বিশ্বমানব শিক্ষায়
পবিত্র কুরআনের আলো।[ সুরা—৩ আলে- ইমরান—১৪১ থেকে ১৪৫ আয়াত।]
১৪১) এবং যাতে আল্লাহ্
বিশ্বাসীগণকে পরিশোধন ও অবিশ্বাসীদের নিশ্চিহ্ন করতে পারেন।
মর্মার্থঃ—অত্যাচারী
অবিশ্বাসী সম্প্রদায়কে নিশ্চিহ্ন করার জন্যই জিহাদের বিধান। মানুষের সন্ত্রাসবাদী
অত্যাচারী মনের পরিশোধন হয় জিহাদের মাধ্যমে। মনের বিস্তার সূর্যের আলোর বিস্তারের
ন্যায় চারদিকে, তাই মন চঞ্চল। সূর্যের আলোর বিস্তার যদি চারদিকে না হয়ে এক স্থানে
পড়তো তাহলে কি কোন স্থান তা সহ্য করতে পারতো? তেমনি মন যদি চঞ্চল না হয়ে এক স্থানে
স্থির হয়ে থাকতো তবে এই জগত সংসার গড়ে উঠতো না। এই বিশাল মনকে পরিশোধন করার জন্যই
জিহাদ, মানুষের এই মন যত পরিশোধন হতে থাকবে জ্ঞানের দ্বারা ততই অত্যাচারী
অবিশ্বাসী সম্প্রদায় নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে পৃথিবীর মাটি থেকে।
১৪২) তোমরা কি মনে কর
যে, তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে, যতক্ষণ না আল্লাহ্ তোমাদের মধ্যে কে জেহাদ করেছে
এবং কে ধৈর্যশীল না জানছেন?
মর্মার্থঃ—জান্নাত বা
স্বর্গ এমনি এক পবিত্র স্থান, সেখানে কেউ সামান্য আবর্জনা ও মনের সংকীর্ণতা নিয়ে
প্রবেশ করতে পারবে না। তাই কে সত্যকার জিহাদে অংশগ্রহণ করে ধৈর্যশীল হয়ে পবিত্র
জীবন নিয়ে সেখানে যাবার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে আল্লাহ্র জন্য, তা তিনি
ভালভাবেই জানেন। পার্থিব জগতের আবর্জনার বোঝা মাথায় নিয়ে কে জান্নাতে প্রবেশ করবে?
এই জগতের আবর্জনার বোঝা থেকে মুক্ত হবার জন্যেই জেহাদের বিধান, এই সত্য জেনে যারা
সব ধর্ম ত্যাগ করে আল্লাহ্র নিকট আত্মসমর্পণ করে ধৈর্যশীল হয়ে কেবল তাঁর অপেক্ষায়
আছেন, তিনি নিশ্চয় তাদের চিনেন ও জানেন।
১৪৩) নিশ্চয় তোমরা মৃত্যুর সম্মুখীন হবার পূর্বে
তা কামনা করতে, এখন তো তা চোখে দেখছো।
মর্মার্থঃ—যারা নিজ
ঈশ্বরের নিকট আত্মসমর্পণকারী তারা সদায় তাঁর সাথে জান্নাতেই বাস করেন, তাদের কাছে
পৃথিবী –পাতাল- জাহান্নামও জান্নাত হয়ে থাকে আল্লাহ্র আলোতে। তাই যারা মৃত্যুর
সম্মুখীন হবার পূর্বে জান্নাত কামনা করত, তারা এখন জেহাদের বিধানের কৃপায় এখানে তা
চোখে দেখছে ও সেখানকার সুখ ভোগ করছে দেহাতীত, ত্রিগুণাতীত ও ত্রিকালাতীত হয়ে
আল্লাহ্র সান্নিধ্যে থেকে।
১৪৪) মোহাম্মদ রসূল ব্যতীত কিছু নন, তার পূর্বে
বহু রসূল গত হয়ে গেছে। সুতরাং সে যদি মারা যায় অথবা সে নিহত হয় তবে কি তোমরা পৃষ্ঠ
প্রদর্শন করবে? এবং যে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে সে কখনও আল্লাহ্র কিছু ক্ষতি করতে পারে
না। আল্লাহ্ শীঘ্রই কৃতজ্ঞ ব্যক্তিদের পুরষ্কৃত করবেন।
মর্মার্থঃ-- মোহাম্মদ আল্লাহ্র আলোর বর্তিকা, রসূল ব্যতীত
কিছু নন, তার পূর্বেও অনেক রসূল এসেছেন আল্লাহ্র আলোর বর্তিকা হয়ে। রসূল দেহত্যাগ
করতে পারেন অথবা নিহত হতেই পারেন কিন্তু তার হাতের আলোর বর্তিকা নিভবে না, তা
জ্বলতে থাকবেই মানুষকে সত্য ও আলোর পথে নিয়ে যাবার জন্য। তোমরা কি কারও মৃত্যু হলে
নিজের জেহাদের পথ থেকে সরে দাঁড়াবে? যদি তোমরা পিছন দিকে সরেও যাও তবে আল্লাহ্র
কিছু ক্ষতি করতে পারবে না, যে ক্ষতি করবে তা হচ্ছে নিজের পবিত্র জীবনের ক্ষতি। তোমরা
আল্লাহ্কে ত্যাগ করলেও তিনি কাউকে ত্যাগ করেন না, তিনি শাস্তি ও পুরষ্কারের
মাধ্যমেই সকলকে একদিন আপন করে নিজের ঘরে তূলে নিবেন। আল্লাহ্ শীঘ্রই কৃতজ্ঞ
ব্যক্তিদের পুরস্কৃত করবেন উৎসাহ প্রদানের জন্য।
১৪৫) এবং আল্লাহ্র
অনুমতি ছাড়া কারও মৃত্যু হবে না, কেননা মৃত্যুর মিয়াদ অবধারিত। আর যে কেউ পার্থিব
পুরষ্কার চাবে আমি তাকে তার কিছু দেব এবং যে কেউ পারলৌকিক পুরষ্কার চাবে আমি তাকে
তার কিছু দেব এবং শীঘ্রই কৃতজ্ঞদের পুরষ্কৃত করব।
মর্মার্থঃ—জন্ম- মৃত্যু
যাকিছু সবই তাঁর মায়া, তাঁর নির্দেশেই এরা ছুটে চলে দিকে দিকে। কেউ ইচ্ছা করলেই
যেমন কোন পরিবারে জন্ম নিতে পারে না, তেমনি কেউ ইচ্ছা করলেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে
পারে না। মিয়াদ উত্তীর্ণ করেই এই পার্থিব দেহ ত্যাগ করতে হয় সকলকে। যে যেমন ভাবে নিজের
প্রতিপালককে চাইবে ঠিক তেমন ভাবেই সে তাঁকে পাবে। কেউ পার্থিব জগতের সুখ কামনা করে
তাঁকে চায়, সে সেই সাধনায় সিদ্ধি লাভ করে। কেউ পারলৌকিক জীবনের উন্নতি কামনা করে,
সেই কামনাও তিনি পূর্ণ করেন। আর যারা কেবল তাঁকেই আপন করে কামনা করেন তারাই সফলকাম
ও কৃতজ্ঞ পুরুষ। তাঁদের জন্য রয়েছে অফুরন্ত পুরষ্কার কিন্তু তাঁদের দৃষ্টি সেদিকে
থাকে না, তাঁদের দৃষ্টি কেবল নিজের প্রতিপালকের প্রতি।
জয় বিশ্বমানব শিক্ষা ও
পবিত্র কুরআনের জয়।

No comments:
Post a Comment