বিশ্বমানব শিক্ষায় পবিত্র
কুরআনের আলো। [ সুরা—৩ আলে—ইমরান—১৩৬ থেকে ১৪০ আয়াত।]
১৩৬) ঐ সকল লোকের পুরষ্কার
তাদের প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা এবং জান্নাত, যার নিচে নদী প্রবাহিত। সেখানে তারা
চিরকাল থাকবে। ( এবং সৎকর্মশীলদের) কতই না উত্তম পুরষ্কার।
মর্মার্থঃ---
মানুষের যতক্ষণ দেহে প্রাণ থাকে ততক্ষণ নিজের স্বভাব অনুসারে প্রকৃতির নিয়মে কাজ
করতেই হয়। আর এই কাজ করতে গিয়ে জীবনে ভুল হবেই, যারা ভুল সংশোধন করে নিজেকে
সংশোধিত পথে নিয়ে যায়, তাদের জীবনে আর ছোট- খাট ভুল ছাড়া বড় অপরাধ জনিত ভুল হয়
না। অন্তর থেকে ভুলের জন্য ক্ষমা চাওয়া ও
অন্তর থেকে ভুল বা অপরাধের জন্য ক্ষমা করা, মানুষের মহৎ গুণ। মানুষের এই ছোট ছোট
গুণ দিয়েই তৈরী হয় জান্নাত, যার নীচে দিয়ে প্রবাহিত হয় জীবনের জয়গান করতে করতে
আনন্দধারার নদী। এই মহৎ জীবন আর সেই আনন্দময় জীবন থেকে ফিরে আসে না, সেখানেই তারা
চিরকাল থেকে যায় নিজের ইচ্ছায়। মুক্ত জীবনের উত্তম পুরষ্কার এর থেকে বড় আর কি হতে
পারে?
১৩৭) অতীতে তোমাদের
পূর্বে বহু বিধান ছিল, সুতরাং তোমরা পৃথিবী ভ্রমণ কর এবং দেখ, মিথ্যাশ্রয়ীদের কী
পরিণাম!।
মর্মার্থঃ—জীবনের
সত্য বিধান হল জীবন সত্যকে আশ্রয় করে উচ্চ মনের অধিকারী হয়ে উচ্চ গতি লাভ করা। এই
উচ্চ গতি লাভ করতে গিয়ে আমরা খোঁজ করলে জানতে পারবো বহু বিধান অতীতে এসেছে মানুষের
জীবনে আবার বহু বাতিল হয়েছে, শেষে যা জীবন সত্য তাই থেকে গেছে। পৃথিবীর বিভিন্ন
প্রান্ত ভ্রমণ করে সত্যজ্ঞান লাভ কর, তাহলেই দেখতে পাবে যারা মিথ্যাকে আশ্রয় করে
জীবন অতিবাহিত করতে গিয়েছিল তাদের শেষ পরিণাম কী হয়েছিল? তাই সত্য উপাদান দিয়ে
তৈরী জীবনে মিথ্যার আশ্রয় কোনদিনই শুভপ্রদ হতে পারে না।
১৩৮) এটা মানবজাতির জন্য স্পষ্ট ব্যাখ্যা এবং
সাবধানীদের জন্য দিশারী ও উপদেশ।
ভাবার্থঃ—সত্যকে
সুন্দর রূপে প্রকাশ করার অভ্যাস করতে পারলেই মানুষের স্বভাব বা ধর্ম সুন্দর রূপে
প্রকাশিত ও বিকশিত হতে থাকে এই পৃথিবীর বুকে। মানবজাতির জন্য এই কুরআন স্পষ্ট ব্যাখ্যা
প্রদান করে থাকে প্রতিটি আয়াতে, তাই সাবধানীদের জন্য এই কিতাব দিশারী ও উপদেশ।
১৩৯) আর তোমরা হীনবল হয়ো না এবং ক্ষতিগ্রস্থ হয়ো
না, তোমরাই হবে শ্রেষ্ঠ, যদি তোমরা বিশ্বাসী হও।
ভাবার্থঃ—মানুষ হীন
মনের হলেই হীনবলের হয়ে মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়ে হীনমন্যতায় ভোগে, তারা এতই
পরশ্রীকাতর যে সামান্য অপরের মঙ্গলজনক কাজে এগিয়ে যায় না ও অপরের মঙ্গল সহ্য করতে
পারে না। এরা কিন্তু পক্ষান্তরে নিজের ক্ষতি নিজেই করে। তোমরা হীন মন ও হীনবল থেকে
মুক্ত হয়ে বেড়িয়ে আসো মুক্ত মন নিয়ে বিশ্বাসী হয়ে, তবে দেখবে তোমরাই হবে শ্রেষ্ঠ। তোমাদের
মন সূর্যের আলোর ন্যায় চারদিকে বিস্তারিত হয়ে রয়েছে, তাই অতি চঞ্চল। মন চঞ্চল
থাকায় চিত্ত সত্যতে স্থির হয়ে থাকতে পারছে না। সাবধানী হও তবেই বুদ্ধি সত্যে স্থির
হয়ে থাকবে।
১৪০) তোমাদের যদি কোন
আঘাত লেগে থাকে তবে অনুরূপ আঘাত তাদেরও তো লেগেছে। মানুষের মধ্যে এ (বিপদের) দিনগুলোর
পর্যায়ক্রমে আমি অদল বদল করে থাকি, যাতে আল্লাহ্ বিশ্বাসীগণকে জানতে পারেন এবং
তোমাদের মধ্য হতে কিছুকে সাক্ষী করে রাখতে পারেন এবং আল্লাহ্ অত্যাচারীদের পছন্দ
করেন না;।
মর্মার্থঃ—কাউকে আঘাত
করতে গেলে আঘাত খেতেই হবে। কোন মানুষের সবদিন সমান যায় না, বিপদ আসে আবার চলে যায়,
কিন্তু এই বিপদের দিনেই বিশ্বাসীদের সনাক্ত করা হয়। আল্লাহ্ অত্যাচারীদের পছন্দ
করেন না, এই বিপদের দিনেই আল্লাহ্ সনাক্ত করেন কারা অত্যাচারী ও কারা বিশ্বাসী
হয়ে রয়েছে এই পৃথিবীর মাটিতে। তাহলে মানব জাতির সদায় মনে রাখা উচিত আল্লাহ্ যে
অত্যাচারী সম্প্রদায়কে পছন্দ করেন না তাদেরকে এখানে রাখবেন না, কেবল সময়ের অপেক্ষা
মুছে যাবে তাঁর সামান্য ইঙ্গিতে।
জয় বিশ্বমানব শিক্ষা ও
পবিত্র কুরআনের আলোর জয়।

No comments:
Post a Comment