Wednesday, 15 August 2018

কুরআন সুরা-- ৪ নিসা-- ৫১ থেকে ৫৫ আয়াত

      বিশ্বমানব শিক্ষায় পবিত্র কুরআনের আলো। [ সুরা—৪ নিসা—৫১ থেকে ৫৫ আয়াত।]
      ৫১) তুমি কি তাদের দেখনি যাদেরকে কিতাবের এক অংশ দেয়া হয়েছিল, তারা জিবত ও তাগুত বিশ্বাস করে, তারা অবিশ্বাসীদের সম্বন্ধে বলে যে, এদেরই পথ বিশ্বাসীদের অপেক্ষা উৎকৃষ্টতর।
       মর্মার্থঃ--- পূর্ণ ঐশী কিতাবের আলো সকলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, কারণ এই আলো সবায় সহ্য করতে পারে না। তাই কিতাবের এক অংশ দিয়ে আগে মানুষকে পরীক্ষা করা হয়, তারপর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে দ্বিতীয় অংশ দেওয়া হয়। কিন্তু মানুষ সামান্য কিতাবের অংশ পেলেই তা নিয়ে মানুষকে যাদু দেখাতে শুরু করে আল্লাহ্‌র সীমালঙ্ঘন করে, অবৈধ উপায়ে সেই বিদ্যাকে কাজে লাগিয়ে অর্থ- সম্পদ উপার্জনের জন্য। এরা তখন বিশ্বাসীদের অপেক্ষা অবিশ্বাসীদের পথকেই শ্রেয় মনে করে পার্থিব জগতের মোহে ডুবে থেকে।
     ৫২) এরাই তো তারা যাদেরকে আল্লাহ্‌ অভিসম্পাত করেছেন এবং আল্লাহ্‌ যাকে অভিসম্পাত করেন তুমি কখনও তার কোন সাহায্যকারী পাবেনা।
        মর্মার্থঃ—আল্লাহ্‌র নিকট থেকে কিতাব ও প্রজ্ঞা লাভ করার পর তা যদি কেউ সৎ পথে ব্যয় না করে, নিজের স্বার্থে ব্যয় করে, তবে সেই কিতাব ও প্রজ্ঞা বিপরীতমূখী কাজ করতে থাকে। এদের জীবনে আল্লাহ্‌র অভিসম্পাত নেমে আসে এবং সেই সময় তাদের কোন সাহায্যকারী থাকে না।
      ৫৩) তবে কি তাদের রাজশক্তিতে কোন অংশ আছে? সে ক্ষেত্রেও তো তারা কাউকে এক কদর্পকও দেবে না।
      মর্মার্থঃ—রাজশক্তিতে যদি স্বার্থপর লোকের অনুপ্রবেশ ঘটে তবে সেই রাজশক্তি আর পবিত্র শক্তিরূপে সকলের মঙ্গলের জন্য থাকে না। যাকিছু সবই চলে যায় স্বার্থপর লোকদের হাতে। যারা সৎকর্মশীল তাদের ক্ষেত্রে তখন নেমে আসে একটা ভয়ংকর অবস্থা, এই অবস্থায় মানুষ ভাল- মন্দ, সত্য- মিথ্যার জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। তখন কে বিশ্বাসী আর কে অবিশ্বাসী তা নির্বাচন করা কঠিন হয়ে পড়ে।
       ৫৪) অথবা আল্লাহ্‌ নিজ অনুগ্রহে মানুষকে যা দিয়েছেন সেজন্য কি তারা তাদের ঈর্ষা করে? ইব্রাহীমের বংশধরকেও তো ধর্মকিতাব ও প্রজ্ঞা প্রদান করেছিলাম এবং তাদেরকে বিশাল রাজ্য দান করেছিলাম।
        মর্মার্থঃ—আল্লাহ্‌ নিজ অনুগ্রহে মানুষকে যা দিয়ে থাকেন, তাতেই তারা সন্তুষ্ট হয়ে সৎকর্মশীল হয়ে সকলের আপনজন হয়ে উঠতে সক্ষম। কিন্তু মানুষ বড়ই পরশ্রীকাতর, অপরের মঙ্গল তারা কিছুতেই সহ্য করতে পারে না। ইব্রাহীমের বংশধরকেও ধর্মকিতাব ও প্রজ্ঞা প্রদান করা হয়েছিল এবং তাদেরকে বিশাল রাজ্যও দান করা হয়েছিল। কিন্তু সেখানেও অবিশ্বাসী লোকের অনুপ্রবেশ ঘটতে থাকে এবং পরবর্তীতে হিংসা- দ্বেষ অপবিত্রতা প্রবেশ করে এবং অধর্মের অধীনে সেই রাজত্ব চলে যায়।
       ৫৫) অতঃপর তাদের কিছু লোক তাতে ( তওরাত, যাবুর, ইঞ্জিলে) বিশ্বাস করেছিল এবং কিছু তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। বস্তুত দগ্ধ করার জন্য জাহান্নামই যথেষ্ট।
    মর্মার্থঃ—তওরাত, যাবুর ও ইঞ্জিলের আশ্রয়ে কিছু লোক থাকলেও অধিকাংশ মানুষ স্বার্থপর হয়ে পড়ে এবং এসব ধর্মগ্রন্থ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। তারা এর ফলে আলো ও অন্ধকার, জান্নাত ও জাহান্নাম, সত্য ও মিথ্যা, ভালো ও মন্দ এবং আল্লাহ্‌ ও শয়তানের মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে তা ভুলে গিয়েছিল নিজেদের স্বার্থের জন্য। এদের দগ্ধ করার জন্য জাহান্নাম হা করে এগিয়ে আছে এবং সবায় গিয়ে তার মুখে প্রবেশ করছে।
     জয় বিশ্বমানব শিক্ষা ও পবিত্র কুরআনের আলোর জয়।

No comments:

Post a Comment