বিশ্বমানব শিক্ষায় পবিত্র কুরআনের আলো। [
সুরা—৪ নিসা—৩৬ থেকে ৪০ আয়াত।]
৩৬) তোমরা আল্লাহ্র ইবাদত করবে ও কোন কিছুকে তাঁর শরিক করবে না, এবং পিতা,
মাতা, আত্মীয়- স্বজন, পিতৃহীন, অভাবগ্রস্ত, নিকট প্রতিবেশী, সঙ্গী- সাথী, পথচারী
এবং তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসদাসীদের প্রতি সদ্ব্যবহার করবে। নিশ্চয় আল্লাহ্
আত্মম্ভরা ও দাম্ভিককে ভালবাসেন না।
মর্মার্থঃ—তোমরা তোমাদের অন্তরে জ্ঞানের প্রদীপ জ্বালানোর জন্য তোমাদের
আল্লাহ্র পূজা বা ইবাদত করবে, এই ইবাদত করতে গিয়ে মিথ্যা কামনা- বাসনার পিছনে
ছুটবে না বা আল্লাহ্র শরিক করতে যাবে না। সমস্ত অহংকার ত্যাগ করে সহজ- সরল জীবন
যাপন করবে পিতা- মাতা—আত্মীয়- স্বজন সকলকে নিয়ে আনন্দের সাথে। আল্লাহ্র ইবাদত
করবে আলোর জগতে মনকে স্থির রেখে।
৩৭) যারা কৃপণতা করে এবং মানুষকে
কৃপণতার নির্দেশ দেয় এবং আল্লাহ্ নিজ অনুগ্রহে তাদের যা দিয়েছেন তা গোপন করে
আল্লাহ্ তাদের ভালবাসেন না। আর আমি অবিশ্বাসীদের জন্য লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি
প্রস্তুত করে রেখেছি।
মর্মার্থঃ—যা সত্য তাকে সুন্দর রূপে প্রকাশ করাটায় হচ্ছে উদারতা, আর না
প্রকাশ করাটায় হচ্ছে কৃপণতা। সত্যকে যারা গোপন করে রাখে তারাই অবিশ্বাসীর ভূমিকা
পালন করে এই সংসারে, তারা এই পথে গিয়ে নিজের লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তির ব্যবস্থা নিজেই
করে।
৩৮) এবং যারা লোক দেখানোর
উদ্দেশ্যে তাদের ধনসম্পদ খরচ করে এবং আল্লাহ্ ও শেষ দিনে বিশ্বাস করে না, (
আল্লাহ্ তাদের ভালবাসেন না)। এবং শয়তান কারও সঙ্গী হলে সে সঙ্গী কত না মন্দ।
মর্মার্থঃ—শয়তান যাদের সঙ্গী হয় তারা নিজের অহংকার প্রতিষ্ঠার জন্য কর্ম
করে এবং লোক দেখানোর জন্য দান- খয়রাত করে। এরা আল্লাহ্ ও শেষদিনের প্রতি আস্থা
রাখে না, তাই এদের দান – ধ্যান এখানেই শেষ হয়ে যায়।
৩৯) তারা আল্লাহ্ ও শেষ দিনে
বিশ্বাস করলে এবং আল্লাহ্ তাদেরকে যা প্রদান করেছেন তা থেকে ( সৎ কাজে) ব্যয় করলে
তাদের কী ক্ষতি হত? আল্লাহ্ তাদেরকে ভালভাবে জানেন।
মর্মার্থঃ—ধনীদের ধন যদি মানুষ তৈরির পথে ব্যয় হতো তবে নিশ্চয় বিশ্বাসী বা
সত্যজ্ঞানী মানুষে দুনিয়া ভরে যেতো। মানুষ সত্যকে বিশ্বাস করতে চায় না, এটাই সব
থেকে মানুষের বড় দুর্বলতা, আল্লাহ্ এই সব মানুষকে ভালভাবে জানেন এবং উৎসাহ প্রদান
করে সত্যের পথে আনবেন।
৪০) নিশ্চয় আল্লাহ্ অণু পরিমাণও জুলুম করেন না, এবং অণু পরিমাণ পুণ্যকার্য
হলেও আল্লাহ্ একে দ্বিণ করেন এবং আল্লাহ্ তাঁর নিকট হতে মহাপুরষ্কার প্রদান
করেন।
মর্মার্থঃ--- যার যেমন সামর্থ সে সেইরূপ পুণ্যকার্য করলেও আল্লাহ্ তাকে
মহাপুরষ্কার প্রদান করেন। তাই মানুষের ধর্ম-ই হলো অসৎকে ত্যাগ করে সৎকে গ্রহণ করা,
অন্ধকার থেকে আলোর অভিমুখে যাত্রা করা, অন্তরের অবিশ্বাস ও অজ্ঞানকে দূরীভূত করে
অন্তরে বিশ্বাস ও সত্যজ্ঞানকে সুপ্রতিষ্ঠিত করা।
জয় বিশ্বমানব শিক্ষা ও পবিত্র কুরআনের আলোর জয়।

No comments:
Post a Comment