরাধ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন, এবং যে কেউ আল্লাহ্‌র শরিক করে সে এক মহাপাপ করে।
    মর্মার্থঃ—এই জগতের সম্পদের যারা ইবাদত করে তারাই আল্লাহ্‌র বিরুদ্ধে শরিক স্থাপন করেএই শরিক করার অপরাধ তিনি ক্ষমা করেন না। মানুষের সব থেকে বড় মহাপাপ কামনা- বাসনার পিছনে ছূটে অন্তরে সেই মূর্তি তৈরি করে তার ইবাদত করা। এই করতেই গিয়েই মানুষের স্মৃতিশক্তির লোপ হয় ও সত্যভ্রষ্ট হয়ে বিনাশপ্রাপ্ত হয়।
      ৪৯) তুমি কি দেখনি, যারা নিজেদের পবিত্র মনে করে? বরং আল্লাহ্‌ যাকে ইচ্ছা পবিত্র করেন। এবং তাদের উপর সামান্য পরিমানেও জুলুম করা হবে না।
     মর্মার্থঃ--- অনেকেই নিজেদেরকে আল্লাহ্‌র বান্দা মনে করে তাঁর ইবাদত করে কিন্তু মনে মনে তারা কেবল জাগতিক সম্পদের কথায় চিন্তা করতে থাকে এবং আল্লাহ্‌র বিরুদ্ধে শরিক স্থাপন করে ঘর ভর্তি করতে থাকে, এরা কোন দিক থেকেই পবিত্র নয়। আল্লাহ ভালভাবেই জানেন কে পবিত্র আর কে অপবিত্র, তাই তিনি যাকে ইচ্ছা পবিত্র করেন। তিনি কারো প্রতি সামান্য পরিমানেও জুলুম করেন না।
      ৫০) দেখ! তারা আল্লাহ্‌ সম্বন্ধে কিরূপ মিথ্যা( গল্প) উদ্ভাবন করে, এবং প্রকাশ্য পাপ হিসাবে এটিই যথেষ্ট।
     মর্মার্থঃ—সত্যকে না জেনে অজ্ঞরা আল্লাহ্‌ সম্বন্ধে অনেক কথায় প্রচার করে। যদি তারা না জানে তবে জানার চেষ্টা করা উচিত কিন্তু মিথ্যা কথা বলা নিজের স্রষ্টা সম্পর্কে, এতো প্রকাশ্য পাপ করা।
    জয় বিশ্বমানব শিক্ষা ও পবিত্র কুরআনের আলোর জয়।

No comments:

Post a Comment