বিশ্বমানব শিক্ষায় পবিত্র কুরআনের আলো। [ সুরা—৪ নিসা—৩১ থেকে ৩৫ আয়াত।]
৩১) তোমাদেরকে যা নিষেধ করা হয়েছে, তার
মধ্যে যা গুরুতর তা থেকে বিরত থাকলে, তোমাদের লঘুতর পাপগুলি মোচন করব এবং
তোমাদেরকে সম্মানজনক স্থানে প্রবেশাধিকার প্রদান করব।
মর্মার্থঃ—আগুনে হাত দিতে নিষেধ
করা সত্ত্বেও কেউ যদি তাতে হাত দেয় তবে কি সে কাউকে ক্ষমা করবে? আল্লাহ্ মানব
জাতিকে যে সমস্ত উপদেশ দিয়েছেন তা আগুনের ন্যায়, একদিকে জীবনদায়ী রূপে সর্বকর্মে
উপাদেয় অপরদিকে অপব্যবহারে মারাত্মক ক্ষতিকারক। তাই যারা কুরআনে অবতীর্ণ আলো বা
আগুন নিয়ে নিজের জীবন পরিশুদ্ধ করার পথে রয়েছে তারা নিশ্চয় আল্লাহ্র কৃপা লাভ করে
সম্মানজনক স্থানে প্রবেশ করার অধিকার পাবে।
৩২) যা দিয়ে আল্লাহ্ তোমাদের কাউকে কারও উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন, তোমরা
তার লালসা করো না। পুরুষ যা অর্জন করে তা তার প্রাপ্য অংশ এবং নারী যা অর্জন করে
তা তার প্রাপ্য অংশ। আল্লাহ্র অনুগ্রহ প্রার্থনা কর, নিশ্চয় আল্লাহ্ সর্ববিষয়ে
সর্বজ্ঞ।
মর্মার্থঃ—কেউ এই পৃথিবীর বুকে ইচ্ছা করে নারী অথবা পুরুষ হয়ে জন্ম গ্রহণ
করে না। তাই কখনও একে অপরের প্রতি হিংসা করা বা শ্রেষ্ঠত্ব দানের প্রতি লালসা করা
সম্পূর্ণ অন্যায় কাজ। নারী হউক বা পুরুষ হউক নিজ নিজ জীবনের সম্পদকে কাজে লাগিয়ে নিজ নিজ জীবনকে
সুন্দর করে সবার জন্য গড়ে তোলায় হচ্ছে তাদের প্রকৃত ধর্ম। আল্লাহ্ নিশ্চয়
সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ, তিনি সকলের প্রার্থনা শ্রবণকারী, তাই কেবল তোমরা তাঁর কাছে
প্রার্থনা জানাও সবার জীবনকে তাঁরই মতো মহান ও সুন্দর করে গড়ে দেওয়ার জন্য।
৩৩) পিতা-মাতা ও আত্মীয়- স্বজনের পরিত্যক্ত সম্পত্তির প্রত্যেকটির জন্য আমি
উত্তরাধিকারী করেছি এবং যাদের সাথে তোমরা অঙ্গীকারবদ্ধ তাদের (প্রাপ্য) অংশ তাদের
দেবে। নিঃসন্দেহে আল্লাহ্ সর্ববিষয়ের দ্রষ্টা।
মর্মার্থঃ—কেউ এই পৃথিবী থেকে ফিরে যাবার সময় কোন সম্পত্তিই নিয়ে যেতে পারে
না, সবকিছুই ফেলে চলে যায়। এই সব ফেলে যাওয়া সম্পত্তির উত্তরাধিকারী সৃষ্টি করেন
আল্লাহ্ নিজে, তাই ভেবে –চিন্তে এই ফেলে যাওয়া সম্পত্তির সদ্ব্যবহার করবে এবং যার
যেটুকু প্রাপ্য অংশ তাকে তা দিয়ে সকলেই শান্তিতে বাস করবে। আল্লাহ্ সর্ববিষয়ের
দ্রষ্টা এই সত্য জেনে কেউ কাউকে ফাঁকি দেওয়ার মতো অপরাধে যুক্ত হবে না।
৩৪) পুরুষ নারীর কর্তা, কারণ আল্লাহ্ তাদের এককে অপরের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান
করেছেন, এবং এ ( শ্রেষ্ঠত্ব) এ জন্য যে, পুরুষ (তাদের জন্য) ধন ব্যয় করে। সুতরাং
সাধ্বী নারীরা পুরুষের অনুপস্থিতিতে লোক চক্ষুর অন্তরালে অনুগতা ( এবং নিজেদের)
ইজ্জত রক্ষাকারিণী। আল্লাহ্র হেফাজতে তারা তা হেফাজত করে। স্ত্রীদের মধ্যে যাদের
অবাধ্যতার আশংকা কর তাদের সদুপদেশ দাও, তারপর তাদের শয্যা বর্জন কর এবং তাদেরকে
প্রহার কর। যদি তারা তোমাদের অনুগত হয় তবে তাদের বিরুদ্ধে কোন পথ অন্বেষণ করো না।
আল্লাহ্ নিশ্চয় মহান, শ্রেষ্ঠ।
মর্মার্থঃ—নারী- পুরুষ একই পাখী বা আত্মার দুটি ডানা। একে অপরকে ছেড়ে এই
সৃষ্টিময় জগতে উভয়েই অচল। তাসত্ত্বেও এই সৃষ্টিময় জগতে পুরুষকে কর্তা করা হয়েছে
কারণ এই সৃষ্টিকে ধরে রাখার জন্য পুরুষের কাছেই ধন (বীজ) রক্ষিত থাকে। কর্তার
অবাধ্য হয়ে চললে সেই সংসারে বেনোজল প্রবেশ করে সংসার ক্ষেত্রটায় ধ্বংস করে দিতে
পারে। তাই সংসারে কর্তাকে কিভাবে সংসারের হাল ধরে রাখতে হবে, সেই নির্দেশ এই আয়াতে
অবতীর্ণ হয়েছে।
৩৫) আর যদি উভয়ের মধ্যে বিরোধ আশংকা কর, তবে তোমরা তার (স্বামীর) পরিবার
হতে একজন এবং ওর (স্ত্রীর) পরিবার হতে একজন সালিস নিযুক্ত করবে; যদি তারা উভয়ে
নিষ্পত্তি চায় তবে আল্লাহ্ তাদের মধ্যে মীমাংসার অনুকূল অবস্থা সৃষ্টি করবেন।
নিশ্চয় আল্লাহ্ সর্বজ্ঞ, সবিশেষ অবহিত।
মর্মার্থঃ--- বিপর্যয়ই মিলনের সুর। আল্লাহ্র উপর পূর্ণ বিশ্বাস রেখে যেকোন
বিপর্যয় সংসারে দেখা দিলে তা সমাধানের উদ্যোগ নিবে, তাহলেই আল্লাহ্ অভিভাবক হয়ে
অনুকূল পবিবেশ সৃষ্টি করে দিবেন।
জয় বিশ্বমানব শিক্ষা ও পবিত্র কুরআনের আলোর জয়।

No comments:
Post a Comment