Thursday, 9 August 2018

কুরআন সুরা--৩ আলে- ইমরান -- ১৯৬ থেকে ২০০ আয়াত

বিশ্বমানব শিক্ষায় পবিত্র কুরআনের আলো। [ সুরা—৩ আলে- ইমরান—১৯৬ থেকে ২০০ আয়াত।]
      ১৯৬) যারা অবিশ্বাস করে দেশ বিদেশে অবাধ বিচরণ করে বেড়ায়, তারা যেন তোমাকে বিভ্রান্ত না করে।
      মর্মার্থঃ—অনেক ধর্মীয় নেতা দেশ- বিদেশে বিশাল প্রভাব প্রতিপত্তি নিয়ে রাজত্ব করছে এবং তারা নিজের নাম যশের জন্য বক্তব্য পেশ করে মানুষের মন জয় করে নিজের সম্প্রদায়ের লোক বৃদ্ধি করে চলেছে। এই নাম যশের জন্য কোন মঞ্চ তৈরি করার ও দেশ- বিদেশে গিয়ে মিথ্যা ফুলঝুরি ছড়ানোর ইচ্ছা যেন তোমাকে বিভ্রান্ত না করে। সূর্য উদিত হলেই জগত আলোকিত হয়ে উঠে তেমনি অন্তর আলোকিত হলেই সেই আলো জগতে আপনা থেকেই ছড়িয়ে পড়ে।
          ১৯৭) এ সামান্য ভোগ মাত্র, অতঃপর জাহান্নাম তাদের আবাস, আর তা কত নিকৃষ্ট শয্যা(আবাসস্থল)।
               মর্মার্থঃ—নাম- যশ কামানো, অর্থ- সম্পদ জমানো, অন্যের উপর প্রভাব খাটানো এসব সামান্য জাগতিক ভোগ মাত্র। তাই এগুলো ভোগ করা যাদের স্বভাব বা ধর্ম তারা তো এখানেই জাহান্নাম তৈরি করে নেই এবং সেখানে যাবার প্রস্তুতি পর্ব শেষ করেই সেখানে চলে যায়।
      ১৯৮) কিন্তু যারা তাদের প্রতিপালককে ভয় করে তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত, যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত, সেখানে তারা স্থায়ী হবে। এ আল্লাহ্‌র পক্ষ হতে আতিথ্য; আল্লাহ্‌র নিকট যা আছে তা সৎকর্মশীলদের জন্য উত্তম।
      মর্মার্থঃ—যারা নিজের অন্তর্জগৎ ও বহির্জগৎ নিয়ন্ত্রণ করে সৎকর্মশীল হয়ে এখানকার দুদিনের জীবনের জন্য কিছুই করে না, কেবল নিজের প্রতিপালকের নির্দেশ পালন করে, তারা নিজের অজানতে জান্নাত নির্মান করে ফেলে সকলের জন্য, যেখানে আনন্দধারার নদী প্রবাহিত আপন গতিতে জান্নাতের পাদদেশে। কখন আল্লাহ্‌র শিল্পীধর্মী মন এদের মনের সাথে যুক্ত হয়ে আকাশ ও পৃথিবীর বুকে সকলের মঙ্গলের জন্য অসংখ্য অতিথিশালা নির্মাণ করে থাকে তা এখানকার মানুষ জানবে কিভাবে?
       ১৯৯) নিশ্চয় গ্রন্থধারীদের মধ্যে এমন অনেকে রয়েছে যারা আল্লাহ্‌র নিকট বিনয়াবনত হয়ে তোমাদের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে এবং তাদের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তাতে বিশ্বাস করে, এবং আল্লাহ্‌র আয়াত স্বল্পমূল্যে বিক্রয় করে না; এরাই তো সেই সকল লোক যাদের জন্য আল্লাহ্‌র নিকট পুরষ্কার রয়েছে। নিশ্চয় আল্লাহ্‌ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।
                মর্মার্থঃ—এই পৃথিবীর বুকে অনেক জ্ঞানীগুণী সহজ সরল মানুষ আছে যারা আল্লাহ্‌র নিকট থেকে অবতীর্ণ হওয়া সকল ধর্মগ্রন্থের প্রতি সমানভাবেই বিশ্বাস রাখে এবং কোন ধর্মগ্রন্থের বাক্যকে অবহেলা তো করেই না, বরঞ্চ তার মূল্য নির্ধারন করার যোগ্যতা নেই বলে অবনত মস্তকে তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে। আল্লাহ্‌র আয়াত যারা স্বল্প মূল্যে বিক্রয় করে অর্থাৎ তার উপর কোন গুরুত্ব দেয় না তারা অজ্ঞ। তারা জানে না আল্লাহ্‌র নিকট থেকে পবিত্র সুর ছাড়া দ্বিতীয় কিছুই আসতে পারে না। আকাশের বৃষ্টির ধারা কুয়াসা রূপে, বরফ রূপে, জল রূপে যেভাবেই বর্ষিত হোক তা কিন্তু পবিত্র হয়েই নেমে আসে। এখন এই ধারা যেখানে পতিত হয় সেই স্থানের রূপ ধারণ করে। তেমনি আল্লাহ্‌র আয়াত যেস্থানে অবতীর্ণ হয় সেই স্থানের রূপের প্রভাবে অর্থাৎ নামে আলোকিত হয় কিন্তু কোন পার্থক্য থাকে না। এই সত্য জেনে যারা বিশ্বের সকল ধর্মগ্রন্থকে সমান বিশ্বাস করে তারাই আল্লাহ্‌র নিকট পুরস্কৃত হয়।
        ২০০) হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা ধৈর্য ধারণ কর। ধৈর্য ধারণে প্রতিযোগিতা কর এবং ( শত্রুর বিপক্ষে) সদা প্রস্তুত থাক; আর আল্লাহ্‌কে ভয় কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।
    মর্মার্থঃ—ধৈর্য ধারণে প্রতিযোগিতা না করলে কেউ শত্রু –মিত্র চিনতে সক্ষম হয় না। আকাশ ও পৃথিবীর সার্বভৌম ক্ষমতা আল্লাহ্‌র, তাঁর আশ্রয়ে যারা থাকে তাদের তো শত্রু বলে কেউ থাকতেই পারে না, অতএব শত্রুর ভয়ে ঘরে বসে থাকার প্রশ্নও থাকে না। কেবল যার আশ্রয়ে রয়েছে তাঁকে সন্তুষ্ট করতে হবে নিজের সৎ কাজের মাধ্যমে, না করতে পারলেই ভয়। তাঁর আশ্রয়ে থেকে তাঁর ঘরে যেন কোন আবর্জনা না জমে বা না আসে সেদিকে সদা প্রস্তুত থাকতে হবে, এই আবর্জনায় হচ্ছে সবথেকে বড় শত্রু বিশ্বাসীগণদের জীবনে।  
    জয় বিশ্বমানব শিক্ষা ও পবিত্র কুরআনের আলোর জয়।  

No comments:

Post a Comment