Wednesday, 15 August 2018

কুরআন সুরা--৪ নিসা-- ৫৬ থেকে ৬০ আয়াত

   বিশ্বমানব শিক্ষায় পবিত্র কুরআনের আলো। [ সুরা—৪ নিসা—৫৬ থেকে ৬০ আয়াত।]
    ৫৬) যারা আমার আয়াতকে অবিশ্বাস করে তাদেরকে আগুনে দগ্ধ করবই। যখনই তাদের চর্ম দগ্ধ হবে তখনই ওর স্থলে নূতন চর্ম সৃষ্টি করব, যাতে তারা শাস্তি ভোগ করে। নিশ্চয় আল্লাহ্‌ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
      মর্মার্থঃ—সবার অন্তরে আল্লাহ্‌ নিজের পূর্ণ শক্তি নিয়ে অবস্থান করেন এবং তিনি নিজের সৎ ও সত্য বাক্যের সাহায্যে সকলকেই সঠিক পথে পরিচালিত করার আয়োজন করেন। এখন মানুষ যদি তাঁকে নিজের অভিভাবক বলে না মানে এবং তাঁর বাক্যকে অবিশ্বাস করে তবে তো সে অভিভাবকহীন হয়ে আগুনে প্রবেশ করে। কেউ যদি জেনে- শুনেও আগুনের রাজত্বে প্রবেশ করে তবে তো সেই আগুনে বার বার তাকে জ্বলতেই হবে। আল্লাহ্‌ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় হয়ে তাঁর বান্দাদের উপদেশ দিয়ে সতর্ক করতে পারেন, সাহায্য চাইলে তা দিতে পারেন কিন্তু কেউ তাঁর বাক্যকে উপেক্ষা করে সীমালঙ্ঘন করলে আর তিনি তাঁর দায়িত্ব নেন না।
        ৫৭) আর যারা বিশ্বাস করে ও ভাল কাজ করে তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাব যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে, সেখানে তাদের জন্য পবিত্র সঙ্গিনী আছে এবং তাদেরকে চিরস্নিগ্ধ ছায়ায় স্থান দান করব।
       মর্মার্থঃ—যারা নিজের আল্লাহ্‌কে নিজের অভিভাবক মান্য করে, তাঁর বিধানকে মান্য করে চলে, তারা তো সদায় তাঁর আনন্দধারার স্রোতের সাথে যুক্ত থেকে চিরকাল তাঁর সাথেই থাকে। আল্লাহ্‌র আশ্রয় মানেই জান্নাত, প্রচুর পবিত্র সঙ্গী- সাথী এবং চিরমধুর চিরস্নিগ্ধ ছায়ার এক মনোরম স্থান। যেখানে দিন রাত্রি হয় না তাই সেখানে জরা- ব্যাধি- মৃত্যুরও চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যায় না।
     ৫৮) আল্লাহ্‌ তোমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন যে, আমানত তার মালিককে প্রত্যর্পণ করবে। আর যখন তোমরা মানুষের মধ্যে বিচার কার্য পরিচালনা করবে তখন ন্যায়পরায়ণতার সাথে বিচার করবে। আল্লাহ্‌ তোমাদেরকে যে উপদেশ দেন তা কত উৎকৃষ্ট। নিশ্চয় আল্লাহ্‌ সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।
       মর্মার্থঃ—সত্য, ন্যায়, নীতির উপরে বুদ্ধিকে স্থির রেখে জগত সংসারে কার্য পরিচালনা করবে, নিজের পদমর্যাদাকে রক্ষা করে। আল্লাহ্‌ মানুষকে যে উপদেশ দেন তা অতি মঙ্গলময় সবার জন্য, কারণ তিনি বিশাল হয়ে সকলের সব কথা শুনেন ও সকলের সব রকম আচরণ দেখেন, তারপর সংশোধনের সময় দিয়ে বিচার করেন।
      ৫৯) হে বিশ্বাসীগণ! যদি তোমরা আল্লাহ্‌ ও পরকালে বিশ্বাস কর তবে তোমরা আল্লাহ্‌র অনুগত হও, রসূল ও তোমাদের শাসকদের অনুগত হও, আর যদি কোন বিষয়ে তোমাদের মধ্যে মতভেদ ঘটে সে বিষয়ে আল্লাহ্‌ ও রসূলের স্মরণ নাও। এটিই ভাল এবং ব্যাখ্যায় প্রকৃষ্টতর।
      মর্মার্থঃ—পরকালে বিশ্বাস না করলে কেউ এ জগতে ভাল কাজ করার আগ্রহ পাবে না, কারণ প্রত্যেক মানুষ ভবিষ্যতের চিন্তা করেই সঞ্চয় করে। পরকালের জীবনের জন্য সঞ্চয় হচ্ছে আল্লাহ্‌ ও তাঁর বিধানকে মান্য করে সত্যের পথ ধরে সৎ কর্ম করা কেবল আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টির জন্য। যদি পথ ভুল হয় তবে তা সংশোধনের জন্য রসূলদের শরণাপন্ন হতে হবে এবং তাঁদের আশ্রয়ে গিয়ে অনুগত হয়ে জ্ঞান লাভ করতে হবে।
       ৬০) তুমি কি তাদের দেখনি, যারা দাবি করে যে, তোমার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে এবং তোমার পূর্বে যা অবতীর্ণ হয়েছে তাতে তারা বিশ্বাস করে, অথবা তারা তাগুতের কাছে বিচার প্রার্থী হতে চায়, যদিও তা প্রত্যাখ্যান করার জন্য তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এবং শয়তান তাদের ভীষণভাবে পথভ্রষ্ট করতে চায়।
    মর্মার্থঃ—যারা দ্বৈত মনোভাবাপন্ন ব্যক্তি তারা সহজে সত্যকে মেনে নিতে পারে না, তাই যেকোন সময় তারা শয়তানের খপ্পরে পড়ে পথভ্রষ্ট হয়।
   জয় বিশ্বমানব শিক্ষা ও পবিত্র কুরআনের আলোর জয়।

No comments:

Post a Comment