বিশ্বমানব শিক্ষায়
পবিত্র কুরআনের আলো। [ সুরা—৩ আলে- ইমরান—১৬৬ থেকে ১৭০ আয়াত।]
১৬৬) যেদিন দু দল পরস্পরের
সম্মুখীন হয়েছিল, সেদিন তোমাদের যে বিপর্যয় ঘটেছিল তা আল্লাহ্র অনুমতিক্রমেই
ঘটেছিল। যাতে তিনি বিশ্বাসীগণকে ( ভালরূপে) জানতে পারেন।
মর্মার্থঃ—এক দল সৎ
পন্থী, অপর দল অসৎ পন্থী হয়ে চিরকাল রয়েছে এই পৃথিবীর বুকে। সৎ পন্থীদের সংখ্যা
চিরকাল নগণ্য আর অসৎ পন্থীদের সংখ্যা বিশাল। কিন্তু এই বিশাল সংখ্যক সৈন্য বাহিনী
দেখেও সৎ পন্থীর লোকেরা নিজেদের অন্তরের বিশ্বাস হারায় না। দু দলের লোক প্রকৃতির
নিয়মেই পরস্পরের সম্মুখীন হয়, এই সময়েই আল্লাহ্ বিশ্বাসীগণকে জানতে পারেন এবং
তাদেরকে চিহ্নিত করেন।
১৬৭)
এবং স্বার্থপরদের (ভালরূপে) জানতে পারেন। এবং তাদের বলা হয়েছিল, এস, তোমরা আল্লাহ্র
পথে জিহাদ কর অথবা প্রতিরক্ষা কর। তারা বলেছিল, যদি জিহাদ জানতাম তবে নিশ্চিতভাবে
তোমাদের অনুসরণ করতাম। সেদিন তারা বিশ্বাস অপেক্ষা অবিশ্বাসের নিকটতর ছিল। যা তাদের
অন্তরে নেই তা তারা মুখে বলে, তারা যা গোপন রাখে আল্লাহ্ তা বিশেষভাবে অবহিত।
মর্মার্থঃ—সৎ
কর্মানুষ্ঠান বা আল্লাহ্র পথে জিহাদ না করলে কেউ জানতে সক্ষম হয় না কে স্বার্থপর,
আর কে পরার্থপর, কে সৎ আর কে অসৎ, কে জ্ঞানী আর কে অজ্ঞ, কে বিশ্বাসী আর কে অবিশ্বাসী,
কে মুক্ত চিত্তের অধিকারী আর কে সংশয়ী চিত্তের মানুষ। এই সৎ কর্মানুষ্ঠানের
দ্বারাই মানুষের সত্যরূপ খুলে যায়। নিজ স্বার্থে বা বাণিজ্যিক স্বার্থে কোন
অনুষ্ঠানকে আল্লাহ্র পথে জিহাদ বলা যেতে পারে না। স্বার্থপর লোকেরা অনেক বড় বড়
কথা বলবে কিন্তু তাদের অন্তর ও মুখ এক নয়, কারণ তারা সত্যমুখী হয়ে কোনদিন সৎ
কর্মানুষ্ঠান করে নি। আল্লাহ্ এই স্বার্থপর লোকদের চিহ্নিত করে রাখেন।
১৬৮)
যারা (ঘরে) বসে তাদের ভাইদের সম্বন্ধে বলত, তারা তাদের কথা মত চললে নিহত হত না,
তাদেরকে বল, তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে নিজেদের কে মৃত্যু হতে রক্ষা কর।
মর্মার্থঃ—ঘরে বসে
কেবল নিজের স্বার্থের কথা যারা চিন্তা করে তারা বেশী বড় বড় কথা বলে নিজে অপরের
নিকট থেকে বাহবা নেওয়ার জন্য। সব মানুষকেই এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে কারণ এটা
কারো স্থায়ী বাসভূমি নয়। যারা বুদ্ধিমান তারা তাই এখানে এসে সময় নষ্ট করে না, তারা
আল্লাহ্র পথে নিজের জীবনকে উৎসর্গ করে এবং সৎ কর্মানুষ্ঠানের মাধ্যমে মানুষকে সৎ
কর্মশীল রূপে গড়ে উঠার আহ্বান জানাই। এটাই হচ্ছে তাদের জীবন সংগ্রাম বা আল্লাহ্র
পথে জিহাদ। এই জিহাদে অংশ গ্রহণ করে যে কেউ নিহত হতেই পারে বিধাতার বিধির লিখন
অনুসারে, মানব জাতিকে সত্যের পথ প্রদর্শনের নিমিত্তে। এদের সম্বন্ধে যে ভাই- দাদা-
প্রতিবেশীরা উক্তি করে তা যথার্থ নয়, কারণ কেউই নিজের মৃত্যুকে জয় করে এখানে অমর
হয়ে থাকতে পারে না। মানুষকে এখানে অমর হয়ে থাকতে হয় তার সৎ কর্মানুষ্ঠানের দ্বারা।
১৬৯) যারা আল্লাহ্র
পথে নিহত হয়েছে তাদের কখনই মৃত মনে কর না, বরং তারা তাদের প্রতিপালকের দৃষ্টিতে
জীবিত ও তারা জীবিকাপ্রাপ্ত হয়ে থাকে।
মর্মার্থঃ—যারা সৎ
কর্মানুষ্ঠান করতে গিয়ে আল্লাহ্র পথে নিহত হয়, তারা কখনই মৃত ব্যক্তিদের মত নয়। এই মৃত্যুলোকে সবায় আসে
মরার জন্য, আর সেই সব মানুষ আসে বাঁচার জন্য। তারা তাদের কর্ম গুণে এই
মৃত্যুলোক থেকে পবিত্র হয়ে চলে যায় অমরলোকে এবং সেখানে গিয়ে তারা এখানকার ন্যায়
জীবন- জীবিকা সবকিছুই লাভ করে থাকে, অতি সহজ সরল পথে। এটাই হচ্ছে আল্লাহ্র পথে
জিহাদ করার পুরষ্কার।
১৭০) আল্লাহ্ নিজ অনুগ্রহে তাদের যা দিয়েছেন
তাতে তারা আনন্দিত। এবং (জিহাদের সময়) তাদের পিছনে যারা এখনও সাথে মিলিত হয়নি
তাদের জন্য আনন্দ প্রকাশ করে এ জন্য যে, তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে
না।
মর্মার্থঃ—নিজ
প্রতিপালকের পথে যারা সংগ্রাম বা জিহাদ করে, তারা সদায় থাকে চাহিদা শূন্য অবস্থায়।
তাদের প্রতিপালক নিজ অনুগ্রহে যা দেন তাতেই তারা আনন্দ প্রকাশ করে ইহলোকে। পরলোকে
গিয়েও তাদের কোন চাহিদা থাকে না, সদা আনন্দিত অন্তরে নিজের সৎ কর্মানুষ্ঠানের গতি
বাড়াতেই থাকে আল্লাহ্র অনুগ্রহে। ইহলোকে জিহাদ করা কালে তাদের সাথে যারা ছিল,
তারাও যথাসময়ে সেই বলয়ে উপস্থিত হবে আনন্দিত অন্তরে। তাদের জন্য কোন ভয় নেই এবং
তারা কেউ দুঃখিতও হবে না।
জয় বিশ্বমানব শিক্ষা ও
পবিত্র কুরআনের আলোর জয়।

No comments:
Post a Comment